লৌহজংয়ে গৃহবধূ বৃষ্টি হত্যা মামলার প্রধান আসামীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন

ধার্য্য পদার্থ ব্যবহার ছাড়া ১৭ দিনে মরদেহ কঙ্কাল হতে পারেনা বলে জানিয়েছেন পুলিশ
লৌহজং ঘুরে এসে জসীম উদ্দীন দেওয়ান : গেলো মাসের ২০ তারিখ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ননাস ইয়াছমিনের মেয়ে লামিয়াকে টংগিবাড়ি উপজেলার সোনারং মাদ্রাসা থেকে আনতে যেয়ে আর ঘরে ফিরেনি। অর্থাৎ পর পুরুষের হাত ধরে চলে গেছে খাদিজা আক্তার বৃষ্টি। এমন অপবাদ দিয়ে সেই রাতে বৃষ্টির মাকে মেয়ের নিখোঁজের সংবাদ দেন বৃষ্টির শ্বাশুড়ি জয়নব বেগম।

দেড় বছর বয়সী নাতনী উম্মে আয়মানকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে, মেয়ের পরকিয়া এবং ঘর ছেড়ে বের হয়ে যাবার যুক্তি তোলে ধরে জয়নব বেগম কোন রকমের পাত্তাই দেয়নি, বৃষ্টির মা নাজমা বেগম কাঁন্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা জানান। বৃষ্টি নিখোঁজের ঘটনাটি প্রথম থেকে সাজানো ছিলো বলে মনে করে আসলেও, পর পুরুষের হাত ধরে চলে যাবার অপবাধে অনেকটা দূর্বল হয়ে পড়ে খুব বেশি অগ্রসর হতে পারেনি বলে জানালেন, বৃষ্টির বড় চাচা শেখ ওহাব। তাই পরের দিন বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনায় লৌহজং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তারা।

৭ অক্টোবর সকাল দশটার পর এলাবাবাসী দাইড় পাড়া নবু হাওলাদারের ধইনচ্যা ক্ষেতের কয়েকটি স্থানে খন্ডিত কঙ্কাল দেখে এবং সঙ্গে বৃষ্টির বোরকা ও পরিহিত চুড়ি দেখে বৃষ্টিকে শনাক্ত করা হয়। বৃষ্টির মৃত্যুর চিহৃ মিলেছে এমন সংবাদ পেয়ে বৃষ্টির মেয়েটিকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে তালা মেরে পালিয়ে যায় বৃষ্টির শ্বশুড় বাড়ির লোকেরা। কিন্তু পালাতে ব্যার্থ হয় বৃষ্টির শ্বশুড় কুদ্দুস শেখ। পুলিশ বৃষ্টির শ্বশুড়কে প্রথমত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালকে প্রেরণ করা হয়। এই ঘটনায় কুদ্দুস শেখকে এক নম্বর আসামী করে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বৃষ্টির চাচা ফারুক শেখ।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য কুদ্দুস শেখের বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করে আবেদন করেছেন বলে জানান, লৌহজং থানার ইন্সপেক্টর অপারেশন, শেখ মো: আবু হানিফ। বৃষ্টির বড় চাচা আব্দুল ওহাব শেখ জানান, বৃষ্টির শ্বশুড় বাড়ি হতে আনুমানিক ৫০ হাত দুরে কুদ্দুস শেখের বায়রা বাড়ি। সেই বাড়িটা অনেকটা নীরব। সেখানে নিয়েই হত্যা করা হয়েছে বৃষ্টিকে।

বৃষ্টির মা নাজমা বেগম জানান, বছর তিনেক আগে কুদ্দুসের ছেলে হারুন শেখের সাথে বিয়ে হয় তাঁর মেয়ের। হারুন বছর খানেক ধরে বিদেশ যেয়ে তার মেয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর বিষয়টা ওর বড় জা ভালো চোখে দেখতেননা। সেখান থেকেই এই হত্যা কান্ডের সুত্রপাত। নাজমা বেগম তাঁর মেয়ে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

১৭ দিনে কারো মরদেহ কঙ্কালে পরিনত হয় কিনা? জানতে লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন জানান, এতো অল্প সময়ে লাশ কঙ্কাল হতে পারেনা। যদি লাশে ধার্য্য পদার্থ ব্যবহার হয় তবে এমনটা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। বৃষ্টি হত্যাকান্ডের বিষয়টিতে এসব সুত্র মিলাবার চেষ্টাটাও থাকবে তাদের। করার বাগ শেখ বাড়ির প্রবাসি বাবুল শেখের মেয়ে বৃষ্টির ২০১৫ সালে বিয়ে হয় একই এলাকার কুদ্দুস শেখের প্রবাসী ছেলে হারুণ শেখের সাথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.