সিরাজদিখানে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হলেন সাধারণ সম্পাদক!

সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগের সম্মেলন
চাঞ্চল্যকর ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক যুবদল ইউপি সভাপতি রফিকুল ইসলাম তারনকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। আসিফ হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি তরুণ দেওয়ানও ওয়ার্ড সভাপতির পদ পেয়েছেন। এ নিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের সর্বত্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রথম অধিবেশনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে শোক প্রস্তাব করে অধিবেশন শেষ করা হয়। এরপর দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের প্রার্থী হতে আগ্রহীদের দাঁড়িয়ে প্রার্থী হওয়ার কথা জানাতে বললে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা আসিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক কোলা ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম তারন নিজের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ তারনসহ অন্য ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভোটারদের একটি রুমে ভোট দিতে আহ্বান জানান। স্লিপে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে বক্সে ফেলার জন্য বলা হয়। যাঁরা লিখতে জানেন না তাঁদের হয়ে স্লিপে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন এক তরফা ভোটের মাধ্যমে আসিফ হত্যা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম তারনকে সাধারণ সম্পাদক বিজয়ী ঘোষণা করেন।

নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আসিফ হত্যার অন্য আসামিদেরও ওয়ার্ড কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মহিউদ্দিন আহমেদের হস্তক্ষেপে। নাম ঘোষণার আগে সম্মেলনস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এদিকে অন্য দুজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছাত্র ও যুবলীগের রাজনীতি করলেও তাঁদের পরাজিত দেখিয়ে তারনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তাঁরা আরো অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা না মেনে সিরাজদিখান আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করা হচ্ছে।

আসিফ হত্যা মামলার বাদী হাবিবুর রহমান বলেন, ওয়ার্ড কমিটিতে যখন হত্যা মামলার আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তখনই বুঝতে পেরেছি প্রতিবাদ করলে বিপদে পড়তে হবে। তাই যা হওয়ার আদালতেই হবে।

২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল রাতে কোলা ডাকঘরের পাশে কোলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসিফকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ একদল সন্ত্রাসী। পাঁচ দিন পর ১৭ এপ্রিল ভোর ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ৭টায় মারা যান আসিফ। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে এই হত্যার বিচার দাবি করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে নিহত আসিফের বাবা হাবিবুর রহমান হাওলাদার হারুন ১৯ এপ্রিল বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলার ১২ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম তারন।

কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.