মুন্সীগঞ্জ-৩ : আ’লীগে মনোনয়ন দ্বন্দ্ব, সাতদফা দাবিতে মাঠে বিএনপি

মোজাম্মেল হোসেন সজল: প্রার্থী ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে টেনশন ও উত্তেজনা বেড়েই চলছে। নানা সময়ে নানা জরিপে ভিন্ন ভিন্ন নাম আসায় আবার কারো কোরো মনোনয়ন পকেটে এবং চূড়ান্ত বলে প্রচার করায় গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত তৃণমূলের নেতাকর্মী সমর্থকদের এই টেনশন। আর কে পাচ্ছেন মনোনয়ন-এই জানার আগ্রহও বাড়ছেই। এ আসনে বিএনপির তেমন জোরালো প্রচার-প্রচারণা না থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং নিজেদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ড ভোটারদের মাঝে তুল ধরছেন। প্রার্থী এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দুই দলেই ভর করেছে। প্রার্থী ও জেলার শীর্ষ নেতাদের বিভাজনে কর্মীরা বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করছেন। সচেতনরা মনে করছেন, টিকিট কারো পকেটে আসেনি এখনও। এরজন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা ও গজারিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৭টি। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২লাখ ১৫ হাজার ৪১৬জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৩১জন।

আওয়ামী লীগ: আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় আলোচনায় আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এড. মৃণাল কান্তি দাস এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব এম ইদ্রিস আলী। আরও সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আনিস-উজ্জামান আনিস, মিরকাদিম পৌরসভার দুই মেয়াদের মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন।

প্রার্থীদের মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচনে এড. মৃণাল কান্তি দাস বিনাভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশের একটি শক্তির সঙ্গে তিনি লড়াই করে জনসমর্থন আদায় করছেন। পদবঞ্চিত ও অবমূল্যায়ণের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের আস্থাভাজন নেতা হয়ে উঠেছেন ইতোমধ্যে। বন্ধুসুলভ আচরণও তার জনপ্রিয়তার একটি কারণ।

পাশাপাশি ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়া প্রার্থী গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপির তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলামকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দেন। এম ইদ্রিস আলী পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে দলমত-নির্বিশেষে সবার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। বিশেষ করে চর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতার অবসান ঘটাতে বিরাট ভূমিকা রাখেন। তিনি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় না দিয়ে জনগণের কাছে প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠেন। অবশ্য এসব কারণে দলের অনেকের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ইদ্রিস আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মাঠে আছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। আছেন, তার ছেলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব।

প্রার্থী আনিস-উজ-জামান আনিসেরও রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে তৃণমূলের রাজনীতিতে সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের আপন ভাই। মো. আনিস উজ্জামান আনিস একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ-এর মুন্সীগঞ্জ জেলার (তৎকালীন মহকুমা) প্রধান ছিলেন। আনিস-উজ-জামান গত দুই মেয়াদে মুন্সীগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের নির্বাচিত কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গত দুইটার্ম ধরে। আনিস-উজ-জামান মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ও ভিপি ছিলেন। দুইবার ছিলেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান। ছিলেন জেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

শহিদুল ইসলাম শাহীন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভায় পরপর দুইবার নির্বাচিত মেয়র। তিনি প্রথমবার মেয়র হয়েই দ্বিতীয় শ্রেণীর পৌরসভাটিকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করেন। তরুণদের কাছে তিনি বেশ প্রিয়ভাজন। মিরকাদিম পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং তারুণ্যতায় তিনি আলোচনায় আছেন।

দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছেন, যদি কোনো কারণে ইদ্রিস আলী বা আনিস-উজ-জামান নৌকার মনোনয়ন না পান, সে ক্ষেত্রে এখানে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার রাজনৈতিক সচেনতরা মনে করেন, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও তার ছেলে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব পরিবারের একছত্র রাজনীতি ভারসাম্য রক্ষা এবং দলের ত্যাগী, পদবঞ্চিত ও অবমূল্যায়নকৃত নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে এড. মৃণাল কান্তি দাসকে মনোনয়ন দেয়া দরকার।

