টঙ্গিবাড়ীতে ৪ শিশুসন্তান নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন বিধবার

স্বামীহারা বিধবা গৃহবধূ রুবিনা বেগম চার শিশুসন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের কাছে গত ছয় মাস ধরনা দিয়ে সাহায্য পেয়েছেন মাত্র পাঁচ কেজি চাল। অর্ধাহারে-অনাহারে চার শিশুসন্তান নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে ১২ বছরের শিশুসন্তান হৃদয়কে ঢাকায় একটি দোকানে কর্মচারীর কাজে দেওয়া হয়। তার বেতনের দুই হাজার টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া দিয়ে যা থাকে তা দিয়ে সংসারের জিনিসপত্র কিনে খেয়ে-না খেয়ে কোনো রকমে শিশুসন্তানদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছেলের দুই হাজার টাকা রোজগারের ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায়। গত শনিবার টঙ্গিবাড়ীর হাসাইল গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা বেগম শিশুসন্তানদের নিয়ে তার দুর্বিষহ জীবনযাপনের এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিধবা রুবিনা বেগম জানান, পদ্মার তাণ্ডবে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার গারুরগাঁও গ্রামের দিনমজুর স্বামীর বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর রুবিনা দম্পত্তি হাসাইল গ্রামে জমি ভাড়া নিয়ে বসতি স্থাপন করে দিনমজুর স্বামীকে নিয়ে সুখেই কাটাচ্ছিলেন শিশুসন্তানদের নিয়ে।

গত বছরের ঈদুল আজহার দিনে দিনমজুর স্বামী আব্দুল বেপারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। স্বামীকে হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে যান রুবিনা বেগম। আর্থিক সংকটে পড়ে ১২ বছরের হৃদয়, ১০ বছরের মেয়ে রিয়া মণি, সাত বছরের ছেলে রমজান ও চার বছরের ছেলে রাব্বিকে নিয়ে সংসার চালাতে বিপাকে পড়েন রুবিনা।

বিধবা রুবিনা বেগম বলেন, হাসাইল-বানারী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদার ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আফজাল মেলকারের কাছে বহুবার গিয়ে পেয়েছি মাত্র পাঁচ কেজি চাল। এ ছাড়া আর কোনো সহযোগিতা করেননি তারা। অথচ হাসাইল গ্রামে ইউপি সদস্য আফজাল মেলকারের বাড়ির পাশেই একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করেন তিনি। তার অভাব-অনটনের সংসারে খবরের কথা ইউপি সদস্য আফজাল মেলকার জানলেও কোনো উদ্যোগ নেই।

জানতে চাইলে হাসাইল-বানারী ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদার জানান, রুবিনা হাসাইল গ্রামে বসবাস করলেও তিনি পার্শ্ববর্তী পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ভোটার। তবু তাকে গত বছর ১০-১৫ কেজি চাল দিয়েছিলাম। সামনে কোনো ত্রাণসামগ্রী বা অনুদান এলে ফের দেওয়া হবে।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.