পাঠক সংখ্যা

  • 7,677 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

সিরাজদিখানে ঝুঁকির মধ্যেই চলছে বিদ্যালয়ে পাঠদান

অভিভাবকরা আছেন আতঙ্কে
ভাঙা ছাদ থেকে প্রায় প্রতিদিনই পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টি এলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এমন ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ৭৫নং চন্দনধূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। রয়েছেন পাঁচজন শিক্ষক।

বিদ্যালয়টি এমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অভিভাবকরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি পাকা ভবনের মধ্যে পশ্চিম দিকে চার কক্ষের ভবনটি প্রায় চল্লিশ বছর পূর্বে নির্মাণের পর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। ভবনটির প্রতিটি কক্ষের ছাদের বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায়ই খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা।

জানা যায়, ইতিমধ্যে পলেস্তারা খসে পড়ে ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বৃষ্টি এলেই ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এ অবস্থায় চার বছর ধরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকলেও দেখার কেউ নেই। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফায় জানানো হলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। বিদ্যালয় থেকে জানা গেছে, ১০টি কক্ষের প্রয়োজন হলেও জরাজীর্ণ দুটি ভবনসহ মোট দুটি ভবনে ৬টি কক্ষ রয়েছে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসতে হয়।

পাশাপাশি বিদ্যালয়ে বেঞ্চের সংকট রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মরিয়ম, রোকেয়া, আফিয়া, জিমি ও দিপা জানায়, ‘স্কুলে এসে সারাক্ষণ ভয়ে থাকি, কখন জানি মাথার ওপর প্লাস্টার, বিম ভেঙে পড়ে। বেঞ্চ কম থাকায় একটিতে সাত-আটজন বসি। নূসরাত জাহান ও ইসরাত জাহানের মা লাভলী বেগম বলেন, ‘আমার দুই সন্তান এ স্কুলের দুই শ্রেণীতে পড়ছে। এ বিদ্যালয়ে এবার নবম শ্রেণীতে উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করায় মেয়েকে নিয়ে ভয়ে ছিলাম।

এখন পঞ্চম শ্রেণীর মেয়ে ইসরাত জাহানকে নিয়ে ভয়ে থাকি। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহিদা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে পাঠদানের আগে আমরা প্রতিটি কক্ষের ঝুঁকিপূর্ণ পলেস্তারা মেঝেতে ঝরে পড়তে দেখি।’ প্রধান শিক্ষক জাহান আক্তার বলেন, ১৯৩৯ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ (এলজিইডি) কর্তৃক ভবনটি নির্মাণ করা হয়। চার বছর আগে ছাদের বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্লাস চলার সময় প্রায়ই ছাদের বিম থেকে খোয়া ঝরে পড়ে।

বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীরা থাকে ভয়ের মধ্যে। কর্তৃপক্ষকে ১৩ মে ২০১৫ সালে মৌখিক ও লিখিতভাবে বিষয়গুলো জানানো হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। চন্দনধূল বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. ইকবাল হোসন মৃধা ও স্থানীয় অভিভাবক ইছাপুরা ইউপির ১নং ওয়ার্ড সদস্য জাফরুল হাসান স্বপন যুগান্তরকে বলেন, ‘অভিভাবকরা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা আমাদের জানান।

নতুন ভবনের জন্য এরই মধ্যে দুই দফা লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।’ সিরাজদিখান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় ৭৫নং চন্দনধূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামটি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে, বরাদ্দ এলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

যুগান্তর

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.