সরকারি চাল বিক্রিতে অনিয়ম ও পদ্মার শাখা নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবেদন করায় সাংবাদিক পরিবারের উপর হামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : মুন্সিগঞ্জের সদর উপজেলায় ১০ টাকা কেজি মুল্যের চাল বিক্রিতে অনিয়মের স্ট্যাটাস ফেসবুকে দেওয়ায় এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংবাদ করায় সংবাদিক পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের পূবরাখি এলাকায় ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলার ঘটনাটি ঘটান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের ছোটভাই ইসমাঈল বেপারি ও তার দলবল। এঘটনায় সাংবাদিক পরিবারের তিনজন আহত হয়েছে।

আহতরা হলেন, বিক্রমপুর টঙ্গিবাড়ী প্রেস ক্লাবের সদস্য ও দৈনিক অধিকারের জেলা প্রতিনিধি আরেফি রিয়াদ, তার মা ও ছোট বোন।

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিলই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বেপারীর ছোট ভাই ইসমাইল বেপারী, তার ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে পদ্মার শাখা নদী থেকে অবৈধভাবে খনন যন্ত্র (ড্রেজার) বসিয়ে মাটি উত্তোলন করছিল। এছাড়াও রজত রেখা নদী ভরাট ও দখল করে বালু ব্যবসা করছিল ইসমাঈল। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রথম আলো ,দৈনিক অধিকার ও কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে পর্যায় ক্রমে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন ছাপানো হয়। এতে করে এক সপ্তাহ আগে ইসমাইল বেপারীর খনন যন্ত্র জব্দ করে প্রশাসন। এ ঘটনার পর থেকে রিয়াদ স্থানীয় হওয়ায় বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। এছাড়াও ১০ টাকা কেজির মূল্যের চাল বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়ে রিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। এঘটনায় মঙ্গরবার দুপুরে চালের ডিলার আলি আজগর,ভূমিদস্যু ইসমাইল বেপারীর নেতৃত্বে শাহাজালাল দেওয়ান, সাইদ বেপারী, মুন্না, লাবনী, মুক্তাসহ ৮ থেকে ৯ জনের সন্ত্রাসী দল সাংবাদিক আরেফি রিয়াদের বাড়িতে ঢুকে আরেফি রিয়াদ,তার মা ও বোনকে গালিগালাজ দিতে থাকে। সাংবাদিক পরিবার প্রতিবাদ করলে, কিল,ঘুষি,লাথি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ইসমাঈলরা।

আরেফি রিয়াদ জানান, পূর্বরাখি গ্রামের ১০ টাকা মূল্যের চাল বিক্রির ডিলার আলি আজগর গত কয়েকদিন যাবৎ গ্রাহকের কাছ থেকে ৩০ কেজি চালের মূল্য ৩০০ টাকা নিয়ে গ্রহকদের ২৫ কেজি করে চাল দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে গ্রাহকরা আমার কাছে আভিযোগ করলে আমি আমার ফেসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দেই । এ ছাড়াও পদ্মার শাখা নদীর বালু লুটের সংবাদ করি। এ কারণে ইসমাইলরা আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালায় সন্ত্রাসীরা। মুঠোফোনে ছোট বোন ভিডিও ধারন করছিল। আমার বোনকে পিটিয়ে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া। পরিবারের আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন ইসমাঈল। তিনি বলেন, রিয়াদের সাথে আমাদের কোন ঝগড়া হয়নি। আমরা কাউকে মারধর করিনি।

এ ব্যাপারে শিলই ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম বলেন,ঝগড়ার বিষয়টি শুনেছি। মারামারি হয়েছে কিনা জানা নেই।এ সময় তিনি বলেন,তার ছোট ভাই তার প্রভাবে কিছুই করেনি। যা করেছে এ ব্যাপারে ইসমাঈল বেপারি নিজেই দায়ি। তবে ইসমাঈলের উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা কমিশনার(ভুমি) মেসবাউল সাবেরিন জানান, সংবাদ প্রকাশের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে আমি এবং টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা অভিযান চালিয়ে ইসমাঈলের ড্রেজার জব্দ করি। সে সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে আরেফি রিয়াদ সাথে যায়। রিয়াদের উপর হামলার নিন্দা জানান এই কর্মকর্তা।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান জানান, এঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। ইসমাঈল বেপারি খারাপ মানুষ সেটাও জানি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.