কসাই থেকে হলেন মেম্বার, এখন এলাকার আতঙ্কের নাম ইসমাইল

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর দিঘীরপাড় অঞ্চলের এক আতঙ্কের নাম ইসমাইল মেম্বার। এক সময় উপজেলার দিঘীরপাড় বাজারে তিনি কসাইয়ের কাজ করতেন। অসুস্থ মরা, পোড়া এবং চোরাই গরু কেটে বিক্রয় করাই ছিল তার কাজ। দেশে ইটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার পর গরিব, দুর্বল অসহায় কৃষকের এবং সরকারি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা শুরু করেন। যা এখনো অব্যাহত আছে।

বড়ভাই আবুল হাসেম লিটন সদর উপজেলার শিলই ইউপি চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি হয়ে ওঠেন বেপরোয়া। অপর ছোট ভাই সায়িদকে দিয়ে ইয়াবা এবং তার ছেলে জয়কে দিয়ে বিয়ারের কারবার করাচ্ছেন বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

অর্থের বিনিময়ে ন্যায়কে অন্যায়, অন্যায়কে ন্যায়ে পরিণত করে, বিচার-আচার, বাল্যবিয়ে, জমি ক্রয়-বিক্রয় সব কিছুতেই আছে তার আধিপত্য। পদ্মাচরের হতদরিদ্র অসহায় বিধবা, প্রতিবন্ধী মানুষের আবাদি জমি জবরদখল করে শুরু করেন আলুচাষ। আলু চাষের সুবাদে শুরু হয় কৃষকের শতশত বস্তা আলু চুরি। ধীরে ধীরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। বিগত ২ বছর আগে দিঘিরপাড় অঞ্চলের পদ্মার শাখা নদীতে মাটি ভরাট করে লোকজন পারাপারে ও আলু চাষিদের থেকে বস্তা প্রতি ৫০-৬০ টাকা চাঁদা আদায় করতেন তিনি।

এ নিয়ে সে সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বন্ধ হয় তার পদ্মার শাখা নদীতে মাটি ভরাট ও চাঁদাবাজি। তারপর রজতরেখা নদীর উৎপত্তি স্থল দিঘিরপাড় বাজার এলাকায় নদীটি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে পকেট বানিয়ে শুরু করেন বালুর ব্যবসা। পদ্মানদী থেকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে সে বালু এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করেন তিনি। এখনো রজতরেখা নদীর প্রবেশ মুখে বিশাল এক বালুর পকেটে পদ্মা নদী হতে বালু উত্তোলন করছেন তিনি।

এ ছাড়া দিঘিরপাড় অঞ্চলের পদ্মাপারের তার জমির ওপর দিয়ে পদ্মা নদী হতে ধরা শত শত জাটকা ইলিশ মাছ জেলেদের পাচার করতে সুযোগ করে দিচ্ছেন তিনি। বিনিময়ে প্রতিদিন জেলেদের কাছ হতে হাতিয়ে নিচ্ছেন ১৫-২০ হাজার টাকা।

রজতরেখা নদী দখল করে হয়েছেন ১৫ থেকে ২০টি দোকানের মালিক। দিঘীরপাড় বাজার সংলগ্ন পূর্বরাখী গ্রামের সেতুর সাথে ফিরোজা বেগম নামে এতিম এক নারী ও সোহাগ বেপারি নামে এক ব্যক্তির সম্পত্তি জবরদখল করে গড়ে তুলেছেন ৮ থেকে ১০টি দোকানঘর।

ইসমাইল মেম্বার কোটিপতি বনে যাওয়ার পর হতেই শুরু হয় তার চরিত্রহরণ। একে একে বিয়ে করেছেন চারটি। কিছুদিন আগে সাবেক তিন বউ রেখে পাশের বাড়ি এক প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননীকে পালিয়ে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলার পূর্বরাখী গ্রামের যে বাড়িতে বসবাস করেন সে বাড়িটিও তার নিজের নয় বলে শোনা যায়। এলাকার কিছু গরিব অসহায় মানুষের সম্পত্তি জবরদখল করে নির্মাণ করেছেন ওই স্থানে বিল্ডিং। এ বিল্ডিংয়েই আগে তৃতীয় স্ত্রী লাবণী আক্তার ও তার দুই ছেলে দুই মেয়ে নিয়ে থাকতেন।

সম্প্রতি চতুর্থ স্ত্রীকে বিল্ডিংয়ে নিয়ে আসলে শুরু হয় অশান্তি। দুই স্ত্রী এক বিল্ডিংয়ে থাকা নিয়ে শুরু হয়েছে সংসারে তুলকালাম। এলাকার মানুষ ভয়ে কিছু বলার সাহস পায় না। তার বড় ভাই শিলই ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটন তার অন্যান্য সকল কাজে সায় দিলেও চতুর্থ বিয়ে মেনে নিতে না চাইলে বিষ পানের হুমকি দেন ইসমাইল মেম্বার। তিনি তার সকল অন্যায় কাজের অংশিদার তার বড় ভাই চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটনকে এমনকি অন্য ভাই আত্মীয়-স্বজন কাউকেই পাত্তা দেয় না বর্তমানে। কারো বাধাই তিনি মানেন না। তার একটাই কথা- আমার টাকা আছে টাকা হলে প্রশাসনসহ বড় বড় নেতা সবাইকে হাত করা যায়, টাকা দিয়ে কেনা যায়।

ইসমাইলের বড় ভাই শিলই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হাসেম লিটন পদ্মা নদী হতে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ আমার ভাইয়ের বালু উত্তোলন বন্ধ রাখছি। তার ছোট ভাইয়ের ৪ বিয়ের কথা অস্বীকার করে ২ বিয়ের কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে তার ভাতিজা ও ভাইকে দিয়ে ইয়াবা কারবার করানোর কথা অস্বীকার করে জানান, তার ভাতিজা যদি মাদক কারবার করে তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ইসমাইল মেম্বার জানান, আমি কারো জমি দখল করি নাই। ৪টি বিয়ের কথা স্বীকার করে জানান, মুসলমান হিসেবে আমি ১১টা পর্যন্ত বিয়ে করতে পারি। মাদক কারবারে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.