মুন্সীগঞ্জে নতুন তিনজনসহ করোনা আক্রান্ত ১০

মুন্সীগঞ্জে আরো তিনজনের শরীরে পাওয়া গেছে করোনা। তাদের মধ্যে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরেক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দু’জন। এই তিনজনই পুরুষ।

শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ৮ এপ্রিল সংগ্রহ করা ২১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ৯ এপ্রিল আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। এই ২১ জন থেকে তিনজনের পজেটিভ এসেছে। এই নিয়ে মুন্সীগঞ্জে মোট করোনা আক্রান্ত সংখ্যা ১০। এর মধ্যে দু’জন নারী।

লৌহজং উপজেলা ছাড়াও জেলার বাকি পাঁচটি উপজেলায়ই করোনা সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এখন সদরে ১, টঙ্গীবাড়ি ৪, গজারিয়া ৩, শ্রীনগর ১ ও সিরাজদিখান ১। গজারিয়ার তিন জনকেই এ্যাম্বুলেন্সে করে সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি ৭ জন এখন নিজ বাড়িতে আছেন। ১০ জনেরই শারীরিক অবস্থা এখন গুরুতর নয়। বাকি ৭ জনের চিকিৎসা কোথায় দেওয়া হবে সে ব্যাপারেও আজ সিদ্ধান্ত হবে।

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ বন্ধ ছাড়াও পুরো হাসপাতালটির কার্যক্রম সীমিত আকারে নিয়ে আসা হয়েছে। আক্রান্তদের বাড়ি-ঘরগুলো শনিবার সকালে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ জেলা লকডাউন করার ব্যাপারে এই রিপোর্ট লেখার সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক চলছিল।

এর আগে শুক্রবার মধ্য রাতে দুই নারীসহ সাত করোনা রোগী সনাক্ত খবর পাওয়া যায়। শুক্রবার মধ্য রাতে জরুরি ফোনে আইইডিসিআর মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জনকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। মুন্সীগঞ্জ, গজারিয়া, সিরাজদিখান, শ্রীনগর এবং টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় রাতেই সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার একজন নারী এবং সিরাজদিখান উপজেলায় আরেক নারী রয়েছেন। বাকি পাঁচ পুরুষের মধ্যে গজারিয়ায় দু’জন। তারা হলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) এবং আরেকজন উপজেলাটির একটি গ্রামের।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দু’জনই পুরুষ। অপরজন শ্রীনগর উপজেলার । গত ৭ এপ্রিল তাদের সোয়াব সংগ্রহ করা হয়। ৮ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য ১৬ জনের নমুনা ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এর মধ্য থেকেই ৭ জনের রিপোর্ট পজেটিভ। সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, এদের অধিকাংশই নারায়ণগঞ্জের লিঙ্কে সংক্রমিত বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে, সেকমো সংক্রমিত হওয়ায় আইইডিসিআর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন জানান, আপতত গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, পজেটিভ পাওয়া সকলের সাথেই আইইডিসিআর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাগণ কথা বলেছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুমন বণিক জানান, পজেটিভ দু’জনের নমুনা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। যদিও একজনের বাড়ি টঙ্গীবাড়ি উপজেলায়। এই দু’জনের সাথে কথা হয়েছে। তারা বাড়িতেই আছেন। তাদের বাড়ি শনিবার লকডাউন করা হয়েছে।

কালের কন্ঠ

=================

মুন্সীগঞ্জে ১০ জন করোনায় শনাক্ত, ২ গ্রাম ৯৩ বাড়ি লকডাউন

মুন্সীগঞ্জে ১০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি গ্রাম ও ৯৩টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া লকডাউন করা হয়েছে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ। গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় সীমিত আকারে চলছে সেবা কার্যক্রম।

আক্রান্ত ১০ জনের মধ্যে শুক্রবার মধ্য রাতে সাতজন ও শনিবার সকালে আরও তিনজনের করোনা শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, গত ৭ এপ্রিল ১৬ জনের নমুন সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য ৮ এপ্রিল ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার রাতে সাতজনের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। এছাড়া ৮ এপ্রিল সংগ্রহ করা ২১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ৯ এপ্রিল আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। এই ২১ জন থেকে শনিবার তিনজনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন আরও বলেন এদের অধিকাংশই নারায়ণগঞ্জের লিঙ্কে সংক্রমিত।