মনোনয়ন ও নির্বাচনী আসনে উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য এড. মৃণাল কান্তি দাস বলেন, শিক্ষা, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ক্রীড়াসহ জনজীবনের বিভিন্ন বিষয়াবলী নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এরপরও আমি মনে করি মুন্সীগঞ্জ ও গজারিয়া অবহেলিত এলাকা। এই এলাকায় আরো অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করতে হবে এবং আমার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করি।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আজো কাজ করে যাচ্ছি। যদি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা আমার রাজনৈতিক অবদান, সংগঠনের প্রতি আমি যে দায়িত্ব পালন করেছি-সে আনুগত্যের মূল্যায়ণ অবশ্যই তিনি করবেন। আগামী নির্বাচনটা সকল দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে। সে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন মোকাবেলা করতে হলে আমাদের মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মীদের বড়ই প্রয়োজন। হুট করে কাউকে বসিয়ে দিলে নির্বাচনে জয়লাভ করা কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। দলের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ এবং চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার জন্য।

সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব এম ইদ্রিস আলী মনোনয়ন প্রাপ্তিতে ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আমার অতীতের পারফরমেন্স এবং আমার ইমেজ কি পার্টি জানেন। জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সবাই আমার সঙ্গে আছেন। সাধারণ মানুষও আমাকে চায়। যাদের আমি চিনিনা, তারাও ফোন করে আমাকে চায়।

যারা বলে মনোনয়ন তাদের পকেটে এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তারা ভাওতাবাজি করছে। চূড়ান্ত মনোনয়নের সময় এখনো আসেনি। যারা বলে আমাকে দিয়ে দিছে, তারা ভাওতাবাজি করে জনগণকে ধোকা দিচ্ছেন। মনোনয়ন দেয়ার মালিক নেত্রী। নেত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মৃণাল এবং আমাকে চিনেন। যদি মনোনয়ন দেয়া হতো তাহলে নেত্রী আমাদের ডাকতেন। বলতেন, মৃণালকে মনোনয়ন দিয়ে দিছি, আপনারা ওকে এবং নৌকাকে জয়ী করার লক্ষ্যে সহযোগিতা করেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আনিস-উজ-জ্জামান আনিস বলেন, ১৯৬২ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগকে ভালোবাসী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। ২০০৮ সালে নেত্রীর নির্দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রথম স্থান অধিকার করি বহুভোটের ব্যবধানে। নেত্রী তখন আমাকে নমিনেশন দেননি। এবারও নেত্রী যে নির্দেশনা দিবেন-সে নির্দেশনা অবশ্যই পালন করবো। আমি আশাবাদী যদি নেত্রী তৃণমূল পর্যায়ে আবারও যাচাই বাছাই করেন, সেক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ আমি কামিয়াব হবো।

মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, আমি দুই দুইবার বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচিত মেয়র হিসেবে কাজ করে আসছি। এটা আমার জন্য খুব বেশি চাওয়া না। দল যদি আমাকে নমিনেশন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচন করবো। আর যদি কোন কারণে না দেন, যাকে দিবেন আমি তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগের স্বপক্ষে এবং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর প্রার্থীকে সবাই মিলে জয়যুক্ত করবো।

বিএনপি: এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই। মুন্সীগঞ্জ সদর আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য আবদুল হাই এবারও এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া, এই আসনে মনোনয়নে আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রী সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। এই দুই শীর্ষ নেতাকে ঘিরে এই নির্বাচনী আসনের নেতাকর্মীরা দুই শিবিরে বিভক্ত। ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপি নির্বাচনে আসলে এই আসনে কে হচ্ছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী-এই নিয়ে বিভক্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

এদিকে, গত বছরের ২৭ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হাইকে পুনরায় সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান রতনকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্য বিশিষ্ট জেলা বিএনপির কমিটির অনুমোদন দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়, ৩০ দিনের মধ্যে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু কমিটি গঠনের কিছু দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সিনহা একক আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা চালালে তাদের এই বিরোধ জেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা এবং অঙ্গসংঠনের নেতারা এক শিবিরের মিজানুর রহমান সিনহা ও কামরুজ্জামান রতন এবং অপর শিবিরের জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজনীতির মাঠে তেমন একটা নেই। তবে, মাঝেমধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই ও তার ভাই সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে নিদিষ্ট স্থানে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধসহ নানা কারণে কমিটি অনুমোদনের প্রায় দেড় বছরেও জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি তারা গঠন করতে পারেননি। এই রকমভাবে সারা জেলায় উপজেলা ও পৌরসভা এবং অঙ্গসংঠনের কমিটিগুলো দুইভাগে বিভক্ত। বিরোধের কারণে কেন্দ্র থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংঠনের পকেট কমিটিও চলে আসছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

