পাঠক সংখ্যা

  • 8,785 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

শ্রীনগরের নিখোঁজ যুবক সোহাগের কঙ্কাল ৩ বছর পর খুলনা থেকে উদ্ধার করেছে পিবিআই

আরিফ হোসেন: মোটর সাইকেল বিক্রির টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে শ্রীনগর উপজেলার কামারগাও থেকে খুলনা নিয়ে মোঃ সোহাগ(২০)কে খুন করে তার বন্ধুরা। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর লোমহর্ষক এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে সোহাগের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পিবিআই(পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ।

শনিবার সন্ধ্যায় মুন্সিগঞ্জ পিবিআই এর অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ বন্ধুদের ডাকে সারা দিয়ে ২০১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল( ঢাকা মেট্রো –ল ২১-২২৬২) নিয়ে বের হয়ে নিখোজ হয়। নিখোজের প্রায় ৩ সপ্তাহ পর ২৮ সেপ্টেম্বর সোহাগের বাবা শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেণ। শ্রীনগর থানার ডায়েরী নম্বর ১২৫৪। পরে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের প্রভাবে মামলাটি থমকে গেলে ২ মাস পর তিনি মুন্সীগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মুন্সীগঞ্জ আদালতের সি আর মামলা নম্বর ১২০/১৫।

শ্রীনগর থানা পুলিশ ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে মামলার আসামী অপুকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপু খুলনা নিয়ে সোহাগকে হত্যার কথা স্বীকার করে। পুলিশ ওই সময় তাকে নিয়ে একাধিকবার খুলনায় অভিযান চালালেও সোহাগের মরদেহ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। মামলার ১ বছর ৮ মাস পর শ্রীনগর থানা পুলিশ তদন্ত করে অপু, পারভেজ ও সিয়ামের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। কিন্তু সোহাগের কোন সন্ধান না পাওয়ায় তদন্তের জন্য মামলাটি পিবিআই মুন্সীগঞ্জকে হস্তান্তর করা হয়।

২০১৮ সালের ৩০ জুন মামলার তদন্ত শুরু করেন পিবিআই এর এসআই মোঃ হযরত আলী। তিনি ৯ মাসের মধ্যে তদন্ত করে হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আসামি মোঃ সিয়াম(২৭) কে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা থেকে গ্রেপ্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে সোহাগকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি জানান, সোহাগের সাথে আগে থেকেই সিয়ামের বন্ধুত্ব ছিল । এছাড়া অপর আসামি পারভেজ এর বোনের শ্বশুড় বাড়ি সোহাগের বাড়ি কামারগাওয়ের পাশর্^বর্তী বালাশুর গ্রামে। সিয়াম ও সোহাগের সাথে পারভেজের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোহাগের নিজস্ব মোটর সাইকেল দিয়ে তারা ঘুরেবেড়াতো। সোহাগ তার মোটর সাইকেলটি বিক্রি করবে জানালে পারভেজ জানায় তার মামা মোটরসাইকেলটি কিনতে আগ্রহী। সোহাগ ও সিয়াম মাওয়া ঘাটের ওপারে মোটরসাইকেল নিয়ে গেলে পারভেজের মামার দেখানো এক লোক ১লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলটি কিনে নেয়। এরপর পারভেজ সিয়াম ও সোহাগকে নিয়ে খুলনা বেড়াতে যায়। খুলনা পৌঁছে একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রি যাপন করে। পরদিন তারা পারভেজের গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়া থানার টোলনা গ্রামে যায়। সেখানে তাদের সাথে যোগ দেয় নয়ন,মুরাদ,আবিদ ।

২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে মোটর সাইকেল বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে ও ছুড়ি দিয়ে বুকে ও পেটে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ পাশ্ববর্তী ডোবায় কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে।

হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নয়ন খুলনা এলাকার শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। সে বাকিতেও খুন করে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

সোহাগের বাবা শহিদুল ইসলাম ফকির শার্টের একটি অংশ দেখে তার ছেলে সোহাগকে চিহ্নিত করে। সোহাগের মরদেহের অবশিষ্টাংশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক পরিক্ষার জন্য রয়েছে।

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.