পদ্মা সেতুর ৩ হ্যামার নষ্ট ॥ পাইলিং সাময়িক বন্ধ

পদ্মা সেতুর তিনটি হ্যামার নষ্ট হয়ে গেছে। গেল কয়েকদিন ধরেই সাময়িক বন্ধ আছে পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ। হ্যামার ঠিক করতে জার্মান প্রকৌশলীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শীঘ্রই এই তিন হ্যামার চালু হয়ে যাবে বলে দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন।

৩৫০০ কিলোজুল, ২৪০০ কিলোজুল ও ১৯০০ কিলোজুল ক্ষমতার তিনটি হ্যামার দিয়ে ভালভাবে কাজ চলছিল। প্রতিটি পাইল ১শ’ থেকে প্রায় ১২৮ মিটার গভীরে স্থাপন করছিল। তাই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কার্যকর হ্যামার ব্যবহার হচ্ছিল। যেটি বিশ্বে বিরল। পদ্মা সেতুতে আসা হ্যামারগুলো ম্যানসিকে (MENCK) কোম্পানির। হ্যামার চালানোর জন্য জার্মান থেকে আনা ২৪ জন টেকনিশিয়ান হ্যামারটি চালনা করে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, চার দিন ধরে তিনটি হ্যামার নষ্ট হয়েছে। তাই পিলারের পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ সাময়িক বন্ধ আছে। তবে হ্যামার ঠিক হয়ে যাবে শীঘ্রই। কবে নাগাদ ঠিক হবে তা নিশ্চিত করতে পারেননি। পাইলিং কাজ বন্ধ থাকলেও পদ্মা সেতুর কাজের গতিতে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলে জানান তিনি।

প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, পিলারে গাইডিং ফ্রেম তৈরি করা হয়। এই ফ্রেমের সঙ্গে স্থাপন করা হয় দীর্ঘ পাইল। এই পাইলের ওপরই বসে হ্যামারটি। মূলত একটি ভাসমান বার্জ থেকে এ হ্যামারটি ড্রাইভ করা হয়। বার্জের মধ্যে রয়েছে ছয়টি স্টেশন, যা দেখতে অনেকটা কন্টেইনারের মতো। এসব স্টেশনে রয়েছে হ্যামারটিকে ড্রাইভ করানোর জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। রয়েছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র। হ্যামারটি পাইলের ওপর স্থাপনের পর ওপরের স্টেশন থেকে হাইড্রোলিক প্রেসার দিয়ে ড্রাইভ করানো হয়। হাইড্রোলিক প্রেসার পেয়ে হ্যামারটি ওপর দিকে উঠে আবার নিচের দিকে আছড়ে পড়ে পাইলের ওপর।

এভাবেই পাইলগুলো পদ্মার তলদেশে প্রবেশ করতে থাকে। এই হ্যামার প্রতি মিনিটে ৩৫ থেকে ৪০ বার পাইলে আঘাত করতে পারে। তাতে একটি পাইল বসাতে ৮ ঘণ্টার মতো লাগে। তবে নানা সমস্যা ও পাইল ঝালাই করে জোড়া দিয়ে একটি পাইল বসাতে লেগে যায় সাত থেকে আট দিন। কোন কোন ক্ষেত্রে আরও বেশি। একটি হ্যামার দুই লাখবার পাইলের ওপর ব্লো করার পর সার্ভিসিং করতে হয়। আর আট লাখ ব্লোর পর অনেক যন্ত্রাংশ বদল করতে হয়। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর ২৬২টি পাইলের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০৯টি পাইল বসে গেছে। বাকি ৫৩টি পাইল বাকি। এরই মধ্যে স্ক্রিন গ্রাউটিং পদ্ধতিতে বসানো হয়েছে ১৮টি খাঁচকাটা (ট্যাম) পাইল।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.