পাঠক সংখ্যা

  • 7,695 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

জাপানিজ যুগলের বাংলাদেশি রীতিতে বিয়ে

হাসিনা বেগম রেখা: জন্ম এবং নাগরিক সূত্রে তারা দু’জনই জাপানিজ। শিশুকাল, বাল্যজীবন, কৈশোর পেড়িয়ে বড় হয়েছেনও জাপানে। তাদের একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। নাম আসামি হক। মা জাপানিজ হলেও বাংলাদেশি পিতা সিরাজুল হকের পারিবারিক পদবী ধারণ করে নিজ নামের সাথে ‘হক’ যুক্ত করে আসামি হক হিসেবেই নিজেকে বিকশিত করছেন।

অন্যজন হলেন, কিশিমোতো তাকুইয়া। বাবা-মা উভয়ই জাপানিজ। বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা ছিল না বললেই চলে। ইসলাম সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। যা কিছু ধারণা পেয়েছে, তা আসামির কাছ থেকেই।

অনেক বাংলাদেশি ছেলে জাপানে বিয়ে করে থাকেন। বাংলাদেশি মেয়ে জাপানিজ ছেলে বিয়ে করার সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবে একেবারেই যে নেই, তা নয়।

এইসব বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা বিবাহ উত্তর সংবর্ধনা প্রায়শই জাপানে হয়ে থাকে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী তাতে অংশ নিয়ে থাকেন।

জাপান প্রবাসীদের পরিচিত মুখ, কুমিল্লা সোসাইটি জাপান’র সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল হক এবং শিগেমি হক-এর একমাত্র কন্যা আসামি হক এর সাথে কিশিমোতো তাকাহিরো এবং কিশিমোতো মিয়োকো’র একমাত্র পুত্র কিশিমোতো তাকুইয়া’র বিবাহ সম্পন্ন হয় রবিবার চিবা কেন এর নোদা সিটি’র রেস্টুরেন্ট হানদি’তে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আসামি হক এবং কিশিমোতো তাকুইয়া (আব্দুল্লাহ)’র বিবাহ অনুষ্ঠানটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে, মুসলিম রীতিতে, বাংলাদেশি আমেজে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে।

আরো দশটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে এর আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো, নাগরিক সূত্রে উভয়ে জাপানিজ হলেও জাপানে বিয়ের আয়োজনটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশি আমেজে, মুসলিম রীতিতে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশি আমেজে পাগড়ি পড়ে নওশা সেজে ফুলেরমালা পরিবেষ্টিত গাড়িতে চড়ে ‘বর’এর আগমন, ফিতা কেটে ভেতরে প্রবেশ, আকদ সম্পন্ন করে বিয়েতে কবুল বলা, পিতা কর্তৃক বরের হাতে কন্যা তুলে দেয়া, দোয়া প্রার্থনা করা, সবকিছুতেই একটা বাঙালি পরিবেশ বিরাজ আগত জাপানিজ অতিথিরাও উপভোগ করেন।

বিয়ের অনুষ্ঠানে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে গিয়েছিলেন দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি। আপ্যায়নেও বাংলাদেশি বিয়ের আসরের রীতি বজায় ছিল।

কিশিমোতো তাকুইয়া বিবাহপূর্বে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নিয়ে “আব্দুল্লাহ” নাম গ্রহণ করেন।

মুসলিম রীতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন গাম্মো মসজিদের খতিব মাওলানা ছাবের আহম্মেদ।

ঢাকাটাইমস

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.