মুন্সীগঞ্জে ১০ একর জমির ধান পানিতে ॥ দিশেহারা কৃষক

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ॥ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারায় ১০ একর জমির বোরো ধান এখন পানিতে। বৃষ্টিতে পুরো জমিতে পানি আর পানি। ধানের গলা পর্যন্ত পানি ঢুকেছে। জমি আর পাশের খালের পানি এখন একাকার। বৈশাখের শুরুতে জমিতে পানি ঢুকে পড়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে কৃষককুল। এখনকার ধানচাষীরা এখন দিশাহারা। আধারা ইউনিয়নটির জাজিরার বসারচর ব্রিজ সংলগ্ন পুরো ধানের বিলে পানি থৈ থৈ করছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রবিবার দুপুরে ধান খেতের পাশের সড়কে অবস্থান করছেন কৃষকরা। কি করবেন দিশা পাচ্ছেন না। এখন ধান পাকার সময়। জমির সব ধান পাকেনি। মাঝে মাঝে কিছু ধান পেকেছে আবার কিছু ধান কাঁচা। কাঁচা-পাকা সংমিশ্রণ থাকায় ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় কৃষক মোঃ সাফা কাল বলেন, এই বিলের সব ধানের জমিতেই এখন পানি। উঠতি ধান ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। কারণ হিসেবে জানান, এখন ছিল ধান কাটার মৌসুম। কিন্তু জমির ধান-পাকা আর কাঁচা। এই কাঁচা পাকা ধানের কারণ বের করতে পারছেন না এই অভিজ্ঞ কৃষক। তিনি বলেন, বেশি দামে বিএডিসি ভাল বীজ এনে রোপণ করলাম। আর সেই বীজের যদি এই দশা হয়, আমরা যাব কোথায়? তিনি বলেন, এলাকার চাষীরা বিএডিসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই অঞ্চলের ডিলার হারুন মুন্সীর কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে। কিন্তু আমাদের বীজ ভাল দেয়নি। মিশানো বীজ দেয়ার কারণে আমার এখন সর্বস্ব হারাতে বসেছি। এই ধান চাষে সব টাকা পয়সা খরচ করে, পথে বসার উপক্রম। কৃষক সাফা আরও বলেন, প্রতি বছরই এই বিলে আমরা ধান চাষ করি। কিন্তু এমন সর্বনাশ এর আগে আর হয়নি। পানি ধানের গলায়। কিন্তু পুরো ধান না পাকায় কাটা যাচ্ছে না। বড় মুশকিলে আছি এখন। এখানে প্রায় ১০ একর ধান জমির এই অবস্থা। আমাদের এই ধান ঘরে তুলতে পারব কিনা তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।

কৃষকের এই অভিযোগ নিয়ে কথা হয়-ডিলার হারুন মুন্সীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বিএডিসির ইনটেক ধান বীজ বিক্রি করেছি। যদি কোন সমস্যা থাকে এর পুরো দায়-দায়িত্ব বিএডিসির। আমাদের নয়। আমরা সামান্য এই বীজ বিক্রি করেছি মাত্র। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মোঃ হাবিবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, বিএডিসির ধান বীজের জাতে মিশ্রণ ছিল বলেই প্রাথমিকভাবে এমনটি মনে হচ্ছে। মিকচার বীজ ছাড়া এমন হওয়ার কথা নয়। তারপরও আমরা খোঁজ খবর করে দেখছি। তিনি বলেন, শতভাগ ধান পাকার জন্য অপেক্ষা না করে ৮০ শতাংশ পাকার পরই ধান কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বোরো ধানের এক থেকে দেড় ফুট পানি জমলেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর এই পানি বর্ষার পানি নয়, বৃষ্টির পানি জমেছে। রোদ উঠলেই এই পানি কমে যাবে। তাই এক্ষুণি ক্ষতির বিষয়টি বলা যাবে না। তিনি বীজের বিষয়টি নিয়ে বিএসিডি ভাল বলতে পারবে বলে জানান। মুন্সীগঞ্জ বিএডিসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক রুহুল কবির এই প্রসঙ্গে বলেন, বিএডিসি’র বীজে এমন হওয়ার কথা নয়। কৃষক হয়তো সময় মতো রোপণ করেনি। ধানের চারা ঠিক সময় বা বেশি বড় করে লাগালে সমস্যা হতে পারে। জমির কিছু ধান কাঁচা আর কিছু ধান পাকা, বীজের সংমিশ্রণ কিনা এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ধান বীজের সমস্যা হলে ধানের চারাই গজাতো না। পুরো দায় তিনি কৃষকের ওপর চাপিয়ে দেন। কিন্তু ভুক্তভোগী কৃষকরা বলেন, যুগের পর যুগ ধরে তারা ধান চাষ করেন, কখন ধান রোপণ, চারা তৈরি সবই তারা অভ্যস্ত। একই সময়ে ধান রোপণ হলো একই জমিতে একই বীজে। সেখানে এমন কেন হবে-মাঝে মাঝে ধান একদম কাঁচা আবার পাকা।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.