পাঠক সংখ্যা

  • 7,197 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

জনপ্রিয় খবর…

পুরনো খবর…

মুন্সীগঞ্জে নির্মাণ করা হচ্ছে ‘শ্রীজ্ঞান অতীশ’ তথ্যচিত্র

পাল সাম্রাজ্যের আমলে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধধর্ম প্রচারক ছিলেন শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর। তার কর্ম-জীবন নিয়ে এবার মুন্সীগঞ্জে এ প্রথম নির্মাণ করা হচ্ছে ‘শ্রীজ্ঞান অতীশ’ নামের তথ্যচিত্র।

অতীশ দীপঙ্কর একাধারে বৌদ্ধপণ্ডিত, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি এ অঞ্চলের রাজনৈতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায়ও ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিলেন। তথ্যচিত্রটির প্রযোজক শহীদ-ই-হাসান তুহিন জানান, আমরা প্রায় তিন বছর ধরে তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করছি। যেহেতু এক হাজার বছর পূর্বের ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তাই তথ্যচিত্রটির গবেষণায় আমরা অনেক বেশি সময় ব্যয় করেছি। গবেষণার জন্য আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে হয়েছে। বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুর, ঢাকা, নওগাঁ, বগুড়া, কুমিল্লা, ও ভারতের বিহার রাজ্যের নালন্দা জেলা ও ভাগলপুর জেলার বিভিন্ন স্পটে তথ্যচিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। তথ্যচিত্রটি পরিচালনায় আরও একজন কাজ করছেন, তিনি হচ্ছেন নির্তেশ-সি-দত্ত। এখন আমরা পোস্ট প্রডাকশনের কাজ করছি। আশা করি খুব শিগগির তথ্যচিত্রটি বিশ্ববাসীকে দেখাতে পারব।
তথ্যচিত্রটি শুধু অতীশ দীপঙ্করের জীবনের জার্নি-ই নয়, এটা একটা ঐতিহাসিক জার্নি, একটা আর্কিওলজিক্যাল, একটা ফিলসফিক্যাল জার্নি। প্রায় এক হাজার বছর পূর্বে, বাংলায় পাল রাজত্বকালে ৯৮২ খ্রিস্টাবে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্ককর বিক্রমপুরের এক রাজ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ছোটবেলা কাটে বিক্রমপুর তথা মুন্সীগঞ্জ এলাকায়। এখানেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা নেন। তৎকালীন পণ্ডিত ও বৈকারণিক জেতারির কাছেও তিনি শিক্ষা লাভ করেন এবং তার পরামর্শে তৎকালীন মগধ অঞ্চলস্থ ওদন্তপুরী বিহারে আচার্য শীলরক্ষিত, আচার্য বিদ্যাকোকিল, নালন্দা মহাবিহারের আচার্যবোধিভদ্রসহ অনেক পণ্ডিতদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি বৌদ্ধদর্শনের মহাযান ধারায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য সুবর্ণদ্বীপ (বর্তমান নাম সুমাত্রা) গমন করেন। সেখানে তিনি মহামহোপাধ্যায় ধর্মকীর্তির নিকট প্রায় ১২ বছর শিক্ষালাভ করেন।

সুবর্ণদ্বীপ থেকে ফিরে তিনি রাজা মহীপালের অনুরোধে তৎকালীন মগধের বিখ্যাত বিক্রমশীলা মহাবিহারে প্রধান আচার্য হিসেবে যোগদান করেন। শিক্ষকতার ক্ষেত্রে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর প্রভূত সুখ্যাতি অর্জন করেন।

এশিয়াজুড়ে তার পাণ্ডিত্বের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এশিয়ার বহুদেশ থেকে বহু ছাত্র তার কাছে শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তন্ত্র-মন্ত্রের অন্ধকারে আচ্ছন্ন এশিয়াকে আলোকিত করেন বলে তাকে ‘দ্য আই অব এশিয়া’ বলা হয়। পশ্চিম তিব্বতের সম্রাট লাহ্ লামা এশেওদের বারবার আমন্ত্রণ অনুরোধে শেষ জীবনে তিনি তিব্বত গমন করেন।
সেখানে তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তিব্বতে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর তার দর্শন প্রয়োগ করে মানব উন্নয়ন ঘটান। পাশাপাশি তিনি তিব্বতের কৃষিকাজে প্রথম সেচব্যবস্থার প্রচলন করেন এবং জনগণের মধ্যে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক ওষধ সেবনেরও প্রচলন করেন। অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতের লাসা শহরে ১০৫৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিব্বতের লোকজন তাকে আজও দেবতারূপে সম্মান করেন।

শেয়ার বিজ

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.