দেবরের কুপ্রস্তাব প্রত্যাখানে প্রবাসীর স্ত্রী খুন

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় দেবরের কুপ্রস্তাব প্রত্যাখান করায় সৌদি প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্ত্রী শারমিন বেগম (২৬) কে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেন নিহতের পরিবার।

পরে নিহতের লাশ মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেখে শ্বশুর বাড়ির লোকজনেরা পালিয়ে যায়।

নিহত শারমিন বেগমের মা হালিমা বেগম জানান, নিহত শারমিন বেগমের স্বামী আলম দেওয়ান সৌদি প্রবাসী। এ সুযোগে লম্পট দেবর সালাম দেওয়ান বিভিন্ন সময়ে শারমিন বেগমকে অবৈধ ভাবে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে পাঁচ বছরের কন্যা সন্তানের মা শারমিন বেগম দেবরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বুধবার সকালে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পাশবিক নির্যাতনসহ পাঁচ বছরের শিশু সন্তান আইভি ও শারমিন বেগমকে জোর করে বিষ পান করায়।

পরে মৃত অবস্থায় শারমিন বেগমকে হাসপাতালে ফেলে শশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। তবে কন্যা শিশু আইভি জীবিত রয়েছে বলে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার শৈবাল বসাক জানিয়েছেন।

নিহত শারমিন বেগমের মা হালিমা বেগম আরো জানান, পরিকল্পিত ভাবে তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করার পর জোড় পূর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যা করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেখে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপালে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মেয়ের পক্ষের লোকজন জানতে পেরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে এসে এসব অভিযোগ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার আড়াইটার দিকে মৃত অবস্থায় গৃহবধুর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর সাথে পাঁচ বছরের একটি মেয়ে আইভিকেও নিয়ে আসা হয়। মাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে আর মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ভাবে মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের আবির পাড়া গ্রামের দীন ইসলামের বড় মেয়ে শারমিন বেগম।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার মারিয়ল গ্রামের রাজ্জাক দেওয়ানের ছেলে আলম দেওয়ানের ছেলের সাথে বিগত ২০১১ সালে বিবাহ দেওয়া হয়।

নিহত শারমিনের খালু জহিরুল হক জানায়, বিয়ে হওয়ার পর থেকে তার শ্বশুর বাড়ি লোকজন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করত। প্রতিবাদ করলে ছোট মেয়ে আইভিকে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিত।

এখনও পর্যন্ত কন্যা সন্তান আইভির খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, শারমিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই মরদেহ রেখে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে শারমিনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা. শৈবাল বশাক জানায়, মৃত অবস্থায় একটি মেয়েকে নিয়ে আসা হয়। আর অসুস্থ অবস্থায় একটি শিশুকে আনা হয়। অসুস্থ শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে । তিনি বলেন, শিশুটিকে আইসিওতে রাখতে হবে তা না হলে বাঁচানো মুশকিল হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো. আওলাদ হোসেন জানায়, আমরা শুনেছি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা ময়না তদন্ত রির্পোট শেষে বলা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.