রাস্তা নির্মানে অনিয়ম, ১৫৩ দরিদ্র ক্ষতিগ্রস্ত

মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে শ্রমিকদের পরিবর্তে বেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫৩ জন খেটে খাওয়া মানুষ।

জানা গেছে, উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নে ১৫৩ জন শ্রমিকের দৈনিক ২০০ মজুরি হারে ৪০ দিনে রাস্তাটি নির্মান করার কথা ছিল। কিন্তু বেকু মেশিন দিয়ে রাস্তাটি ৭ দিনে নির্মাণ করায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন উপকারভোগীরা।

স্থানীয়রা জানায়, এই প্রকল্পের রাস্তা পুনঃনির্মাণে ১৫৩ জন অতিদরিদ্র লেবার বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সভাপতির যোগসাজশে অতিদরিদ্র লেবারের পরিবর্তে বেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অতিদরিদ্র লেবাররা।

তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করায় নিম্নমানের রাস্তা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করে তারা বলেন, রাস্তার কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। যেখানে-সেখানে পড়ে রয়েছে মাটি। এমনভাবে রাস্তা নির্মান করা হয়েছে যেন চিংড়ির ঘের তৈরি করা হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য অমল কুমার বলেন, অতিদরিদ্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করি নাই কে বলেছে? শ্রমিক দিয়েই তো কাজ করেছি। যখন বলা হলো বেকুর ছবি ও বেকু দিয়ে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। তখন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, এখন কী করতে পারি আপনার জন্য? তবে প্রকল্পের বিল করানো হয়েছে এবং বিল অনুমোদনও হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান আশ্রাফ আলী বলেন, শ্রমিক দ্বারা আমি কাজ করেছি। বেকু মেশিন ছিল না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আইমিন সুলতানা রোববার নয়াদিগন্তকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা হলো উপকারভোগী অতিদরিদ্র ১৫৩ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে হবে। যদি বেকু দিয়ে কাজটি করে থাকেন, তবে তারা কোনো বিল পাবেন না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজটির ব্যাপারে কোনো তথ্যই জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, বিল কিভাবে অনুমোদন দেয়া হলো সে ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আগে জেনে নেই কোন বিলটা অনুমোদন হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.