মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 11,189 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

শ্রীনগরের নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্রী ভারতের শিলং-কলকাতা-গোয়া হয়ে ৪ মাস পর দেশে

আরিফ হোসেনঃ শ্রীনগর থেকে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্রী ভারতের শিলং-কলকাতা-গোয়া হয়ে ৪ মাস পর দেশে ফিরেছে। তাদের নিখোঁজ হওয়ার পর বর্ডার ক্রস করে ভারতের শিলং চলে যাওয়া, সেখান থেকে এক যুবকের সাথে কোলকাতা হয়ে গোয়া গিয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার পাতা এবং ৪ মাস পর দেশে ফিরে আসার বিষয়টি রহস্যের জন্ম দিয়েছে। দেশে আসার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারী শ্রীনগর থানা পুলিশ ওই ২ ছাত্রীকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের অভিবাবকদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে।

শ্রীনগর থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার উত্তর বালাশুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বাছারের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৪) ও প্রতিবেশী আবু কালাম মাদবরের মেয়ে কাকলী আক্তার গত ২ অক্টোবর সকাল ৬ টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায়ই আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ভাগ্যকূল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ২ ছাত্রীর ক্লুলেস নিরুদ্দেশের কোন কুল কিনারা করতে পারছিলনা পুলিশ।

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার এসআই আবুল কালাম ওই দুই ছাত্রীর বরাত দিয়ে জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমাইয়া ৬শ ও কাকলী ১৭শ টাকা নিয়ে গত বছরের ২ অক্টোবর ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর ছাড়ে। তারা বালাশুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আরাম পরিবহনের বাসে গুলিস্থান এসে রিক্সায় কমলাপুর যায়। সেখান থেকে ট্রেনে সিলেট। মাজারে রাত্রী যাপন করে পরদিন সকালে জাফলং চলে আসে। জাফলংয়ের একটি চা দোকানীর কাছে সুমাইয়ার স্বর্ণের কানের দুল ও কাকলীর নুপুর বিক্রি করে তারা ৫ হাজার টাকা পায়। পরে দোকানে বসে থাকা দালাল ধরে তারা জাফলং বর্ডার ক্রস করে ভারতে প্রবেশ করে। ভারতে প্রবেশ করে তারা শিলংয়ের গাড়ীতে উঠে। শিলংয়ে গিয়ে তারা নিজেদেরকে কলকাতা থেকে বেড়াতে আসা দুই বোন পরিচয় দিয়ে রাতে হোটেলে রাত্রী যাপন করতে চায়। কিন্তু কোন আইডি কার্ড না থাকায় তারা হোটেলের রুম নিতে ব্যর্থ হয়।

পরে মন্দিরে রাত্রী যাপন করতে চাইলে মন্দিরের লোকজন তাদেরকে অরবিন্দ আশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে রাত্রি যাপন করে পরদিন গৌহাটি গিয়ে ইয়াকুব নামের এক ট্রেনযাত্রীর সহায়তায় কলকাতার ট্রেনে উঠে। ৩ দিনের ট্রেন ভ্রমনের সময় তারা ইয়াকুবকে দেশ ছাড়ার বিষয়টি খুলে বলে। ভারতের গোয়া রাজ্যে কর্মরত শ্রমিক ইয়াকুব তাদেরকে কলকাতা থেকে ২ হাজার কিলোমিটার দুরে গোয়া নিয়ে যায়। সেখানে সুমাইয়াকে বিয়ে করে ইয়াকুব সংসার শুরু করে। কাকলীও তাদের সাথেই বসবাস করত। পরে কাকলীর জন্য ইয়াকুব পাত্র খুঁজতে শুরু করে। একজনের সাথে বিয়ের কথা পাকাপাকি হলেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে হয়নি। কাকলীর সাথে পরে পরিচয় হয় পশ্চিমবঙ্গের রাকিব নামের এক যুবকের সাথে। রাকিবের সহায়তায় কাকলী গত ২১ জানুয়ারী দিনাজপুর এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এরমধ্যে সুমাইয়া তার স্বামীর ফেজবুক আইডির মাধ্যমে তার মামার সাথে যোগাযোগ করে। এসময় সুমাইয়ার পরিবারও তাকে দেশে আসতে অনুরোধ করে। পরে সুমাইয়া তার স্বামী ইয়াকুবের সহায়তায় সিলেট এলাকা দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। বিষয়টি শ্রীনগর থানা পুলিশের নজরে এলে তারা দুই স্কুলছাত্রীকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়।

শ্রীনগর থানার এসআই আবুল কালাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঘোলাটে অবস্থায় ছিলাম। দেশের প্রতিটি থানায় ছবি সহ ম্যাসেজ দিয়েও কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলনা। তাদের ফিরে আসায় নিখোঁজ রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.