শ্রীনগরের কয়েক তরুণের মানবিকতার গল্প

আরিফ হোসেনঃ কাজ নেই। নেই মানে কেউ কাজে নেয় না। প্রতিদিন সকালে শ্রীনগর চক বাজার ব্রিজের উপর শ্রম বিক্রির হাটে দাঁড়িয়ে থেকে নিরাশ হয়ে ফেরত চলে আসেন ডাক বাংলো মার্কেটের সামনে। বন্ধ দোকানের সামনের ধুলা বালি সরিয়ে গামছা বিছিয়ে বসে থাকেন। এদের সংখ্যা প্রায় দেড়শ। সবাই কাজের সন্ধ্যানে অন্যান্য জেলা থেকে শ্রীনগরে এসে আটকে পরেছেন।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষগুলোর ক্ষুধার জ¦ালাও। কখনো কখনো এক প্যাকেট বিস্কুট ১০/১৫ জনে ভাগ করে খান। প্রায় দিন এই বিস্কুট কেনার টাকাও থাকেনা। দিন শেষে মুখ গুলোর দিকে তাকানো যায়না। ক্ষুধার্ত এই মানুষ গুলোকে একবেলা খাবার দেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন উপজেলার হরপাড়া এলাকার সাইফুল,ইসমাইল,সিয়াম, লিংকন,রিপন,রাণা ও আকাশ। তাদেরকে সহযোগীতা করছেন এলাকাবাসী।

উদ্যোক্তাদের একজন সাইফুল ইসলাম জানান, ৪দিন ধরে আমরা তাদের এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা করছি। আজ শ্রীনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আরিফ ভাই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া আমরা কারো কাছ থেকে কোন সাহায্য নেইনি। যতদিন এমন অবস্থা থাকবে আমরা তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবো। খাবারের তালিকায় থাকছে খিচুরি, ভাত,ডিম, মাংস, ডাল। এক একদিন এক এক রকমের খাবার দিচ্ছি। আমরা নিজেরাই বাজার করছি, রান্না করছি। রান্না করা খাবার আলাদা আলাদা ভাবে প্যাকেট করে কর্মহীন এসকল মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছি। খাবার হাতে পেয়ে এসকল মানুষের মুখে যে হাসি ফুটে উঠছে তা স্বর্গের সুখের মতো।

আটকে পড়াদের মধ্যে উত্তর বঙ্গের মোঃ আসলাম নামে এক দিন মজুর জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে শ্রীনগরে কাজে আসেন। আলু উত্তোলনের পর আড়িয়ল বিলে কাজ করেন। কয়েক মাস এখানে থাকেন। কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠান। দেশের এই অবস্থায় বেশ কয়েকদিন হলো কেউ কাজে নিচ্ছেনা। এখানকার ভাইয়েরা যে খাবার দিচ্ছেন তা দুই বেলা ভাগ করে খাচ্ছি। নিজের জীবন বাঁচলেও নিজ এলাকায় বউ বাচ্চাদের জন্য কোন টাকা পাঠাতে পারছি না। খুব সমস্যার মধ্যে দিন কাটছে।

মোঃ আসলামের কথার সাথে সুর মিলিয়ে আটকে পড়াদের অনেকেই বলেন, যারা আমাদেরকে খাওয়নোর দায়িত্ব নিয়েছে আল্লাহ তাদের মঙ্গল করবেন। আটকে পড়াদের সবার আশা তারা যেন দ্রুত বাড়িতে ফেরত যেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.