পাঠক সংখ্যা

  • 6,950 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

পদ্মা সেতু জাদুঘর

আপনার এলাকায় কোন বন্যপ্রাণী বিশেষ করে বন্যপাখি মারা গেলে আমাদের জানান বা পচে যাওয়ার আগেই এটি জাদুঘরে পাঠিয়ে দিন। প্রাণীটি আধুনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ (মমি) করে রাখা হবে। তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো সম্ভব না হলে নমুনাটি পলিথিনে মুড়ে ডিপ ফ্রিজে রাখুন (প্রাণীটির জাদুঘরে রাখার উপযোগিতা ফোন করে জেনে নেয়া ভাল)। আপনার অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং সংগ্রহকারীকে বিনামূলে জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য সদস্য কার্ড দেয়া হবে। এমনই একটি প্রচারপত্র স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের ইমেলে পাঠিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধীনে পদ্মা সেতু জাদুঘর বাস্তবায়ন কমিটি।

প্রচারপত্রে বলা হয়, বাস্তবায়নাধীন পদ্মাবহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (সেতু বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) ‘পদ্মা সেতু জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এ মহতী কাজটি ফেব্রুয়ারি ২০১৬-এ শুরু হয়েছে এবং ডিসেম্বর ২০২০-এ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার আশা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি বিশ্বমানের জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সারাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সার্বিক সহযোগিতা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ জাদুঘরের সমৃদ্ধির জন্য আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি। প্রচারপত্রে জাদ ঘরের উেেদ্দশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, শিক্ষা ও গবেষণার জন্য দেশীয় প্রাণিবৈচিত্র্যের প্রমাণ/নমুনা ও তার জীবন ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা, আবহমান সমাজ জীবনের ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র সংগ্রহ ও প্রদর্শন করা, শিক্ষাসফর ও বিনোদনের অবারিত সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে প্রাণিবৈচিত্র্যের সঙ্গে পরিচিত করা, দেশের প্রাণিবৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী প্রচার ও পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করা।

সহযোগিতার জন্য পদ্মা সেতু সার্ভিস এলাকা-১, দোগাছি বাসস্ট্যান্ড, শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ অথবা ০১৭১৮ ২৩৭ ২০৪, ০১৭১১ ৯৬৪ ৪৫৬, ০১৭৭৭ ৩৩৮ ৬০৭, ০১৯২৩ ৫৬৫ ৮২৯ মোবাইলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে জাদুঘরে ১৯শ’র অধিক প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।

পদ্মা সেতু জাদুঘর সূত্রে জানা যায়, এ সব নমুনার মধ্যে স্তন্যপায়ী প্রাণী, জলজ, পাখি, সরীসৃপ প্রাণী, নদীচর কচ্ছপ ও হলুদ সাপ, উভচর প্রাণী, মাছ, মলাস্কা শ্রেণীর প্রাণী, শামুক. ঝিনুক, শুড়ওয়ালা শামুক, গঙ্গার ঝিনুক ও পরজীবী ঝিনুক, কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণী, প্রজাপতি ও পোকা, গোলাকার পাল্ম রেডআই, তসর রেশম গুটি মথ বিশেষ সংগ্রহ। কীট প্রতঙ্গের নমুনা ও গুবরেপোকা, ছারপোকা, মৌমাছি ও ভিমরুল, মাছি, তেলাপোকা, কানকোটারি, ফড়িং, ড্রাগন মাছি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাদুঘরে পদ্মার জেলেদের ব্যবহৃত জাল ও নৌকাও স্থান পেয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্ম জাদুঘরের মাধ্যমে পূর্বের নিদর্শন ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবে। দেশের যেসব প্রাকৃতিক জীবজন্তু আছে সেগুলো ধারণ করবে জাদুঘরটি।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.