টোকিও সহ ৭টি প্রদেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা

রাহমান মনি: রাজধানী টোকিও সহ সাতটি প্রদেশে ( প্রিফেকচার ) জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনযো আবে। অন্যান্য প্রদেশ গুলি হচ্ছে কানাগাওয়া, চিবা, সাইতামা, হিয়োগো, ওসাকা এবং ফুকুওকা। ৮ এপ্রিল বুধবার থেকে এই জরুরী অবস্থা কার্যকর শুরু করা হয়।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ( কোভিড ১৯ ) মহামারির রেশ জাপানে বিস্তারলাভের প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ৭এপ্রিল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে আবে এই ঘোষণা দেন । মাসব্যাপী এই জরুরী সভা আগামী ৬ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে ।

এর আগে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্যানেল প্রধান অমি শিগেরু বড় বড় শহর গুলোতে জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপে স্বাস্থ্য সেবার ঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী কে লকডাউন কিংবা জরুরী অবস্থা ঘোষণার পরামর্শ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবে দৃঢ়তার সাথে লকডাউন এর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে জরুরী অবস্থার ঘোষণা দিয়ে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য শহর গুলোর মতো জাপানে লকডাউন করা হবে না। গনপরিবহন, জরুরী সেবাখাত, সুপারমার্কেট, আর্থিক খাত সহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবার জন্য মত প্রদান করেন।

তিনি বলেন, প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় জাপান স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তবে, অহেতুক বাহিরে সময় দেয়া , জনসংযোগ করা , অহেতুক ভীর সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।

এর আগে ১ এপ্রিল ‘২০ টোকিওর গভর্নর ইয়ুরিকো কোইকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবে’র সাথে সাক্ষাৎ করে টোকিওর পরিস্থিতি অবহিত করে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় জরুরী অবস্থা জারী বিবেচনার আহবান জানান। এই সময় তিনি বলেন, টোকিও বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। এখনি কোন পদক্ষেপ না নিলে টোকিওকে নিউ ইয়োর্ক, রোম কিংবা প্যারিসের মতো ভাগ্য বরণ করতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, জাপানের সংসদ গত ১২ মার্চ ‘২০ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে সীমিত সময়ের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার অনুমতি দিয়ে একটি বিল প্রধান সব কটি দলের সমর্থন নিয়ে অনুমোদন করেছিল। প্রধান বিরোধী দলসহ বিরোধী শিবিরের আরও বেশ কয়েকটি দল দেশের সার্বিক বিবেচনায় বিলটি সমর্থন করেছে।

আবের জরুরী অবস্থা ঘোষণার ফলে প্রাদেশিক সরকার গুলো নিজ নিজ এলাকার জনগণকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকার আহবানের ক্ষমতা প্রদানে সক্ষম হবে।

সর্বশেষ ( ১০ এপ্রিল ‘২০ শুক্রবার রাত ১১ টা ) তথ্য মোতাবেক জাপানে এপর্যন্ত করোনা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৫,৩৪৭ জন , এর মধ্যে ৭১৪ জন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছেন , আর ৮৮ জনের জীবন অবসান ঘটেছে ।

আর টোকিওতে একই সময় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭০৫ জন। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ১৮৯ জন আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছে ১০ এপ্রিল শুক্রবার। এসংখ্যা যে আনুপাতিক হারে বাড়বে তাতে সন্দেহ নেই। কারন, ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ছিল ১৭৮ জন এবং ৮ এপ্রিল বুধবার ছিল ১৪৪ জন। ( সূত্র – এন,এইচ,কে ওয়ার্ল্ড )

rahmanmoni@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.