একজন প্রবাসী মায়ের সফলতার গল্প

রাহমান মনি: বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ ( সঃ ) বলেছেন , “একজন আদর্শ মা একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়”। আর ফরাসী সমর নায়ক মহাবীর নেপোলিয়ন দ্য বোনাপার্ট বলেছিলেন , “তুমি আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি শিক্ষিত জাতি দিবো”। একই সাথে নেপোলিয়ন আরো বলেছিলেন , “আমার অভিধানে ‘অসম্ভব’ নামে কোন শব্দ নেই”।

উপরের উক্তি গুলি যে মিথ্যে নয় তা প্রমান করে দেখিয়ে একজন আদর্শ মা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন পপি ঘোষ ( পপি রানী কর ) নামে জাপান প্রবাসী এক মা। তিনি প্রমান করেছেন যে , সন্তানের নৈতিক চরিত্র গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে অভিভাবক হিসেবে মায়ের গুরুত্ব কতোখানি। বিশেষ করে, বাস্তব জীবনে এর বিকল্প নেই।

জাপান প্রবাসীদের অতি পরিচিত মুখ পপি ঘোষ পূর্বের পপি রানী কর এবছর টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিভাগে পড়ার সুযোগ করে নেয়া‘রণজিৎ কুমার ঘোষ’ এর গর্বিতা মা। এছাড়াও তনুতা ঘোষ নামে তার আরও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

পপি ঘোষ নিজের খুব ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হয়ে নিজেকে মানব সেবায় নিয়োজিত করবেন। কিন্তু পড়াশুনা শেষ করার আগেই ভাগ্যের ফেরে ১৯৯৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবী নগর উপজেলার জীবনগঞ্জ বাজার এর জল্লী গ্রামের সন্তান, জাপান প্রবাসী তপন কুমার ঘোষ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ১৯৯৬ সালে স্বামীর কর্মস্থল দেশ জাপানে পাড়ি জমানোর ফলে সে আশা পূর্ণতা পায়নি। পূর্ণতা পায়নি প্রিয় স্বামীর প্রকৌশলী হ’বার স্বপ্ন, পরিবার বড় হওয়ায় আর্থিক স্বচ্ছলতা জনিত কারনে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ না ঘটায়।

একজন আদর্শ গৃহিণী একই সাথে একজন আদর্শ স্ত্রী হিসেবে নিজ এবং স্বামীর অপরিপূর্ণ স্বপ্ন সন্তানদের কাছ থেকে বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখেন পপি ঘোষ। স্বপ্ন বাস্তবায়নে পপি ঘোষ পরিকল্পনা মাফিক এগুতে থাকেন। তিনি জানেন তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন অর্থ। কারন, তিনি মনে করেন অর্থ ছাড়া সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করা যাবে না। সম্ভবও না। তাই, পরিকল্পনা মাফিক এগুতে হবে। জমাতে হবে অর্থ।

স্বামীর সাথে পরামর্শ করে ৭ বছর একনাগাড়ে পরিশ্রম করেন। সকাল ৯ টায় বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১১ টায় ফিরেন।

২০০২ সালের ১১ মার্চ তার কোল আলোকিত করে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। নাম রাখেন রণজিৎ কুমার ঘোষ। রণ অর্থ যুদ্ধ, আর জিৎ অর্থ জয়। অর্থাৎ যুদ্ধজয়ী বীর। এই যুদ্ধ জীবন যুদ্ধ । জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার যুদ্ধ।

যার নাম রাখা হয়েছে রণজিৎ, তাকে যে হার মানানো যাবে না। হার মানালে যে নামের প্রতি অবিচার করা হবে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত করাতেই হবে। সেই মোতাবেক পরিকল্পনা মাফিক এগুতে হবে।

একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করানো , ভালো শিক্ষকের অধীনে প্রশিক্ষণ করানো , সঠিক দিক নির্দেশনা ই একটি শিশুকে কেবল সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারে তা মা হিসেবে পপি ঘোষ ইতোমধ্যে রপ্ত করে ফেলেছেন । আর এই ব্যাপারে তিনি সহযোগিতা নিয়েছেন রণজিৎ এর সমবয়সী শিশুদের মা , আশপাশের অন্যান্য মা , সহকর্মী বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী জাপানী বন্ধুদের কাছ থেকে ।

সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য ছুটে গেছেন একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত , এক দ্বার থেকে অন্যদ্বারে । বিভিন্ন কোচিং সেন্টার , সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে গিয়ে কাউন্সেলিং করেছেন। পরামর্শ নিয়েছেন। লক্ষ্য একটাই , সন্তানকে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো। আর এই জন্য যা যা করা প্রয়োজন, ত্যাগ স্বীকার, অর্থ খরচ তা করতে সদা প্রস্তুত। ছয় বছর প্রাইমারী শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই পপি ঘোষ রণজিৎ কে একটু একটু গড়ে তুলেছেন একটি ভালো জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য । কারন জুনিয়র হাই স্কুল হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার মোক্ষম সময় । এই তিনটি বছর যদি সঠিক দিক নির্দেশনায় নিজেকে গড়া যায় তাহলে ভবিষ্যৎ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর বলেছিলেন তের-চৌদ্দ বছরের মতো এমন বালাই আর পৃথিবীতে আর নেই। জাপানেও এই বয়সটাকে ‘সুশিনকি বা হানকো তোশি’ বলা হয়ে থাকে। বিষয়টি পপি ঘোষের ভালোই জানা ছিল।

