এবার ক্ষমা চান: কামালকে বি চৌধুরী

জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে আপত্তি থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে না যাওয়ার পর কামাল হোসেনের সর্বশেষ বক্তব্য শুনে তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “কামাল হোসেন বলেছেন, উনি জানতেন না যে জামায়াতে ইসলামীর সাথে ঐক্য হতে চলেছে। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় যে উনি জানতেন না? তবুও আমি খুশি হয়েছি, এত দিন পরেও তার উপলব্ধি হয়েছে।”

কামালের ‘বিলম্ব উপলব্ধিকে’ ধন্যবাদ জানিয়ে বি চৌধুরী বলেন, “আজকে প্রমাণ হয়েছে আমরা বিকল্পধারা এত দিন যে কথা বলেছি, সে কথা সঠিক। কামাল হোসেনের আজকে বলা উচিৎ ছিল, তখন আপনাদের বিশ্বাস না করা ভুল ছিল। ওই টুকু যখন বলেছেন, তখন বাকিটুকু বললেও পারতেন।

“বিকল্প ধারার কাছে তার (কামাল হোসেনের) ক্ষমা চাওয়া উচিৎ ছিল।”

বিকল্প ধারা থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে সংবর্ধনা দিয়ে রোববার বিকল্প যুবধারা আয়োজিত অনুষ্ঠানে একথা বলেন বি চৌধুরী।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন একদিন আগেই বলেছিলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে এবার নির্বাচন করতে দেওয়া ভুল ছিল।

নিবন্ধনহীন জামায়াতের নেতারা যে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হচ্ছেন, তা বিএনপি নেতারা জানাননি বলে দাবি করেন কামাল।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপিকে নিয়ে জোট গঠনের উদ্যোগ যখন কামাল নিয়েছিলেন, তখন বি চৌধুরীও সেই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। বিকল্প ধারা নেতৃত্বাধীন জোট যুক্তফ্রন্টের শরিক দুটি দল জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যও যুক্ত হয়েছিল তাতে।

জামায়াতকে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠনের সময় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে থাকা বি চৌধুরী এবার ওই দলটিকে নিয়ে আপত্তি তোলেন। বিএনপি তাদের ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ না দিলে তাদের নিয়ে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়তে আপত্তি জানায় বিকল্প ধারা।

শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে নিয়ে কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, আ স ম রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়েন। অন্যদিকে বি চৌধুরী তার দল নিয়ে যোগ দেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে।

বি চৌধুরী ও কামাল হোসেন মাঝে জোট বাঁধলেও এখন দুজনের পথ দুদিকে বি চৌধুরী ও কামাল হোসেন মাঝে জোট বাঁধলেও এখন দুজনের পথ দুদিকে
মহাজোটের হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিকল্প ধারা মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাদের সংবর্ধনা দিতেই রোববার আয়োজন করে যুবধারা।

বি চৌধুরী বলেন, “বিকল্পধারা বাংলাদেশ মনে করে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য, এখনও যারা স্বাধীনতাবিরোধী তাদের চূড়ান্ত উপলব্ধির সময় এসেছে।”

এবারের নির্বাচনে মাত্র আটটি আসনে জয় পাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ভোটে নানা অনিয়ম, কারচুপির অভিযোগ এনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের জোট থেকে বিজয়ীরা কেউ শপথ নেবেন না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি বি চৌধুরী মনে করেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার জন্য বিএনপির সংসদে যোগ দেওয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য প্রতিধ্বনি করে, আমিও বলব, বিএনপির উচিৎ হবে সংসদে বিরোধী দল হিসেবে তাদের সঠিক ভূমিকা রাখা। নিজেদের ভুল-ত্রুটি ও সরকারের ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে সংসদে সাহসী উচ্চারণের মাধ্যমে বিএনপি সঠিক ভূমিকা রাখতে পারে। এটা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার জন্য অপরিহার্য।”

বিএনপি সিদ্ধান্ত পাল্টে সংসদে যোগ না দিলে দলটির ভবিষ্যৎ ‘অনিশ্চিৎ হয়ে পড়তে পারে’ বলে মন্তব্য করেন জিয়াউর রহমানের গড়া এই দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন মহাসচিব বি চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে তিনি বিকল্প ধারার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করার জন্য আলোচনা, সমালোচনা ও আইন প্রণয়নে মনোযোগী হতে দল ও জোটের নেতাদের নির্দেশনা দেন।

আসন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনাও আসে এই অনুষ্ঠান থেকে।

‘ভুল করেছিল’ বিকল্পধারা

অনুষ্ঠানে বিকল্প ধারার মহাসচিব মান্নান বলেন, দুটি ‘রাজনৈতিক ভুলের’ কারণে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় প্রসার ঘটেনি তাদের দলটির।

বিএনপির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর খালেদা জিয়ার বিরাগভাজন হয়ে ২০০২ সালে পদত্যাগ করে বিকল্প ধারা গঠন করেছিলেন বি চৌধুরী। পরে অলি আহমদের সঙ্গে মিলে এলডিপির নামে নতুন দল গঠন করলেও তা টেকেনি। এরপর আবার বিকল্প ধারাকে সক্রিয় করেন বি চৌধুরী।

ওই সময় দলের নাম পরিবর্তনকে প্রথম ভুল বলে মনে করছেন মান্নান। তার মতে, দ্বিতীয় ভুল হচ্ছে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ১৪ দলীয় জোটে যোগ না দেওয়া।

মান্নান বলেন, “বিকল্পধারা গঠনের পর দলের নাম পরিবর্তন করে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমাদের ১৪ দলের সাথে যোগ দেওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু আমরা এককভাবে নির্বাচন করলাম। একজন্য বিকল্প ধারা সাংঠনিক প্রসারতা লাভ করতে পারেনি।”

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.