অযত্নে অবহেলায় পরে আছে শ্রীনগর শহীদ মিনার

আরিফ হোসেনঃ আর ৮ দিন পরেই মহান বিজয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে ঐদিন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি, শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃন্দ, শ্রীনগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসন, গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ,বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রী সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ছুটে যাবেন শহীদ মিনারে। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবেন। তারপর আবার অপেক্ষা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস,স্বাধীনতা দিবস সহ হাতে গোনা কয়েকটি দিনে সবাই শহীর মিনার মুখো হয়। কিন্তু সারা বছর শহীদ মিনার পরে থাকে অযতœ অবহেলায়।

শনিবার দুপুর ২ টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ ও থানার মাঝখানে অবস্থিত শহীদ মিনারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহীদ বেদীতে রোদে দেওয়া হয়েছে ডাবের খোসা, ঘুরে বেড়াচ্ছে ছাগল, বাধাহীন ভাবে ত্যাগ করছে মলমূত্র, বেদীর বামপাশে ফেলে রাখা হয়েছে অর্ধশত মেহগনী গাছ, পেছনে বহুদিনের সংরক্ষিত সিমেন্ট-কংক্রীটের বস্তা। সামনে নির্মানাধীন বহুতল ভবনের রক্ষিত বালু। এটি শ্রীনগর শহীদ মিনারের সারা বছরের চিত্র। বর্ষা মৌসুমের চিত্র আরো করুণ।

অথচ এই পথ ধরেই কার্যালয়ে আসেন শ্রদ্ধেয় মুক্তিযোদ্ধাগন, উপজেলা পরিষদে আসনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি মাহী বি চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মসিউর রহমান মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান জিঠু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহানা বেগম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, শ্রীনগর থানায় নিয়োজিত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অফিসার সহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ। তারা শহীদ মিনারের দিকে একবার নজরও দেননা। প্রশ্ন আসে এটি দেখার দায়িত্ব কার?

বাঙ্গালীর স্বাধীকার অন্দোলনের রোপিত বীজ ও বহু ত্যাগের প্রতিক শহীদ মিনারটি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন শহীদ মিনারটির চারপাশে বেষ্টনী দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর পর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা সহ দায়িত্ব প্রাপ্তরা একটু নজর দিলে শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.