তাই, এই সময়টা মা ছেলের সম্পর্কটা বন্ধুর মতো করে পার করেন। যদিও পপি ঘোষ তার দুই সন্তানের সাথে সব সময় ই বন্ধুর মতো করেই গড়ে তুলেছেন। কারন, একজন আদর্শ মা জানেন সন্তানদের সাথে কেমন সম্পর্ক গড়ে তুললে সন্তান বিপথগামী না হয়ে সঠিক পথে চলে। তিনি এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তার বাবা কৃষ্ণ পদ কর এর কাছ থেকে। শ্রী কৃষ্ণ পদ কর ছিলেন ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। পিতা-কন্যার মধ্যে ছিল বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক। প্রাইমারী স্কুলে পড়াশুনাকালীন সময়ে পপি ঘোষ টার্গেট করেন রণজিৎকে কাইসে জুনিয়র হাই স্কুল কিংবা সুকু কুমা স্কুলে পড়াশুনা করাবেন। মোট ৭টি বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে রণজিৎ ৪টিতে উত্তীর্ণ হওয়ার গৌরব অর্জন করে । এর মধ্যে আবার ২টিতে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশুনার সুযোগও পেয়েছিল।

মায়ের ইচ্ছার কাইসে এবং সুকু কুমা স্কুলে স্বল্প নাম্বার এর জন্য সুযোগ না ঘটায় তৃতীয় পছন্দ হিসেবে সুগামু জুনিয়র হাই স্কুলে ভর্তি করাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। বাসা থেকে দূরের পথ , পড়াশুনার খরচ বেশী হলেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। কারন, সুগামু স্কুল কে বলা হয় জুনিয়র টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় বা টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই। এখানকার শিক্ষার্থীদের অনেকেই টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনার সুযোগ করে নেয়। এবছর ৭ জন শিক্ষার্থী টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার সুযোগ করে নিয়েছে । গতবছর এ সংখ্যা ছিল ৮ এ।

একই ভাবে তিনি বাসার অনতিদূরে তে-অ-শি কিন্টার গার্ডেন এবং শিমুরা দাই সান প্রাইমারী স্কুলে পড়াশোনা করান। একই সাথে মেধা যাচাইয়ের বিভিন্ন কোর্স, পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করান। এতে অতিরিক্ত বেশ খরচ হলেও তিনি কার্পণ্য করেননি মেধা বিকাশের স্বার্থে। আর এই অর্জনে রণজিৎ এর সাফল্য ঈর্ষনীয়। বিভিন্ন এইকেন , জাপানী কেনদো ও অন্যান্যতে পাওয়া সনদ , মেডেল, ক্রেস্ট বা পুরষ্কার রীতিমতো একটি প্রদর্শনী আয়োজন করার মতো।

এক এক অধ্যায় পার করে রণজিৎ কুমার ঘোষ সুগামু জুনিয়র হাই স্কুল এবং সিনিয়র হাই স্কুল শেষ করে এবছর বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াশুনার যোগ্যতা অর্জন করেন। মেধা অনুসারে নিজ যোগ্যতাইয় জাপানের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ( Tokyo University ) স্থান করে নেয়ার মেধা যাচাইয়ে অংশ নেয়ার আগে আরও দু’দুটি বিশ্ববিদ্যালয় কেইও ( Keio ) বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওয়াসেদা ( Waseda) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন করে নেয়। কিন্তু লক্ষ্য, ধ্যান, তপস্যা যার টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় তার যে অন্যখানে ভর্তি হওয়া অযথা অর্থ খরচ ছাড়া আর কিছু নয় একথাটি রণজিৎ এর ভালো করেই জানা ।

এক্ষেত্রে ক্লোজ আপ ওয়ান-তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ এর থিম সংগীতটি। “যদি লক্ষ্য থাকে অটুট বিশ্বাস হৃদয়ে হবেই হবে দেখা দেখা হবে বিজয়ে”জনপ্রিয় এই গানটি ব্রত হিসেবে কাজ করে।

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ হিসেবে গত ১০ মার্চ ‘২০ টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০ ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণায় রণজিৎ কুমার ঘোষ স্থান করে নেয়। আর এভাবেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে একজন মায়ের স্বপ্ন।

তবে, এই স্বপ্ন পূরণ এবং ছেলের স্বার্থকতার কৃতিত্ব পপি ঘোষ একক কৃতিত্বের দাবীদার নয় বলে জানান। তিনি বলেন, আমার ছেলেটি সব সময় আমাকে সাহায্য করেছে । আমি যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই চলেছে। সব চাওয়া পাওয়া বিসর্জন দিয়ে মায়ের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেকে গড়েছে। অন্যান্য বন্ধু বান্ধব যেখানে মোবাইল , ভিডিও গেইম নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে সেখানে রণজিৎ পড়াশুনায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে।

