পাঠক সংখ্যা

  • 7,695 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

জয়ের পথে পদ্মা

সেতুর সর্বশেষ পাইলটি বসছে আজ রাতে
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল॥ পদ্মা এখন জয়ের দ্বার প্রান্তে। আর মাত্র বাকি একটি পাইল। পদ্মা সেতুর ২৯৪ পাইলের ২৯৩ পাইল বসে গেছে। বুধবার রাতে সর্বশেষ ২৯৩তম পাইলটি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে সেতুর ২৭ নম্বর খুঁটিতে। এই খুঁটির ৭ নম্বর পাইলটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেতুর ভিত তৈরি করার (পাইল) সবচেয়ে কঠিন কাজ সম্পন্ন হওয়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আর তাই প্রকল্প এলাকায় এখন আনন্দের ঢেউ। এই আনন্দ শুধু দেশী-বিদেশী প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মাঝেই নয়। আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পদ্মার দু’তীরসহ সর্বত্র।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাবিরুল ইসলাম খান বলেন, পাইল স্থাপনের ধিরিম ধিরম শব্দ আর শোনা যাবে না। এই অঞ্চলের মানুষ এই শব্দের সঙ্গে ছিলেন খুব বেশি পরিচিত। এই পাইল স্থাপনের শব্দ অনেকদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ত। আর বেশির ভাগ পাইলই স্থাপন হতো রাতের বেলায়। রাতের নীরবতা ভেঙ্গে সেই শব্দ আরও বহুদূর ছড়িয়ে যেত। পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, পরিচিত শব্দটি আর কানে আসবে না। তবে বড় চ্যালেঞ্জের কাজটি যে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে, এটিই হচ্ছে অনেক ভাল লাগার। সেতুর এই বিশাল পাইল ড্রাইভের কর্মযজ্ঞটি ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ভরা। উত্তাল পদ্মাকে জয় করার এই প্রচেষ্টা এখন সাফল্যে রূপ নিতে যাচ্ছে। তাই এই উপলক্ষে প্রকল্প এলাকায় সেলিব্রেশন হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ পাইলটি বসতে যাচ্ছে আজ (১৩ জুলাই শনিবার) রাতে।

২৬ নম্বর খুঁটির বাকি থাকা ৭ নম্বর পাইলের বটম সেকশন সম্পন্ন হয়ে গেছে। বুধবার বিকেলে এই পাইলের নিচের অংশ সম্পন্ন করা হয়। এরপর মাটি সরিয়ে সব ঠিকঠাক হওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে টপ সেকশনের টিউবটি ওঠানো হয়। এরপর ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ বিলম্ব হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে এই রিপোর্ট লেখার সময়ও বৃষ্টির কারণে ওয়েল্ডিং বন্ধ ছিল। সাধারণত ওয়েলডিংয়ে দুদিন প্রয়োজন হয়। ওয়েল্ডিং শেখ হওয়ার পর এনডিটি টেস্ট করেই আবার পাইল ড্রাইভ শুরু হবে। তাই ধারণা করা হচ্ছে আজ শনিবার সন্ধ্যার আগে থেকে সর্বশেষ পাইলটি ড্রাইভ শুরু হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, বৃহস্পতিবার ২৬ নম্বর খুঁটির ৭ নম্বর ট্যাম পাইলটির টিউব খাড়া করা হয়েছে। এখন ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছে। ওয়েল্ডিংয়ের পর একটি টেস্ট হবে। টেস্টটি করতে সময় প্রয়োজন হবে ছয় ঘণ্টা। এই টেস্টটি দিনের বেলা ছড়া করা সম্ভব নয়। এসব কারণেই বেশিরভাগ সময় টেস্ট এবং অন্যান্য কাজ দিনের বেলায় সম্পন্ন করা হয়। রাতের বেলায় পাইল ড্রাইভ করা হয়। তাই সেতুর অন্তত ৭০ ভাগ পাইল ড্রাইভ হয় রাতে বেলায়।

তবে কিছু কিছু পাইল দিনের বেলায় ড্রাইভ করা প্রসঙ্গে দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী বলেন, দিনে শুরু করে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে করতে সন্ধ্যা হলো। তাই সেদিন আর শুরু করা সম্ভব হয় না। পরদিন দিনের বেলা ড্রাইভ করা হয়। তাছাড়া দিনের বেলায় এনআরটি টেস্ট শেষ করে বিকেল ৪টা থেকে পাইল ড্রাইভ সাধারণত শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান সর্বশেষ পাইলটির বটম সেকশন সম্পন্ন হয়েছে। পাইলের ওপরের অংশটি অর্থাৎ টপ সেকশন পাইলিং আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে শনিবার সন্ধ্যার আগে থেকে। পরদিন ১৪ জুলাই রবিবার ভোরে এটি সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ২৯৪টি পাইলের মধ্যে সর্বশেষ পাইলটি বসানো নিয়ে তাই বিশেষ গুরুত্ববহন করছে।

মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে চীন থেকে আসা স্টিল প্লেট দিয়ে পাইল তৈরি করা হয়েছে। ৩ মিটার পরিধির একেকটি পাইল ১২০ মিটার পর্যন্ত নদীর তলদেশে গিয়েছে। এক লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার পানি প্রতি সেকেন্ডে প্রবাহিত হয়ে থাকে পদ্মা দিয়ে। কিন্তু পাইল ড্রাইভ এমনভাবে করা হয়েছে, যেন পাইলের ওপর পিলার টিকে থাকে শতবছর।

নদীর গভীর তলদেশে নরম মাটির স্তর। কিন্তু পাইল বসাতে গিয়েই দেখা দেয় বিপত্তি। তাই পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুর পরপরই মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে সরানো হয় শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে। এরপর ধীরগতিতে পদ্মা সেতুর কাজ চলতে থাকলেও প্রায় অর্ধেকের বেশি পিয়ারের (খুঁটি) নক্সা চূড়ান্ত করা যাচ্ছিল না। গত বছরের শেষ দিকে নক্সা পুনর্বিন্যাস করার পর দ্রুতগতিতে প্রমত্তা পদ্মার বুকে বসতে থাকে একের পর এক পাইল।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাইলগুলো বসানোর কাজ শেষ হলে এ বছরের মধ্যে চেষ্টা করা হবে সব ক’টি পিয়ারের নির্মাণ কাজ শেষ করতে। একই সঙ্গে ¯প্যান বসানোর কাজও চলবে।

এক প্রকৌশলী জানান, নতুন নক্সা চূড়ান্ত করার পর মূল সেতুর নির্মাতা চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কো¤পানিকে পাইল বসানোর কাজ শেষ করতে চলতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল।

নক্সা রি-ডিজাইনের পর এবারই প্রথম নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পাইল বসানোর কাজ স¤পন্ন হবে। নক্সা জটিলতার কারণে এর আগে পদ্মা সেতু কোন কাজই সময়মতো স¤পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর মাওয়া থেকে শুরু হয় পদ্মার সেতুর নির্মাণ কাজ। হ্যামার দিয়ে পাইল বসাতে গিয়ে ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিয়ারের কাজে সমস্যা দেখা যায়। এ কারণে ১৪টি পিয়ারের নক্সা চূড়ান্ত করা যাচ্ছিল না। সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাউই (সিওডব্লিউআই) ইউকে লিমিটেড। কাউই ইউকের বিশেষজ্ঞরা মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আরও কয়েকটি বিদেশী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ দলের কয়েক দফা বৈঠক হয়।

কাদামাটির পরই শক্ত মাটি না পাওয়ায় পদ্মা সেতুর ২২টি পিয়ারে একটি করে পাইলের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এসব খুঁটিতে ছয়টি পাইল অন্যান্য পিয়ারের মতোই রেকিং বা কিছুটা বাঁকা করে বসানো হবে। এই ছয়টি পাইলের মধ্যে ৭ নম্বর পাইল ভার্টিক্যাল বা সরাসরি সোজাভাবে বসানো হয়।

৪২টি পিয়ারের ওপর ৪১টি স্প্যানে গড়ে উঠবে পুরো পদ্মা সেতু। মূল নদীতে ৪০টি পিয়ার। নির্মাণকাজের শুরুতে মূল নদীর প্রতিটি পিয়ারে পাইলের সংখ্যা ছিল ছয়। আর দুই প্রান্তে ১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারে ১২টি করে মোট ২৪টি পাইল ছিল প্রথম নক্সায়। সব মিলিয়ে ৪২টি পিয়ারে পাইল ছিল ২৬৪টি। কিন্তু নদীর গভীর তলদেশে কাদামাটির স্তর থাকায় নতুন নক্সা করতে হয়। নতুন এই নক্সায় ১ ও ৪২ নম্বর পিয়ারের ১৬টি করে মোট ৩২টি পাইল করা হয়। আর ২২টি পিয়ারে সাতটি করে পাইল ১৫৪টি এবং ১৮টি পিয়ারে ছয়টি করে মোট ১০৮টি পাইল রাখা হয়। সব মিলিয়ে ২৯৪টি পাইলে ৪২টি পিয়ার থাকবে পদ্মা সেতু। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ১৪টি স্প্যান বসানোর পর পদ্মা সেতুর ২ হাজার ১০০ মিটার এখন দৃশ্যমান। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা যায়, মূল পদ্মাসেতুর ৮১ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ। আর গোটা প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৭১ শতাংশ।

