চিকিৎসক ও জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: বছরের পর বছর ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম। চিকিৎসক ও জনবল সংকট, কর্তব্যরত চিকিৎসকদের অনিয়ম ও অবহেলায় ভেঙে পড়েছে জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। এক যুগ ধরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে চলছে ৫০ শয্যার চিকিৎসক ও জনবল দিয়ে। ফলে প্রতিদিন আউটডোরে ৮০০ থেকে সহস্রাধিক রোগীকে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

অন্যদিকে এই জেনারেল হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি বেশ কয়েক বছর ধরে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে খোলা আকাশের নিচে। একটি সচল থাকলেও তা কয়েকদিন পরপর মেরামত করে চালু রাখা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল হাসপাতালে চারটি সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদের মধ্যে এক যুগ ধরে মেডিসিন, ছয় বছর ধরে নাক, কান ও গলা এবং চক্ষু বিভাগের কনসালট্যান্টের পদ শূন্য রয়েছে। সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট নেই। জুনিয়র দিয়ে চালানো হচ্ছে এ বিভাগটি। অন্যদিকে অসুস্থ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে প্রথমেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হয়। অথচ জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসারের পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ ছাড়া দারোয়ান, নৈশপ্রহরী, মালি, এমএলএসএস ও ইলেকট্রিশিয়ানের পদেও জনবল নেই এ হাসপাতালে। অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্নতা এ হাসপাতালের নিত্যদিনের চেহারা। শুধু আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া কোনো চিকিৎসক মুন্সীগঞ্জে থাকেন না। ঢাকা থেকে আসেন বলে কর্মস্থলে বিলম্বে পৌঁছান তারা। জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও তা ৫০ শয্যার চিকিৎসক ও জনবল দিয়ে চলছে। তাও আবার ৫০ শয্যার লোকবলও নেই হাসপাতালে। এ ছাড়া হাসপাতালের ভবনটিও সংস্কার করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রতিবছর অনুষ্ঠিত সভায় এসব বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে এসব বিষয় জানানো হলেও বছরের পর বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ কার্যক্রমের ফাইল সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আটকা পড়ে আছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যক্রম পাঁচ-ছয় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে গত কয়েক বছরে বেশ ক’জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে গেলে বেশ কয়েকটি পদ শূন্য হয়ে পড়ে; কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় সেই শূন্য পদেও নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সাখাওয়াত হোসেন জানান, হাসপাতালের আউটডোরে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজন চিকিৎসক গড়ে ১৫০ জনের বেশি রোগী দেখায় রোগীরাও সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.