কৃতিত্ব দিতে চান স্বামী তপন কুমার ঘোষকেও । নিজে সকাল সকাল যখন কাজের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়তেন তখন স্বামী তপন ঘোষ সন্তান দু’টির দেখভাল করতেন। যদিও পপি ঘোষ সব কিছু রেডি রেখে যেতেন, তথাপি তপন ঘোষ নিজে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে কাজে যাওয়ার পূর্বে সন্তানদের ডে-কেয়ার / স্কুলে পাঠিয়ে সব ঠিক রেখে নিজ কর্মস্থলে যেতেন।

এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ে রণজিৎ এর শিক্ষকদের অবদান এর কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

কর্মজীবী প্রবাসী হিসেবে একজন মা কিভাবে তার সন্তান কে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব অর্থাৎ স্বপ্ন বাস্তবায়িত হ’লো জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে পপি ঘোষ জানান, অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন সম্ভব হয়নি। তাই, সন্তানের মাধ্যমে ইচ্ছা পূরণের স্বপ্ন দেখি। ছোট বেলা থেকে সেভাবেই গড়ে তোলার চেষ্টা করি। মা হওয়া সত্বেও সন্তানের সব স্বাদ আহ্লাদ কে তালাবন্দী করে শুধুমাত্র পড়াশুনায় মনোনিবেশ করিয়েছি। মোবাইল ব্যবহার, ভিডিও গেম বন্ধ সহ সব কিছুতেই বিধিনিষেধ আরোপ করেছি। শুধুমাত্র ফুটবল নেশা একেবারে বন্ধ রাখিনি। তবে নিদিষ্ট সময় এবং শর্ত সাপেক্ষে। তবে, আশ্বাস দিয়েছি যদি নিদিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারে তাহলে, অত্যাধুনিক মোবাইল ফোন কিনে দেয়া, বার্সিলোনা ক্লাবের ( তার পছন্দের ) খেলা উপস্থিত থেকে দেখানো সহ ইতালি , স্পেন ফ্রান্স ঘুরানো, পছন্দের ভিডিও গেম কিনে দেয়া সহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিই।

ছেলে সব শর্ত মেনে সব কিছু মনের সাধ মনে রেখে পড়াশুনায় মন দিয়ে মায়ের আশা পূরণ করেছে তাই সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি সচেষ্ট। ইতোমধ্যে চেষ্টাও করে যাচ্ছি। শুধু ইউরোপ ঘুরানোটা বাকী রয়েছে। কারন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা নিরাপদ নয়।

মা হিসেবে পপি ঘোষ রণজিৎ কে শুধুই পড়াশুনায় বেঁধে রেখেছেন তা কিন্তু নয়। বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেয়া সহ এবং জাপানী সংস্কৃতিতে পারদর্শী করে তুলেন। তিনি নিজেও সংস্কৃতিমনা এবং সাংস্কৃতিক কর্মীও ।

২০০৭ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ১ম প্রবাস প্রজন্ম, জাপান অনুষ্ঠানে রণজিৎ প্রথমবারের মতো স্টেজ পারফর্ম করে তাক লাগিয়ে দেয়। সেই থেকে প্রবাসীদের বিভিন্ন আয়োজনে রণজিৎ এর অংশগ্রহন অবধারিত হয়ে উঠে।

এদিকে দাদার এই কৃতিত্বে গর্বিতা ছোট বোন তনুতা ঘোষ ইচ্ছা ব্যাক্ত করেছে , দাদা যেহেতু ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে , তাই সেও ডাক্তার হয়ে মায়ের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করবে। আমার পরম সৌভাগ্য রণজিৎ এর মা পপি ঘোষ একদিকে যেমন আমাদের খুব কাছের তেমনি পাশের ও । তার স্বামী তপন ঘোষও বন্ধু তুল্য। রণজিৎ কে জন্মলগ্ন এবং খুব কাছ থেকেই দেখে আসা।

আজকের আলোচনার শেষ প্রান্তে আরেকজন চীনা দার্শনিক ও শিক্ষবিদেরুর কথা বলে শেষ করছি। তিনি বলেন, ‘তুমি যদি কম সময়ের মধ্য ফল পেতে চাও তবে মৌসুমী ফসলের চাষ কর, যদি দীর্ঘ মেয়াদী ফল পেতে চাও তবে ফলবান বৃক্ষ রোপণ কর এবং যদি সারা জীবণের জন্য ফল পেতে চাও তবে মানুষের চাষ কর।”এখানে মানুষের চাষ বলতে সঠিক পথে পরিচালিত/ পরিচর্যা করার প্রতি ইংগিত করা হয়েছে। যেটা পপি ঘোষ করে দেখিয়েছেন ।।

লেখক – সাপ্তাহিক জাপান প্রতিনিধি
rahmanmoni@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.