মুন্সীগঞ্জে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে পেটালো কনস্টেবল

মুন্সীগঞ্জ শহরের শ্রীপল্লী এলাকায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারকে শ্রক্রবার নির্মমভাবে পিটিয়েছে বাড়ির ভাড়াটিয়া পুলিশ কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম। এই পুলিশ কনস্টেবল (নং ৫৪৭) মুন্সীগঞ্জ সদর ফাঁড়িতে কর্মরত। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান সালিন জানান, করোনা পরিস্থিতির জন্য সকলের স্বার্থেই বাড়িটির ফটক তালাবদ্ধ করা রাখা হচ্ছে। কেন তালাবদ্ধ করা হচ্ছে এই নিয়ে এই পুলিশ সদস্য বেলা আড়াইটায় প্রথমে বাড়িটির মালিক তার মা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শামীমা বেগমের সাথে অশালীন আচরণ করে। তখন হাবিবুর রহমান এসে প্রতিবাদ করতেই তুই তুকারি বলে তার সাথে আপত্তিকর আচরণ করেই আকস্মিক হাতে থাকা লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে এবং নানাভাবে আঘাত করে। কপাল কেটে দর দর করে রক্ত ঝড়তে থাকে। তার বৃদ্ধ মা চেষ্টা করে শেষ রক্ষা করতে পারেননি। এই সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে তার জন্যও হুমকি দেয় এই পুলিশ সদস্য। পরে রক্তাক্ত এই ইঞ্জিনিয়ার করোনায় লকডাউন অবস্থার মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছ থেকে জরুরি চিকিৎসা নেন।

সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্ত কনস্টেবল বলেন, “বাড়ির ফটকে তালা দেয়ার কারণে বাসায় যাওয়া-আসা নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল, তেমন কিছুই হয়নি।” তিনি জানান, এই বাড়িটিতে তিন মাস ধরে থাকেন, মুন্সীগঞ্জে চাকুরী করছেন ১৩ বছর ধরে।

এব্যাপারে সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান রাতে বলেন, এখনও কোন অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ওসি আরও বলেন, আমি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে এসেছি, আমাদের পুলিশ সদস্যের দোষ ছিল। বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যারও অবহিত আছেন। তার (কনস্টেবল রফিক) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাবিবুর রহমান সালিন ঢাকার মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তার বাবা প্রয়াত ব্যাংকার আব্দুল হান্নান একজন সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। ‘নিরীহ পরিবার’ হিসাবে শহরের তাদের সুপরিচিতি আছে। এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পর এই পুলিশ কনস্টেবলসহ আর কয়েক পুলিশ সদস্য তাদের বাসায় গিয়ে সরি বলে অভিযোগ না দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে গেছেন। কিন্তু এই পুলিশ সদস্য আমালযোগ্য অপরাধ করার পরও তাকে গ্রেফতার না করে, কেন রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে? প্রশ্ন পরিবারটির। পরিস্থিতি এখন এমন দাঁড়িয়েছে, পরিবারটি আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছে।

সভ্যতার আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.