শনিবার ২ জেলার ২ খুঁটিতে পদ্মাসেতুর ২৮তম স্প্যান বসছে

পদ্মাসেতুর ২৮তম স্প্যান বসছে আগামীকাল শনিবার (১১ এপ্রিল)। এই স্প্যানটি বসছে এমন দুইটি খুঁটিতে, যে দুইটি খুঁটি বসেছে দু জেলার সীমানায়। অর্থাৎ ‍দুই জেলার দুই খুঁটিতে বসছে স্বপ্নের সেতুর ২৮তম স্প্যানটি। এরই মধ্যে স্প্যানটি মাওয়া থেকে মাঝ নদীতে নিয়ে খুঁটির কাছে রাখা হয়েছে।

পদ্মাসেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেতুর ২৮তম স্প্যান মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলাকে সংযুক্ত করবে। বাকি স্প্যানগুলোর মতো এই স্প্যানের দৈর্ঘ্যও ১৫০ মিটার। তবে স্প্যানটি যে দুইটি খুঁটির ওপর বসবে, তার মধ্যে ২০তম খুঁটিটি প্রশাসনিকভাবে পড়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে, ২১তম খুঁটি মাদারীপুরে শিবচরে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন প্রকল্প এই পদ্মাসেতু। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে তিন জেলাকে স্পর্শ করেছে সেতুটি। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া থেকে শুরু হয়ে মাঝখানে মাদারীপুর এবং শেষ প্রান্ত শরিয়তপুরের জাজিরায় গিয়ে মিলেছে। মুন্সীগঞ্জের সঙ্গে মাদারীপুরের সংযোগটি হচ্ছে এই ২৮তম স্প্যানে।

শুধু নদীর ওপর সেতুটি ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। আর উভয় দিকে সড়কপথের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় সেতুটি ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

পদ্মাসেতু নিমাণকারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং (এমবিইসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ২৮তম স্প্যান মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে বের করে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তিয়ানহো নামের ক্রেনটি এটি তুলে নিয়ে গেছে ঠিক মাঝ নদীতে।

১১ এপ্রিল সকালে ২০ ও ২১ নম্বর খুঁটির ওপর ২৮তম স্প্যানটি বসিয়ে দেওয়া হবে। আর মাসের শেষ দিকে ১৯ ও ২০ নম্বর খুঁটির ওপর ২৯তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এর আগে, পদ্মাসেতুতে ৪১টি স্প্যানের মধ্যে ২৭টি স্প্যান বসে যাওয়ায় সেতুটি চার কিলোমিটারেরও বেশি দৃশ্যমান হয়েছে। বাকি রয়েছে ১৪টি স্প্যান বসানো। এ মাসে দু’টি স্প্যান বসানো শেষে বাকি থাকবে ১২টি স্প্যান।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি। বাকি দুইটি স্প্যান চীনে নির্মাণ করে রাখা হয়েছে। এখন সে দু‘টির ব্লাস্টিং ও পেইন্টিংয়ের কাজ চলছে। ২০ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে স্প্যান দু’টি বাংলাদেশে রওনা দেবে।

এদিকে, প্রকল্প এলাকায় স্প্যান ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে ১২টি স্প্যানের কাজ চলছে। এর মধ্যে দুইটি প্রস্তুত রয়েছে। বাকিগুলোর কাজ ১৫টি সেমি রোবট মেশিনের সাহায্যে চলছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ। ২০১৮ সালের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়নি। পরে নতুন করে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। নতুন পরিকল্পনায় আগামী বছরের জুনে শেষ হবে সেতুর কাজ। তখনই সেতুতে সড়ক ও রেলপথ চালু করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

মাঝখানে সেতুর কাজ একবছর পিছিয়ে যায় শুধু খুঁটির জটিলতায়। নদীর তলদেশে নরম মাটির স্তর থাকায় পদ্মাসেতুর ২২টি পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন করা হয়। গত ৩১ মার্চ সবশেষ ৪২ নম্বর খুঁটির কাজের মাধ্যমে সবগুলো খুঁটি নির্মাণ শেষ হয়।

পাশাপাশি মূল সেতুর ওপর রেলওয়ে ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছে। সব মিলিয়ে মূল সেতুর ৮৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সারাবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.