আক্রান্তদের মধ্যে সদর ও সিরাজদিখানে দুজন নারী, ৮ জন পুরুষ। লৌহজং উপজেলা ছাড়া জেলার বাকী পাঁচটি উপজেলায়ই করোনা সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এখন সদরে ১, টঙ্গীবাড়ি ৪, গজারিয়া ৩, শ্রীনগর ১ ও সিরাজদিখান ১।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান সাদি জানান, করোনা আক্রান্ত গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দুই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (সেকমো) কোয়াটার ও লক্ষীপুরা পুরো গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে। গজারিয়ায় আক্রান্ত তিন জনকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে শনিবার সকালে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার জানান, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ৩৫টি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এক জনকে কুয়েতমৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজন এখনও বাড়িতে রয়েছেন।

সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, আক্রান্তের বাড়িসহ আশপাশের ২০ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি এখনও বাড়িতে রয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার জানিয়েছেন, আক্রান্তের বাড়িসহ আশপাশের ২৬ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়িতেই আছেন।

শ্রীনগরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রহিমা আক্তার জানান, ফৈনপুর গ্রামটি সম্পূর্ণ লকডাউন করা হয়েছে। রোগীকে বাড়িতেই রাখা হয়েছে। আইইডিসিআর জানিয়েছেন পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা নিয়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারা জানিয়েছেন, চিকিৎসা কোথায় দেয়া হবে সে ব্যাপারেও শনিবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেলা লকডাউন করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক চলছিল।

ইত্তেফাক
==========================

মুন্সীগঞ্জে ১০ জন আক্রান্ত, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ

মুন্সীগঞ্জে দুই নারীসহ ১০ জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর দুটি গ্রাম ও ৯৩টি বাড়ি অবরুদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আক্রান্তদের মধ্যে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) থাকায় ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন।

শনিবার সকালে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ৭ এপ্রিল ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকৈ জানানো হয়, সাতজনের রিপোর্ট ‘পজিটিভ’ এসেছে।

ফাইল ছবিফাইল ছবিএছাড়া ৮ এপ্রিল আরও ২১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজনের করোনাভাইরাস পজিটিভ আসার খবর শনিবার সকালে পেয়েছেন বলে জানান সিভিল সার্জন।
তিনি বলেন, “এদের কয়েকজনের নারায়ণগঞ্জের লিংক পাওয়া যাচ্ছে। টঙ্গীবাড়ির একজরের মীরপুর থেকে সংক্রমিত হওয়ার তথ্য আছে।”

নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত ৭৫ জন করোনাভেইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন আটজন। নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্য জেলায় যাওয়া মানুষের মধ্যেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

এ কারণে নারায়ণগঞ্জকে বলা হচ্ছে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের ‘নতুন এপিসেন্টার’। পুরো জেলা ইতোমধ্যে অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা থেকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসার পর শুক্রবার মধ্যরাতেই মুন্সীগঞ্জ সদর, গজারিয়া, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও টঙ্গীবাড়ির উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ‘জরুরি নির্দেশনা দেন মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন।

আক্রান্তদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা এবং সিরাজদিখানের দুই নারী রয়েছেন। আটজন পুরুষের মধ্যে গজারিয়ার তিনজন। তাদের একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং অন্য দুজন স্থানীয় এক গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চারজন এবং শ্রীনগর উপজেলার একজনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

গজারিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদি জানান, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আক্রান্ত ওই চিকিৎসকসহ তিনজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি দুই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের (সেকমো) বাসা এবং লক্ষীপুরা গ্রাম ‘লকডাউন’ করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিকাংশ ডাক্তার হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে সীমিত আকারে।

টঙ্গীবাড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার বলেন, তার উপজেলায় ৩৫টি বাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজনকে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি তিনজনকে বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়েছে।

সদরের উপজেলায় আক্রান্ত নারীর বাড়িসহ আশপাশের ২০ বাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহম্মেদ বলেন, “ওই নারীকে তার বাড়িতেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।”

সিরাজদিখানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার জানান, সেখানে আক্রান্তের বাড়িসহ আশপাশের ২৬ বাড়ি অবরুদ্ধ করা হয়েছে। আক্রান্ত নারী আপাতত বাড়িতেই আছেন।

শ্রীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা আক্তার জানান, ফৈনপুর গ্রামটি এখন ‘সম্পূর্ণ লকডাউনে’। আইইডিসিআর জানিয়েছে, রোগীকে তারা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।

বিডিনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.