এদিকে, গত বছরের ২৭ এপ্রিল জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন মুন্সীগঞ্জের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এরপরই ভাগ বসানো এবং আগামীতে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনটি কেড়ে নেয়ার আশঙ্কায় একই আসনের জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাইয়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বিরোধ তুঙ্গে উঠে।

ওদিকে, জেলা বিএনপির আংশিক নতুন কমিটি হওয়ার পরপরই শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারের জেলা বিএনপির প্রথম প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই দুই নেতা সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং মিলেমিশে কাজ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরই তারা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করা শুরু করেন।

আব্দুল হাই মুন্সীগঞ্জ ও গজারিয়া আসনে ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ সালে তাঁকে এ আসনে প্রার্থী না করে ঢাকার শ্যামপুরে (ঢাকা-৪) দেওয়া হয়েছিল। এক সময় তার তুমুল জনপ্রিয়তার কাছে মুন্সীগঞ্জ-গজারিয়া আসনে আওয়ামী লীগ দাঁড়াতেই পারেনি। কিন্তু নানা কারণে সে ইমেজ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।

বিগত উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী জয়ে আলোর মুখ দেখতে পায়নি। বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কোন কোন ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

এদিকে, কামরুজ্জামান রতন গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জে সরকার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে গেলে আবদুল হাই ও তার লোকজন তাকে অপমান-অপদস্থ করার কারণে সেদিন থেকেই মুন্সীগঞ্জে বিএনপির কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত রয়েছেন। এই ঘটনা কেন্দ্রের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কান পর্যন্ত পৌঁছে।

ওদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই ইমেজ সংকটে থাকলেও প্রার্থী হিসেবে এখনো বেশ শক্তিশালী।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন বলেন, অনেক কিছু বিবেচনা করার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারিনি-এটা সত্য। কিন্তু এটা কোন আন্তঃকোন্দল নয়। এখানে অনেক বড় ও অনেক যোগ্য প্রার্থী আছে- তাদের সবাইকে একত্রিত করে সমঝোতার কাছাকাছি চলে এসেছি। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে কিনা-চূড়ান্ত বিষয়টি দল এখনো জানায়নি। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাতদফা দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে দল বা ঐক্যফ্রন্টের বিবেচনায় যোগ্য হলে এবং আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। দল আমাকে মনোনয়ন না দিলে গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত মেনে নেবো।

জেলার রাজনীতিতে অনুপস্থিত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে আমাকে কখন কোন কৌশলে কোন জায়গায় থাকতে হবে-এটা দল যেভাবে বলছে এবং আমার যেখানে সুবিধা হচ্ছে সেখানে উপস্থিত থাকছি। তাই বলে আমি রাজনীতিতে অনুপস্থিত নই। জেলায় আমার সহযোগি সংগঠনগুলো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। আবার তারা যখন অনুপস্থিত থাকবে তখন আমি থাকবো। কেন্দ্রের নির্দেশনায় আমিতো কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতে থাকছি।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই বলেছেন, বিগত উপজেলা ও ইউপি নির্বাচনে অযোগ্য কোন প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়নি। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও দখলবাজির ঘটনায় প্রার্থীরা ভালো করতে পারেনি। নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। খালেদা জিয়ার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তিসহ সাতদফা দাবি মেনে নেয়ার দাবি চলছে।

নিজের ভোট দিতে পারবেন কিনা সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া কোন নির্বাচনে যাবেনা বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে দল যাকেই মনোনয়ন দেয় তার পক্ষেই থাকবেন এবং দলীয় কোন্দলও মিটে যাবে।

ওদিকে, জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন ও আরিফুজ্জামান দিদারের নাম শোনা যাচ্ছে।

অবজারভার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.