পদ্মাসেতুর শেষ খুঁটিও বসল, ‘এখন সময়ের ব্যাপার’

নভেল করোনাভাইরাসে দেশের পরিস্থিতি প্রায় অচল হলেও পদ্মা সেতুর ভিতের সব খুঁটি বসানো হয়েছে; মঙ্গলবার রাতে বসেছে ৪২তম খুঁটিটি। মঙ্গলবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে শেষ খুঁটির ফিনিশিং শেষ হয় বলে জানিয়েছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের। এদিন বেলা সাড়ে ১২টায় এ খুঁটির ওপরের অংশের ঢালাই শুরু হয়।

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর দ্বিতল সেতুর ওপর দিয়ে সড়কপথ ও নিচে থাকবে রেলপথ। সেতুর এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটির দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিটার। একেকটি খুঁটি ৫০ হাজার টন লোড নিতে সক্ষম।

প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, “পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

“এরপর কিউরিং চলবে, তিনদিনের মধ্যে এটি শক্ত আকার ধারণ করবে। সপ্তাহ কাল পরেই এটি লোড নেওয়ার সক্ষমতা পাবে।”

পদ্মা সেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, নদীর তলদেশের মাটির গুণগত বৈশিষ্ট্যের চ্যালেঞ্জের কারণে সেতুর নকশা বদল করায় কাজে কিছুটা দেরি হলেও অবশেষে সফলতা পাওয়া গেছে।

যে গভীরতার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল তা বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। এ নিয়েই বিপত্তি হয়েছিল সেতু নির্মাণে। এসব কারণে ২২টি খুঁটির (পিলার) কাজ আটকে যায়। শেষে ‘স্ক্রিন গ্রাউটিং’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এ পদ্ধতিতে নদীর তলদেশে কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় মাটি বদলে নতুন মাটি তৈরি করে পিলার গাঁথা হয়; এতেই সফলতা আসে বলছেন প্রকৌশলীরা।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা সেতুর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে সফলতার সাথে শেষ হওয়ায় খুশি প্রকল্পটির দেশি-বিদেশি কর্মীরা।

ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতুর ৪২টি খুঁটি ছাড়াও দুই প্রান্তের তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সেতুতে রয়েছে আরও ৯১টি খুঁটি। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে সংযোগ সেতুর ৪৪টি এবং জাজিরা প্রান্তের সংযোগ সেতুর ৪৭টি খুঁটি; মোট ১৩৩টি খুঁটির সবগুলোর কাজই শেষ।

মূল ভিতের কাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি অন্য কাজও পুরোদমে চলছে।

প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ৩৯টি স্প্যান মাওয়ায় পৌঁছেছে এবং ২৭টি স্থাপন হয়েছে।

তিনি মনে করছেন, বাকি ১৪টি স্প্যান আগামী অগাস্টের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদিও পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বশেষ স্প্যান বসার কথা রয়েছে আগামী ২ নভেম্বর।

এদিকে চীনের উহানে বাকি দুইটি স্প্যানও তৈরি হয়ে গেছে। উহানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির প্রভাব কেটে যাওয়ায় দ্রুতই এ দুই খুঁটিও মাওয়ায় আসবে বলে আশা তার।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূলসেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে চীনের ‘সিনো হাইড্রো করপোরেশন।’

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.