পদ্মাসেতু: মুন্সীগঞ্জ-মাদারীপুরের মাটি ছুঁয়েছে

পদ্মাসেতুর ২৮তম স্প্যান বসে এখন সেতু দৃশ্যমান হয়েছে ৪ হাজার ২শ মিটার। আর বাকি থাকলো পদ্মাসেতুতে ১৩টি স্প্যান বসানো। শনিবার ১১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় মাঝনদীতে ২০ ও ২১ নাম্বার খুঁটিতে বসানো হয় এটি। এটি এমন দুটি খুঁটিতে বসানো হয়েছে যার এক খুঁটি মুন্সীগঞ্জে আর অন্য খুঁটি মাদারীপুর জেলায়।

সেতুর ২৮ তম স্প্যান ওই দুই জেলাকে সংযোগ ঘটিয়েছে। মাত্র ১৫০ মিটার দূরত্ব হলেও ২০ নাম্বার খুঁটি প্রশাসনিকভাবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মধ্যে আর ২১তম খুঁটি মাদারীপুরে শিবচরে পড়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে তিন জেলাকে স্পর্শ করেছে। মুন্সিগঞ্জের মাওয়া থেকে শুরু হয়ে মাঝখানে মাদারীপুর এবং শেষ প্রান্ত শরীয়তপুরের জাজিরায় মিলেছে।

শুধু নদীর ওপর সেতুটি ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। আর উভয়দিকে সড়কপথের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় সেতুটি ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ।মাসের শেষ দিকে ১৯ ও ২০ নম্বর খুঁটির উপর ২৯তম স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, মূল সেতুর ৪১টি স্প্যানের মধ্যে মাওয়া এসেছে ৩৯টি। ২৭টি স্থাপন করা হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৫০ মিটার। অবশিষ্ট ২টি স্প্যান চীনে নির্মাণ সম্পন্ন করে রাখা। এখন সে দুটির ব্লাস্টিং ও পেইন্টিং কাজ চলছে। আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে এ দুটি বাংলাদেশে রওয়ানা দেবে। আর এখন স্পেন ফেব্রিকেশন ইয়ার্ডে ১২টি স্পেনের কাজ চলছে। এরমধ্যে দুটি প্রস্তুত আকারে রয়েছে। বাকিগুলোর কাজ ১৫ টি সেমি রোবট মেশিনের সাহায্যে চলছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ। ২০১৮ সালের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয়নি। পরে নতুন করে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। নতুন পরিকল্পনায় আগামী বছরের জুনে শেষ হবে সেতুর কাজ। তখনই সেতুতে সড়ক ও রেলপথ চালু করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।

মাঝখানে সেতুর কাজ একবছর পিছিয়ে যায় শুধু খুঁটির জটিলতায়। নদীর তলদেশে নরম মাটির স্তর থাকায় পদ্মাসেতুর ২২টি পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন করা হয়। গত ৩১ মার্চ সবশেষ ৪২ নাম্বার খুঁটির কাজের মাধ্যমে সবগুলো খুঁটি নিমাণ শেষ হয়। পাশাপাশি মূল সেতুর ওপর রেলওয়ে ও রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ চলছে। সবমিলিয়ে মূল সেতুর ৮৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সারাবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.