দায়িত্বশীল প্রকৌশলী জানান, পদ্মা সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৩০টি পিলারের কাজ স¤পন্ন হয়েছে। এগুলো হলো ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৯, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২। চলতি ২০১৯ বছরের মধ্যে বাকি ১২টি খুঁটির কাজ স¤পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই আশা করা হচ্ছে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন করতে পারবে।

বিশ্বে এই প্রথম ॥ পদ্মা সেতুর কঠিন চ্যালেঞ্জ সাফল্যে পরিণত হলো খাঁজকাটা (ট্যাম) পাইল বসিয়ে। বিশেষ এই পদ্ধতিতে পাইল স্থাপন বিশ্বে এই প্রথম। পদ্মা সেতুর ১১টি খুঁটিতে বিশেষ এই পদ্ধতি ব্যবহার হলো। সেতুর এই ১১ খুঁটির (পিয়ার) ৭৭টি টিউব আবার ওয়ার্কশপে নিয়ে খাঁজকাটার কাজ করা হয়। ৩ মিটার ডায়ার প্রতিটি পাইল টিউবে ১০টি করে খাঁজ লাগানো হয়। এই খাঁজ দিয়েই সিমেন্ট মিশ্রণ চলে যাবে নদীর তলদেশের নরম মাটিতে। এই বিশেষ সিমেন্ট মিশ্রণ মাটিকে শক্ত ভিতে নিয়ে আসতে সক্ষম। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করছেন।

বিশাল বিশাল স্টিলের এই টিউবগুলোতে মজবুতভাবে খাঁজ স্থাপন করা হয়। এই খাঁজ স্থাপনের কারণে ৩ মিটার ডায়ার প্রতিটি পাইল টিউবের ডায়া বেড়ে ৩ মিটারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৩ মিলিমিটার। কারণ প্রতিটি খাঁজ ১.৫ মিলিমিটার। তাই দু’পাশ মিলে এর দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩ মিলিমিটার ডায়ার বৃদ্ধি হয়েছে। ট্যামগুলোর মুখের অংশ এমনভাবে চোখা রাখা হয়েছে, যাতে মাটিতে প্রবেশ সহজ হয়। তবে খাঁজসহ এই পাইল স্থাপনে হ্যামারের শক্তি বেশি ব্যবহার করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, ৩টি উচ্চক্ষমতার জার্মানি হ্যামার পাইল ড্রাইভ করছে। তবে এই ক্ষেত্রে খাঁজকাটা পাইল ড্রাইভ ড্রাইভ করছে সাড়ে ৩ হাজার কিলোজুল ক্ষমতার বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যামারটি।

প্রকৌশলীরা জানান, পাইল স্থাপনের পর এই খাঁজ দিয়ে হাইপ্রেসার সিমেন্টের মিশ্রণ পাইলের আশপাশের মাটিতে প্রবেশ করবে। তাই পাইলের পাশে অতিরিক্ত হিসাবে এই খাঁজের এক মিটার পর পর ছোট্ট আকারে অর্থাৎ ৮ মিলিমিটার একারের ছিদ্র রয়েছে। খাঁজটির সোজাসুজি এবং পাশাপাশি ৩টি করে ছিদ্র রয়েছে। প্রতিটি পাইল টিউবের ১০টি এমন খাঁজ দিয়ে এই সিমেন্ট মিশ্রণ প্রবেশ করবে। খাঁজের মধ্যে সেভাবেই ভেতরে ফাঁকা রেখে চ্যানেল করা হয়েছে। এগুলোর মূল টিউবের অতিরিক্ত। তাই আগের তৈরি করা টিউবগুলোর ফের ওয়ার্কশপে নিয়ে এই খাঁজ স্থাপন করা হয়।

