সিরাজদীখানে বাঁশ ও বেতশিল্প হারিয়ে যাচ্ছে

ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবুল: এক সময় দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি হতো হাজারো পণ্য। গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি, ব্যবসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাঁশ ও বেতের তৈরি সরঞ্জাম ব্যবহার করত। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহূত হতো এসব আসবাবপত্র। সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছু। এর ব্যতিক্রম ঘটেনি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায়ও। জীবিকার প্রধান উৎস হিসেবে বাপ-দাদার এ পেশাকে এখনও আঁকড়ে ধরে রেখেছে উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মনিপাড়ার প্রায় ৪০টি ঋষি পরিবার। আর বাঁশ ও বেতই এসব সরঞ্জামের প্রধান উপকরণ। কিন্তু দিন দিন বাঁশ ও বেতের তৈরি পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের কারিগররা।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মনিপাড়ায় প্রায় ৪০টি পরিবার এ শিল্প ধরে রেখেছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি করেন দোলনা, ব্যাগ, পাখা, ঝাড়ু, টোপা, ডালি, মাছ ধরার পলি, খলিশানসহ বিভিন্ন প্রকার আসবাবপত্র।

আধুনিক যুগে বাজারে সহজলভ্য ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ও অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় এ শিল্পের অনেক কারিগর তাদের বাপ-দাদার পেশা থেকে সরে আসছেন। কারিগর নিরঞ্জন দাস বলেন, ‘আমার বাপ-দাদারা এ পেশায় ছিল। আমিও ৩৩ বছর যাবৎ এ পেশায় আছি। পণ্যের চাহিদাও ভালো। আমাদের এসব পণ্যের মূল কাঁচামাল হলো বাঁশ-বেত। বেত কিনতে হয় দূর-দূরান্ত থেকে। যে কারণে খরচ বেশি, লাভ কম। আমরা ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া, আড়ং এবং চট্টগ্রামে এসব পণ্য বিক্রি করে থাকি।’

রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন হাদি বলেন, ‘এ ইউনিয়নে মধুপুর গ্রামের মনিপাড়ায় ১০০ বছরের বেশি হবে প্রায় ৪০টি পরিবার বাঁশ ও বেতশিল্পের সঙ্গে জড়িত। আগে আরও বেশি ছিল; দিন দিন যেন হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্প। সরকার এ পেশার মানুষকে একটু সহযোগিতা করলে এ শিল্প টিকে থাকবে ও কারিগররা লাভবান হবে।’

সিরাজদীখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তাদের যদি ঋণের প্রয়োজন হয় তারও ব্যবস্থা করা হবে।’

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.