মুল সাইটে যাওয়ার জন্য ক্লিক করুন

পাঠক সংখ্যা

  • 11,693 জন

বিভাগ অনুযায়ী…

পুরনো খবর…

গুজব রটনার দায়ে ৭ যুবক গ্রেফতার

করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর দায়ে আরও দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। ঢাকার বাইরের দুইটি জেলা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর দায়ে এখন পর্যন্ত সাত যুবক গ্রেফতার হলো। আরও একজন শনাক্ত হয়েছে। তাকেও পুলিশী হেফাজতে নেয়ার চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে থাকা সাত যুবকের মধ্যে পারস্পরিক কোন যোগাযোগ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা ছাড়াও ঢাকার বাইরের সাতটি জেলা থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর তথ্য প্রমাণ মিলেছে। ওইসব জেলার সেসব এলাকা থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেখানে তুলনামূলকভাবে জামায়াত-শিবিরের আধিপত্য কিছুটা বেশি। যদিও করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে এখন পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতার কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ হাতে পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছে। ঢাকা থেকে ওই সাত জেলার পুলিশ সুপারদের বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও করোনাভাইরাস গুজব ছড়ানোর বিষয়ে অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগে আনা হয়।

ডিএমপির সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া জনকণ্ঠকে জানান, ইতোপূর্বে যে পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দৈনিক খবর, টুইটবাংলা ডট কম, অন্য আলোসহ বিভিন্ন নামে থাকা নানা মাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছিল। তাদের ছড়িয়ে দেয়া গুজবে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মুন্সীগঞ্জে এক পিতা ও তার এক ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

এমন গুজবের শেষ পর্যন্ত সত্যতা মেলেনি। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার তথ্য প্রমাণ মেলেনি।

অন্য আরেকটি ছড়িয়ে দেয়া গুজবে তারা বলেছে, পোল্ট্রি মুরগিতে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব আছে। পোল্ট্রি মুরগিতে যেহেতু করোনাভাইরাস আছে, এজন্য এই মুরগি খেলে মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

এ ব্যাপারে সরকারের প্রাণিসম্পদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে যোগাযোগ করেও তার কোন সত্যতা মেলেনি। এমন গুজবে কান দিলে পোল্ট্রি শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ত।

উপকমিশনার আ ফ ম আল কিবরিয়া জনকণ্ঠকে জানান, করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ওই পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রধরেই আরও দুই জনকে শনাক্ত করা হয়। তারা ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনা হয়েছে। আরও একজনকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে থাকা সাত জন এবং শনাক্ত হওয়া অপরজনসহ কারো নামই আপাতত প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনও কোন মামলা হয়নি। তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। যাতে ভবিষ্যতে তারা এমন গুজব না ছড়ায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে থাকা এবং শনাক্ত হওয়া অপরজনসহ আট জনই শিক্ষিত যুবক। কেন তারা কি উদ্দেশ্যে এমন গুজব ছড়িয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি। তাদের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আদর্শ সম্পর্কেও জানা যায়নি। তবে জানার চেষ্টা অব্যাহত আছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিউজ পোর্টালসহ যেসব মাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে, তার কাটতি বাড়ানোর জন্যই এমন গুজব ছড়িয়েছে বলে দাবি করেছে।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঢাকার বাইরে সাতটি জেলা থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি ওইসব জেলার কোন জায়গা থেকে গুজব ছড়ানোর কাজ চলছে, সে সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই সাতটি জেলার পুলিশ সুপারদের এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানো ঠেকাতে সরকারের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে অন্যান্য জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকদেরও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে জানান, যে সাতটি জেলার যে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে এবং হচ্ছে, ওইসব এলাকায় জামায়াত-শিবিরের প্রভাব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। যদিও এখন পর্যন্ত তদন্তে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত কিনা সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোন তথ্য প্রমাণ মেলেনি। তবে করোনাভাইরাস নিয়ে ছড়িয়ে দেয়া গুজবের পেছনে জামায়াত-শিবিরের ইন্ধন থাকা বিচিত্র নয়।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালিক বরাবরই বলে আসছেন, দেশে কোন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। চীন ফেরত যাদের মধ্যে এই ভাইরাস পাওয়ার সন্দেহ করা হয়েছিল, তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসায় তাদের দেহে কোন করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি।

প্রসঙ্গত, চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের হিসেব মতে করোনাভাইরাসে মৃত্যের সংখ্যা ২ হাজার ১০ জন। যার মধ্যে মঙ্গলবারই দেশটিতে ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরী স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)। সর্বশেষ ইরান নিয়ে এখন পর্যন্ত ২৯টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস।

Leave a Reply

You can use these HTML tags

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

  

  

  

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.