আর এই পদ্ধতিতে সিমেন্ট প্রবেশ করানো হবে নরম স্তরের মাটিতে। প্রায় ১১০ মিটার দীর্ঘ এই পাইলের ৬০ থেকে ৬৫ মিটারে এই সিমেন্ট মিশ্রণ প্রবেশ করবে। তবে বাকি অংশে খাঁজ থাকলেও সেই স্থানে ছিদ্র রাখা হয়নি। তবে ওপর থেকে যেহেতু সিমেন্ট নিচে প্রেরণ করতে হবে তাই পাইলটির একেবারে প্রথম থেকেই অতিপোক্ত আকারের এই খাঁজ স্থাপন করা হয়েছে। আর এই খাঁজগুলো সরাসরি আনা হয়েছে চীনের বিশেষ ওয়ার্কশপে তৈরি করে। কারণ পদ্মা সেতুর ওয়ার্কশপে এমন শক্ত খাঁজ তৈরির মেশিন নেই। সমুদ্র পথে আসা এসব খাঁজ এখন স্থাপন হয় কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কশপে।

পাইল তৈরির ওয়ার্কশপে ব্যস্ততা থামেনি ॥ পদ্মা সেতুর পাইল সম্পন্ন প্রায়। যে একটি আছে সেটিও স্থাপনের জন্য ওয়েল্ডিং চলছে। তাই পাইল তৈরি করা মাওয়ার কুমারভোগের বিশেষায়িত ওয়ার্কশপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু বন্ধ হয়নি। এখন তৈরি হচ্ছে আবার আরও ৩২টি পাইল। এই পাইল সড়ক নেটওয়ার্ক নয় তৈরি করবে বিদ্যুত নেটওয়ার্ক। প্রমত্তা পদ্মার বৈচিত্র্যপূর্ণ স্রোতের মতোই মাটির তলদেশের স্তরেও নানা বৈচিত্র্যতা রয়েছে। তাই বিদ্যুত বিভাগ এই নদী দিয়ে বিদ্যুতের কোন লাইন স্থাপন করতে পারেনি। কন্ডিশন খুবই খারাপ। কারণ নদীতে বিদ্যুত লাইনের টাওয়ার বসানোর জন্য প্রয়োজন পাইল স্থাপন। কিন্তু এই নদীতে পাইল বসানোর জন্য এত বড় হ্যামার সংগ্রহ কঠিন। তাই এখন পদ্মা সেতুর হ্যামারেই পদ্ম নদীতে বসবে ৭টি টাওয়ার। এই ৭টি টাওয়ারের জন্য অন্তত ৩২টি পাইল স্থাপন করতে হবে। তবে এখনও নক্সাটি নতুন করে আপডেট করা হচ্ছে। এতে পাইলের সংখ্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। পুরনো ডিজাইওনে কোথাও ৪টি পাইল আবার কোথাও ৬টি পাইল ধরা হয়েছে। দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, চূড়ান্ত নক্সায় এই পাইলের সংখ্যা বৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি পাবে। পদ্মা সেতুর নক্সাকে অনুকরণ করেই এই ডিজাইন তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুত লাইনটি ৪শ’ কেভি পাওয়ার লাইন গ্রিড টু গ্রিড। শিমুলিয়া থেকে মাঝি কান্দিঘাট দিয়ে উঠে যাবে।

পিয়ারে ক্যাপ করে প্লাটফর্ম তৈরি করে দিবে সেতু বিভাগ। পরে এর ওপর টাওয়ার বসাবে বিদ্যুত বিভাগ। এই বিদ্যুতের টাওয়ার বসানোর বাজেট সেতুর বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। অর্থাৎ মূল সেতুর ব্যয়ের ১২ হাজারের ১শ’ ৩৩ কোটি টাকারই অন্তর্ভুক্ত।

সংযোগ সেতুর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে ॥ পদ্মা সেতুর দু’পারে আরও প্রায় তিন কিলোমিটার সংযোগ সেতুর (ভায়াডাক্ট) কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। জাজিরা প্রান্তের সব আই গার্ডার বসে গেছে। ৪২টি খুঁটির মধ্যে ৩৭টি খুঁটি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৫টি খুঁটিরও কাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে। মাথার অংশে কিছু বাকি আছে মাত্র। অন্যদিকে মাওয়া প্রান্তের ৩৯টি খুঁটির মধ্যে ২৭টি খুঁটি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১২টি খুঁটির কাজ এগিয়ে চলেছে। দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলী বলেন, আগামী ডিসেম্বরে পিয়ার বা খুঁটির আর কিছু বাকি থাকবে না। নদী এবং তীরের সংযোগ সেতুতে সবখানেই সবখুঁটি সম্পন্ন হবে। এদিকে ১৫ তম স্প্যান বসানোরও পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বিলম্ব হচ্ছে। ১৬ ও ১৭ নম্বর খুঁটিতে বসবে এটি।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.