এবার অ্যাকশনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা ও জনসমাগম প্রতিরোধে এবার মুন্সীগঞ্জে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সেনাবাহিনী এবং পুলিশ নিয়ে অ্যাকশনে নেমেছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার দিনভর জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেটগন সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় মুন্সীগঞ্জ শহর ও শহরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা ও জনসমাগম প্রতিরোধে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়েছেন। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে চায়ের দোকান ও বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ব্যক্তিদের জরিমানা করেছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মুন্সীগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্ণেল খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সামজিক দুরত্ব বজায় রাখা ও জনসমাগম প্রতিরোধ করতে আরও কঠোর হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। যে সমস্ত দোকানপাট নির্দেশনা অমান্য করে খোলা রাখছে বা খোলা রাখবে-তাদের কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করা হবে। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট বিগ্রেডের ‘১৯ বীর’ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা পদ্মা সেতুর নির্মাণের তদারকির কাজে নিয়োজিত।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনও সামাজিক বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা ও জনসমাগম প্রতিরোধে অ্যাকশনে নেমেছে। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের জরিমানা করা হয়েছে। এমনকি গতকাল শুক্রবার গজারিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা হাসান সাদী ত্রান বিতরণ সংক্রান্ত এক নির্দেশনায় উল্লেখ করেন, গণজমায়েত সৃষ্টি করে করোনা ঝুঁকি বৃদ্ধি করে যে সকল ব্যক্তিবর্গ ত্রান বা খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ওই নির্দেশনায় তিনি গণজমায়েত সৃষ্টি না করে ঘরে ঘরে ত্রান পৌছে দেওয়ারও আহবান জানান। এছাড়া শুক্রবার গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৬ হাজার টাকা ও ঘর থেকে বের হওয়ায় ৪ ব্যক্তিকে ৪৫০০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় চা-সিগারেটের দোকানদার মনির হোসেনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা, মোবাইলের দোকান খুলে মেশিনের কপি ও চা বিক্রি করার অপরাধে রুহুল আমিন নামের এক ব্যবসায়ীকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট হাসান সাদীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইউছুফ নামের এক ব্যক্তি হোটেলে চা-সিঙ্গারা খেতে যাওয়ার সময় ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে ১ হাজার টাকা, অপু নামের একজনকে ২ হাজার ও নারায়ন নামের একজনকে ১ হাজার টাকা ও রুবেল নামের এক যুবককে ৫০০ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গজারিয়া উপজেলা উপজেলা প্রশাসনের ন্যায় জেলার টঙ্গিবাড়ী, সিরাজদিখান, শ্রীনগর, লৌহজং ও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসনও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা ও জনসমাগম প্রতিরোধে অ্যাকশনে নেমেছে বলে জানা গেছে।

সদর থানা পুলিশের আহবান
সদর থানার ওসি-তদন্ত গাজী সালাহউদ্দিন জানান, সাধারণ জ্বর, সর্দি,কাশি বা অসুস্থতার জন্য কেউ যদি চিকিৎসা না পায় তাহলে (০১৭৬৯৬৯২০৭৬) মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক-তদন্ত গাজী সালাহউদ্দিন) এই নাম্বারে ফোন করতে অনুরোধ করা হইল

মুন্সীগঞ্জের খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.