উন্নয়নের জোয়ারে ইএমএস (EMS) এর এ কি হাল ?

রাহমান মনি: ইএমএস (EMS) যা Electronics Manufacturing Service বা Express Mail Service এর সংক্ষিপ্ত রুপ। যার বাংলায় আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দ্রুতগামী ডাক ব্যাবস্থা সেবা। স্বল্প সময়ে জরুরী প্রয়োজনে বিদেশে পণ্য পাঠানোর জন্য অধিক মাশুল এর বিনিময়ে মানুষ এই সেবাটির দ্বারস্থ হয়ে থাকেন ।

বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নের জোয়ারে বৃষ্টির পানি যেমন ভাবে বুড়িগঙ্গায় গমন না করে রাজধানী ঢাকার রাজপথ ভরাট হয়ে উন্নয়নের ফ্লাই ওভারে জলাধারের সৃষ্টি করে, তেমনি ভাবে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উন্নয়নের হাত পড়েছে। তাই, সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্মের গন্তব্য যে গতিতে হওয়ার কথা সে গতিতে গন্তব্যে না পৌঁছে অজানা কোথাও জমা হয়ে স্তূপাকারে ফেলে রাখা কিংবা ইলেক্ট্রনিক্স এর উল্টো গতিতে অর্থাৎ ডিজিটাল বাংলাদেশে এনালগ এর যুগ এখনো বলবৎ রয়েছে স্বমহিমায় ।

সারা বিশ্বের কথা না জানলেও জাপানে থাকার সুবাদে জাপানের কথা বলতে পারি যে , জাপানে Electronics Manufacturing Service বা ইএমএস এর বেলায় সাধারনত ৭২ ঘণ্টা সময় নিয়ে/দিয়ে থাকে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তা জাপান ত্যাগের ব্যাবস্থা নিয়ে থাকে । তবে, জাপান থেকে বাংলাদেশে ইএমএস পাঠাতে গেলে পূর্ব থেকেই এক সপ্তাহের ও সময় লাগার কথা বলা হয়ে থাকে। জাপান প্রবাসীরাও তাতেই অভ্যস্থ হয়ে গেছে। এটা আমাদের গর্ব ই বটে !

কিন্তু বাংলাদেশ থেকে জাপানে আসার বেলায় ? যতোটুকু জানি বা শুনি , তাতে তারা দৃঢ়তার সাথেই ৭২ ঘণ্টার কথা বলে থাকে । যদিও জাপান আসার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা গ্রাহকের হাতে পৌঁছানোর ব্যাবস্থা নিয়ে থাকে যদি না কর বা আইনী কোন ঝামেলা না থাকে ।

ভাইগ্নার একটি কাগজ গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘১৮ জিপিও থেকে ইএমএস এর মাধ্যমে জাপানের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয় । যার নাম্বার RR001205822BD । গ্লোবাল ট্রাক এন্ড ট্রেস এর মাধ্যমে দেখা যায় ২৩ সেপ্টেম্বর তা ঢাকা ইন ওয়ার্ড অফিস থেকে ছাড়পত্র পায় । তারপর আর কোন খোঁজ নেই । দীর্ঘ একমাস তার কোন হদিস নেই । নেট এর মাধ্যমে অনেক ঘাঁটাঘাঁটি করে ঢাকার অফিস এ একাধিক বার ফোন করলেও কেহ রিসিভ করেননি ।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক এ নদী সিনা ভাবীর একটি স্ট্যাটাস থেকে জানা গেল তারও একই অবস্থা । অনেকের মন্তব্য পরে বুঝা গেল তাদের সবাই ভুক্ত ভুগি ।

বেশী অর্থ খরচ করে ইএমএস পাঠানোর অনেক গুলো কারনের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যথা সময়ে প্রাপকের হাতে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা নিশ্চিত করার জন্য । সেই নির্দিষ্ট সময় যদি ঘণ্টা পেড়িয়ে সপ্তাহ, সপ্তাহ পেড়িয়ে মাস হয়ে যায় তাহলে মানুষ কেন তার দ্বারস্থ হবে?

আমাদের সরকার বাহাদুর বড় বড় সব মেগা প্রোজেক্ট নিয়ে ব্যাস্ত। হাজার কোটির টাকার প্রোজেক্ট। বিশ্ব জয় করে এখন মহাকাশ নিয়ে ব্যাস্ত। এসব ছোট খাটো তুচ্ছ কাজে মনোনিবেশ করার ফুরসত কোথায়?

বাস্তবতা হচ্ছে, মেগা প্রোজেক্ট এর দিকে মানুষের যতোটা না আগ্রহ তার চেয়ে বেশী আগ্রহ তাদের অধিকার আদায়ে। ন্যায্য দাবী আদায় করতে না পারলে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ একদিন ফুসে উঠে আর তখনি বিপত্তি দেখা দেয়।

বাংলাদেশ ডাকবিভাগের সেবার মান সর্বজন বিদিত। এর মধ্যেকোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাদের বিভিন্ন সেবার মাশুল বাড়িয়েছে। স্বল্প সময়ে বিদেশে পণ্য পাঠানোর এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিসের (ইএমএস) মাশুল বেড়েছে ৮০ শতাংশ। পাশাপাশি চিঠিপত্রের ডাকাটিকিটের হার যে হারে বেড়েছে তাতে জনগণ ডাকঘর বিমুখ হয়ে পড়ছে। এটা ডাকঘরের সেবার মান নিম্নমুখী করারই পদক্ষেপ। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এখন জিপিওসহ সকল ডাকঘরে হাহাকার ক্রেতার জন্য। সেবা পেতে এখন ডাকঘরের পরিবর্তে প্রাইভেট কুরিয়ার সার্ভিস উত্তম। শুধু ডাকটিকিট নয়—খাম, পোস্টকার্ড, একপ্রেস মেইল, পার্সেল ইত্যাদির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ৫ টাকার নিচের সকল মাশুল তুলে দেওয়া হয়েছে। ডাকঘরগুলোর সেবা পেতে গ্রাহকরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত মাশুল বৃদ্ধির পর পর ডাকঘরের সঙ্গে জনগণের দুরত্ব বেড়ে গেছে। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই ।

বেশী অর্থের বিনিময়ে জরুরী সেবা পেতে যদি স্বাভাবিক এর চেয়েও বেশী সময় নষ্ট হয় তাহলে ইএমএস এর প্রতি মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে । বাংলাদেশ থেকে জাপান আসতে একটি নরমাল চিঠির ও দুই সপ্তাহের বেশী সময় লাগে না । সেখানে, ইএমএস আসতে মাসাধিককাল? উন্নয়ন ই বটে !

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.