পাঠক সংখ্যা

  • 6,950 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

জাপানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন ২০১৯ এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্মরণে সভা

রাহমান মনি: মহান স্বাধীনতার স্থপতি , জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলাম তনয় , বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক , সাবেক মন্ত্রী সম্প্রতি প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জাপান শাখা আওয়ামীলীগ।

১৩ জানুয়ারি ২০১৯ রোববার টোকিওর কিতা সিটি হিগাশি তাবাতা চিইকি সেন্টার এ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জাপান শাখা আওয়ামীলীগের সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ । এসময় মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ সভাপতি সনত বড়ুয়া এবং সাধারন সম্পাদক খন্দকার আসলাম হিরা। অনুষ্ঠানকে দুইটি পর্বে ভাগ করা হয় ।

প্রথম পর্বে ছিল প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল । সভার শুরুতে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা ওয়াহেদুল ইসলাম ।

প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এর জীবনালেখ্যে বিশদ আলোচনা করেন সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ ।

তিনি বলেন , সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম-এর মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন মহৎ-প্রাণ, সৎ, নীতিবান, দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ হারিয়েছে একজন আদর্শবান-ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রায় ইতিহাসের ধ্রুবতারা হয়ে বেঁচে থাকবেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তিনি আর বলেন , ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলের হাল ধরেন সৈয়দ আশরাফ। ওই বিশ্বস্ততার পুরস্কার হিসেবে পরে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আসেন তিনি। দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তিনি নিজে বর্তমান সাধারন সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের এর নাম প্রস্তাব করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । তার প্রতিদান সরূপ জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে নিয়ে যান ।

দ্বিতীয় পর্বে মহান স্বাধীনতার স্থপতি , জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালনে আলোচনায় অংশ নিয়ে দিবসটির তাৎপর্যে বক্তব্য রাখেন , চৌধুরী সাইফুর রহমান লিটন , চৌধুরী শাহীন , বাবুল তালুকদার , মরিতা মনি , দেবু বাগচি , মোল্লা আলমগীর হোসেন , তপন ঘোষ , মাসুদ আলম , আব্দুর রাজ্জাক , ডঃ রফিকুল ইসলাম , সেতু আলমগীর , জাকির হোসেন জোয়ারদার , মোল্লা ওয়াহেদুল ইসলাম , খন্দকার আসলাম হিরা , সনত বড়ুয়া প্রমুখ ।

এক পর্যায়ে আগামী প্রজন্মের মোল্লা মোঃ আমান এবং মোল্লা মোঃ আরমান অনুমতি নিয়ে স্টেজ এ উঠে সবাইকে অভিবাদন জানিয়ে “জয় বাংলা” শ্লোগান দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় । আমান এবং আরমান জাপানে জন্ম নেয়া দুই ভাই এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন , একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে মহাবিজয়ের ফলে বাংলাদেশ যখন আনন্দ-উল্লাসে উত্তাল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখনো পাকিস্তানি কারাগারে বন্দী। তাই , স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ অপূর্ণতা থেকে যায় ।

বাঙালি জাতির হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসায় সিক্ত পথ ধরেই ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে এলেন মুক্ত স্বদেশে। তাকে নিয়ে বিশেষ বিমানটি তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণের পর বঙ্গবন্ধু হাসিমুখে হাত তুলে সমবেত জনতাকে অভিবাদন জানান। তাকে দেখামাত্র উল্লসিত জনতা করতালি আর জয় বাংলা ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত করে তোলে। অনেকের চোখেই তখন দেখা যায় আনন্দের অশ্রু। দীর্ঘ ২৯২ দিন পর স্বাধীন বাংলার প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সেই অবিস্মরণীয় দিনে নেতা ও জনতার সেই পুনর্মিলন ছিল আনন্দ আর আবেগে উদ্বেল। প্রকৃতপক্ষে সেদিন-ই বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতার স্বাদ পায় ।

তারা আরো বলেন , লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু নয়া দিল্লিতে অবতরণ করেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অকাতরে সব রকম সাহায্য দেওয়ার জন্য তিনি ভারতীয় নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং দেশবাসীর মনোভাব সম্পর্কে সদাসজাগ বঙ্গবন্ধু একটি মুহূর্তের জন্যও ভুলে যাননি যে , বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি । তাই শ্রীমতি গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রথম সুযোগেই বঙ্গবন্ধু বলেন , দেশে ফেরার আগে আমি একটা ব্যাপার স্পষ্ট করে জেনে যেতে চাই । বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য কবে ফিরে আসবে ? জবাবে শ্রীমতি গান্ধী বলেন , আপনি যেদিন চাইবেন , সেদিনই । এই হলো বিশাল ব্যাক্তিত্বের বঙ্গবন্ধু । বিশ্ব ইতিহাসে এটি একমাত্র বিরল ঘটনা ।

আলোচকরা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নির্বাচন করার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন ।

বক্তারা ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ তে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভূমিধ্বস বিজয়ে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন , বিজয়ের আত্মতৃপ্তিতে আমাদের বসে থাকলে চলবে না । আমাদের চোখকান খোলা রাখতে হবে । দলের ক্ষতি বিরোধীরা করতে পারবে না , করলে দলে অনুপ্রবেশকারী এবং হটাৎ নেতা বনে যাওয়ারা-ই করবে । তাদের ব্যাপারে কেবল সজাগ ই শুধু নয় এখন থেকে প্রতিহত করতে হবে ।

সব শেষে সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ এর ধন্যবাদ জ্ঞ্যাপন এবং সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় ।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সালেহ মোঃ আরিফ সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার নিজ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ।

উল্লেখ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সালেহ মোঃ আরিফ মাসব্যাপী বাংলাদেশ সফর শেষে ১৩ জানুয়ারি ‘১৯ জাপান এসে পৌঁছেন এবং আলোচনা সভায় যোগ দেন ।

অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাসুদুর রহমান ।
rahmanmoni@kym.biglobe.ne.jp

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.