ডক্টরস ক্লিনিকে বাসা বেঁধেছে মরণ ব্যাধী করণা ক্যাভিট ১৯

ভয়ঙ্কর দিন অপেক্ষা করছে মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য। সুপার মার্কেটের একটু সামনেই সদর হাসপাতার রোডে অবস্থিত ডাক্টরস ক্লিনিক। এই ডক্টরস ক্লিনিকে বাসা বেঁধেছে মরণ ব্যাধী করণা ক্যাভিট ১৯।

ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাকির হোসেন ক্যাভিট ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালে কয়েকদিন যাবৎ ভর্তি রয়েছেন। কিন্তু আমাদের মুন্সীগঞ্জের কিছু ডাক্তার, কর্মচারী ও ডায়োগনস্টিক এসোসিয়েশনের সভাপতি পর্যন্ত মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জবাসীকে বিভ্রান্ত করেছেন বলে অভিযোর উঠেছে।

নোভেল করোনা ভাইরাস এ নারায়নগঞ্জ দেওভোগ যখন মহামারী আকার ধারণ করেছে তখন থেকে জাকির ও মিজান একই এলাকা থেকে মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিন ডক্টরস ক্লিনিকে আসা যাওয়া করে হিসেব নিকাশ করতো। ৫ থেকে ৬ দিন পূর্বে ক্যাভিট ১৯ এ সাসপেকটেড হয়ে ভর্তি হয়েছেন জাকির।

একাধিক সূত্র থেকে জানা সত্বেও জাকিরের পরিবার থেকে কেউই স্বীকার করেননি যে জাকির হোসেন কোর্মিটোলা হাসপাতালে করোনায় সাসপেকটেড হয়ে ভর্তি রয়েছে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে।

বিষয়টি তথ্য গোপন করে একাধিকবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তও করে এই পরিবারটি। অভিযোগ রয়েছে এর সাথে যুক্ত রয়েছেন ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের সভাপতি আয়নাল হক স্বপন, সিভিল সার্জন অফিসের এপিএস ২ মিজানুর রহমান ও সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপক কুমার রায়কে তার সেলফোনে জাকির হোসেন কুর্মিটোলা হাসাপাতালে করোনা ক্যাভিট ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন এমন তথ্য দেওয়ার পরে তিনি খোজ নেন আয়নাল হক স্বপন, সিভিল সার্জনের পিএস ২ মিজানুর রহমান ও সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদের কাছে।

তারা জানায় সে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হয়নি এবং করোনায় আক্রান্ত না। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে সত্যতা পান যে জাকির করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলায় ভর্তি রয়েছেন। তিনি জানান মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য এই তিনজনকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

বিষয়টি মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্য খুবই দু:সংবাদ হয়ে আসতেছে। কারণ জাকির ও মিজান নারায়নগঞ্জ দেওভোগ থেকে প্রতিদিন এসে অফিস করেছেন। এখন জাকির হোসেন যেহেতু ক্যাভিট ১৯ এ আক্রান্ত। সেহেতু ডক্টরস ক্লিনিকটি আজ রবিবার (১২এপ্রিল) যেকোন সময় প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ লকডাউন করা হবে এবং তার সংস্পর্শে যারা ছিলেন সকলে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহম্মেদ।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুমন বনিক জানান, জাকির হোসেন অনেক আগ থেকেই ক্যাভিট ১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তার পরিবার এবং কিছু অসাধু লোকজন তথ্য গোপন করেছেন। কুর্মিটোলা হাসপাতালে ক্যাভিট ১৯ পরীক্ষায় তার পজেটিভ এসেছে। অতএব ডক্টরর্স ক্লিনিকের সাথে যারা জড়িত ছিলেন তারা অতি শীঘ্র হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে যান এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সতর্কতার সাথে থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারুক আহাম্মেদ জানান, জাকির হোসেন ক্যাভিট ১৯ এ আক্রান্ত। তার পরীক্ষার রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে।

আজ রবিবার (১২এপ্রিল) যেকোন সময় ডক্টরস ক্লিনিক সিলগালা করে দেয়া হবে। এবং জাকিরের সংস্পর্শে যারা যারা ছিল সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে।

খোজ২৪বিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.