বেশি দামে বিএডিসির বীজ আলু কিনছেন না কৃষক

এবারও লোকসানের আশঙ্কা ডিলারদের
কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: বীজ আলুর মূল্য কমাতে মুন্সীগঞ্জে বিএডিসি ডিলার জেলা কমিটির বিএডিসির চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করার এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনও তাদের দাবি পূরণে কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এমনকি আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি-না এমন কোনো সিদ্ধান্ত জানতে পারেননি ডিলাররা। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আলু আবাদ শুরু হয়ে গেলেও লক্ষ্য অনুযায়ী বিএডিসির বীজ আলু ক্রয়ে কৃষকের তেমন আগ্রহ নেই। হল্যান্ডের ডায়মন্ড বীজ আলুসহ বিভিন্ন কোম্পানির বীজ আলু কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১২ টাকা কম হওয়ায় জেলার কৃষকরা বিএডিসি বীজ আলু ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে বিএডিসির মুন্সীগঞ্জের ডিলাররা তাদের সংরক্ষণ করা বীজ আলু বিক্রি করতে না পেরে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। লক্ষ্য অনুযায়ী বিক্রি করতে না পারলে গত তিন বছরের মতো এবারও লোকসানের কবলে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকরা এরই মধ্যে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আলু আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু বিএডিসির বীজ আলুর মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকরা কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা বীজ আলু ও হল্যান্ডের ডায়মন্ড বীজ আলুসহ বিভিন্ন কোম্পানির বীজ আলুর প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। আবার মূল্য বেশি হওয়ায় কৃষকদের চাহিদা মেটাতেও পারছেন না ডিলাররা। ফলে লোকসানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, বিএডিসির বীজ আলু খুচরা বিক্রি হচ্ছে এ গ্রেডের ২৭ টাকা ও বি গ্রেডের ২৫ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে হল্যান্ডের ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন কোম্পানির বীজ আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি দরে। ফলে বিএডিসির বীজ আলু ক্রয়ে কৃষকদের আগ্রহ নেই।

জেলার একাধিক ডিলার জানান, বিএডিসির এ গ্রেডের বীজ আলু ২৭ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন জানালেও কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় লোকসানের কবলে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। তাদের মতে, বিভিন্ন কোম্পানির ও কৃষকের সংরক্ষণ করা বীজ আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি দরে। আর কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১২ টাকা বেশি হওয়ায় বিএডিসির বীজ আলু ক্রয় করছেন না কৃষকরা।

বিএডিসি বীজ আলু ডিলার সমিতির মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. মোবারক দেওয়ান বলেন, গত ৮ অক্টোবর বিএডিসির চেয়ারম্যান বরাবর বীজ আলুর মূল্য কমানোর দাবি জানিয়ে আবেদন করার এক মাস অতিবাহিত হলেও কোনো প্রতিউত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে ডিলাররা বিগত বছরগুলোর মতো এবারও লোকসানের কবলে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন। মূল্য বেশির কারণে গত তিন বছর ধরে বীজ আলুর ডিলাররা টনপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান গুনছেন। এতে বিএডিসির বীজ আলু বিক্রিতে অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে ডিলারদের মধ্যে। তিনি আরও বলেন, গত সাত থেকে আট বছর ধরেই কৃষকরা নিজ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় হিমাগারগুলোতে বীজ আলু সংরক্ষণ করে রাখেন। আলু আবাদ মৌসুমের সময় এলেই সংরক্ষিত বীজ আলু নিজ নিজ জমিতে রোপণ করার পাশাপাশি অপর কৃষকের কাছেও বিক্রি করে থাকেন তারা। এর ফলে গত কয়েক বছর ধরে মুন্সীগঞ্জে বীজ আলুর সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে না কৃষকদের।

ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলায় বিএডিসির বীজ আলুর ডিলার রয়েছেন ১৯৪ জন। প্রতি বছর প্রত্যেক ডিলারকে ৫ টন করে বিএডিসি বীজ আলু বরাদ্দ দিয়ে থাকে। ৪০ কেজি ওজনের এক বস্তা বীজ আলু ক্রয় করতে ডিলারদের বিএডিসি কর্তৃপক্ষ বরাবর এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। বিএডিসি এ গ্রেডের বীজ আলু কেজি প্রতি ২৩ টাকা ও বি গ্রেড ২২ টাকা করে ডিলারদের কাছ থেকে মূল্য নিচ্ছে। পর পর তিন বছর লোকসান হওয়ায় গত বছর ৫০ ডিলার লোকসানের আশঙ্কায় বিএডিসির বীজ আলু উত্তোলন করেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বিএডিসি সূত্র মতে, জেলায় ৭৭ হাজার টন বীজ আলুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে হিমাগারে বীজের জন্য কৃষকরা সংরক্ষণ করেন প্রায় ৫০ টন। বাকি ২৭ টন বিএডিসি ও বিভিন্ন কোম্পানির বীজ আলু ক্রয় করে আবাদ করা হয়।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.