একজন রনি ও তার বিজটেক আইটি

একুশ শতকের এই সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্ঞান সব কিছুই পরিবর্তনের ছোঁয়া পেয়েছে। বদলেছে ব্যবসার ধরন, বিপণনের ধরন। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের সাথে সাথে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে। সেই পরিবর্তনের সাথে নিজেদের প্রশিক্ষত করে চাকরির পেছনে না দৌঁড়ে অনেকেই গড়েছেন নিজের আলোকিত ভবিষ্যৎ।

চাকরিপ্রার্থী হয়ে গেছেন চাকরি দাতা। আজ গল্প শোনাবো এমনই এক স্বপ্নবাজ তরুণ উদ্যোক্তার। তিনি চাকরি করেন না, চাকরি দেন।

মোহাম্মাদ রনি, গ্রামের বাড়ি ঢাকার অদূরে (বিক্রমপুর) মুন্সিগঞ্জ জেলায়। বেড়ে ওঠা জাদুর শহর ঢাকাতেই। যৌবনের প্রথম থেকেই স্বপ্নবাজ এই তরুণ স্বপ্ন দেখতেন নিজে কিছু করবেন। ঢাকা কলেজ থেকে শেষ করেছেন বিবিএ, এমবিএ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অনলাইন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রথমে আইটি বিষয়ে।

এরপর চিন্তা করেছেন আইটিকেই পেশা হিসাবে নেবেন। ডিজাইনার হিসেবে শুরু করা প্রফেশনটি একটি ছোট সরকারি প্রোজেক্ট করার পর প্রাতিষ্ঠানিক রুপ ধারণ করে। এরপর থেকেই শুরু। শুরুতে অন্য নামে থাকলেও বর্তমানে BizTech নামে পরিচিত। দেশের পাশাপাশি কানাডা ও যুক্তরাজ্যেও বিজটেকের সেবা বিস্তৃত।

এই তরুণ উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠানে যে সব পণ্য/সেবা নিয়ে কাজ করেন, তার মধ্যে ওয়েব ডেভেলপিং, ডোমেইন, হোস্টিং, বাল্ক এসএমএস সার্ভিস, সফটওয়্যার সলিউশন এবং ডিজিটাল মার্কেটিং উল্লেখযোগ্য।

মোহাম্মদ রনি তার ব্যবসা শুরু করেন ২০১৬ সাল থেকে। একাই শুরু করলেও তার প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন আরো পাঁচজনকে।

আইটি সেবা নিয়ে কাজ করার সুবিধা হলো দৃশ্যমান অফিস না হলেও চলে। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা রনি। তিনি ভার্চুয়াল অফিস ব্যবহার করছেন প্রথম থেকেই।

নিজের শখকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া ও সাথে নিজের পরিচয় তৈরি করার লক্ষ্যেই নিজেকে উদ্যোক্তা হিসাবে তৈরি করেছেন তিনি। প্রশ্ন করা হয়েছিল, উদ্যোক্তা হিসাবে চ্যালেঞ্জ কী মনে করেন?

তিনি বলেন, ‘এই সেক্টরের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সময় মতো ক্লায়েন্টকে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া, আর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে অন টাইম কাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকের সন্তুষ্টির উপর আমরা অধিক মনোনিবেশের সাথে কাজ করি।’

যেহেতু অফিস নেই, দৃশ্যমান-তাই কর্মীদের পরিচালনা করা, সব পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন করা ও প্রথম দিকে ক্লায়েন্ট পেতে কষ্ট হতো তার। সেই ২০১৬ সালে স্বপ্নের শুরু ধীরে ধীরে আগাচ্ছেন নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য। নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন অনেক দূর। প্রবল ইচ্ছেশক্তি, মেধা, শ্রম আর হার না মানার মানসিকতাই তার সফলতার মূল।

তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে, উদ্যোক্তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা। যাতে করে, যারা নতুন তারা আইটিতে মনোযোগ না দিয়ে খুব সহজেই তাদের উদ্যোগের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে। এতে করে তাদের লক্ষ্য অর্জন অনেক সহজ হবে। একটু সমৃদ্ধ আইটি ফার্ম করা। যেখানে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য থাকবে সব সুযোগ-সুবিধা।

কোনো উদ্যোগ শুরু করার আগে অবশ্যই মনে রাখা দরকার বলে মনে করেন তিনি, কাউকে দেখে বা কারো কথায় সম্মোহিত না হয়ে, আগে নিজে চিন্তা করতে হবে। যে আসলে আমি কী করতে যাচ্ছি, আর আমি কী করতে পারব। চাইলেই উদ্যোক্তা হওয়া যায়, কিন্তু চাইলেই টিকে থাকা যায় না। তাই যা নিয়ে কাজ করব আগে সেটা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। নি

জেকে মাঠ পর্যায় নিয়ে যেতে হবে। এরপর স্বপ্ন দেখে সেটা সাহস করে পরিকল্পনায় নিতে হবে, সে বিষয়ে ট্রেনিং নিতে হবে। এরপর শুরু করতে হবে এবং সেটাকে কষ্ট হলেও ধরে রাখতে হবে। তবেই আসবে সফলতা।

স্বপ্ন দেখেন একদিন বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশ হবে। উন্নত দেশের মতোই ঘরে ঘরে উদ্যোক্তা তৈরি হবে। স্বপ্নবাজ এই তরুণ অনেক দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘একদিন নিজের দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে চাই। সেবাকে আরো পরিপূর্ণ করার মাধ্যমে।’

দেশ সেরাদের নিয়ে একটা টিম গঠন করা অন্যতম লক্ষ্য তার। যাদের সবার স্বপ্ন এক করে বড় কিছু করা। আইটি সেক্টরে বাংলাদেশের অনেক বড় একটা মার্কেট দেশের বাইরে। তাই দেশীয় গ্রাহকদের দেশীয় সেবার প্রতি আস্থা অর্জন করিয়ে দেশীয় ব্র্যান্ড তৈরির কাজ করতে চাই। এতে করে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, আর ভালো সেবা দিতে পারলে দেশীয় গ্রাহকরা অনেক ঝামেলা মুক্ত হবে। তবেই হয়তো যেই চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তৈরি হবে।

স্টার্লিং ডি মামুন
লেখক: তরুণ উদ্যোক্তা।
রাইজিংবিডি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.