করোনায় পাল্টে যাচ্ছে পেশা

আব্দুস সালাম: মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে মানুষের বাড়ি বাড়ি পত্রিকা বিলি করতেন মোহাম্মদ মোস্তফা (৪৫)। করোনা ও সাধারণ ছুটিতে বন্ধ হয়ে যায় তার পত্রিকা বিলির কাজ। বন্ধ হয় আয়ের পথও। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী। আছে সংসার খরচ। সব মিলিয়ে নিরুপায় হয়ে পেশা পরিবর্তন করে ফুটপাতে ফল বিক্রি শুরু করেন তিনি। পরিবার নিয়ে একমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকাই বড় কথা।

সিরাজদিখান বাজার থানা সংলগ্ন মুরগির হাটের মিষ্টির দোকোনের পাশেই মোস্তফার অস্থায়ী ফলের দোকান। সোমবার দুপুরে মোস্তফার দোকানে গিয়ে দেখা গেল; খেজুর, আপেল, বেদানা ও মাল্টা বিক্রি করছেন তিনি।

জানালেন, বাড়ি অন্য জেলা হওয়ায় সরকারি-বেসরকারি কোনো সাহায্য পাননি। মোস্তফার বাড়ি শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার চরখোরতলা গ্রামে। জীবিকার অন্বেষণে সিরাজদিখানে আসেন তিনি। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই এলাকার মানুষের কাছে খবরের কাগজ পৌঁছে দেয়া যেন তার নেশায় পরিণত হয়েছিল।

জানালেন, দিনে মাত্র ৫০০ টাকা করে প্রতি মাসে তার আয় ১৫ হাজার টাকা। সামান্য এই অর্থ দিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলেসহ পাঁচজনের সংসার চলে। মানুষের কাছে সংবাদ পৌঁছে দেয়া তার নেশা হওয়াতে অন্য পেশায় যাওয়ার চিন্তাও করেননি তিনি।

কিন্তু বাস্তবতা তাকে ঠিকই বুঝিয়ে দিল ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়’। তবে অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা ও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে সব করতে প্রস্তুত বলে জানালেন মোস্তফা।

করোনার ধাক্কায় পেশা পাল্টানোর এই গল্প শুধু মোহাম্মদ মোস্তফার নয়। তার মতো স্বল্প আয়ের অনেকেই জীবিকার তাগিদে বেছে নিয়েছেন নতুন নতুন পথ। এখন তাদের কেউ রিকশাচালক, কেউ সবজি বিক্রেতা, কেউ গলি গলি ঘুরে মাছ বিক্রি করছেন, আবার কেউ ফলমূল। অনেকে মাস্ক, গ্লাভসের মতো মৌসুমি ব্যবসাও শুরু করেছেন।

দফায় দফায় বাড়ছে সাধারণ ছুটির মেয়াদ। করোনার সামাজিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।

এ অবস্থায় ঘরবন্দী হয়ে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন পেশার নিম্ন আয়ের মানুষ। এমনি আরেকজন সিরাজদিখান বাজারের চা বিক্রেতা শিবু দাস। চায়ের দোকানের সামনেই তিনি সবজি বিক্রি শুরু করেছেন।

শিবু জানান, করোনা কারণে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে চা দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে বসেছিলেন। কখন আবার চা দোকান খুলবে তার ঠিক নাই। তাই পেটের তাগিদে চায়ের দোকানের সামনেই কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় সবজী নিয়ে বিক্রি করতে বসেছি। দুই মেয়ে স্ত্রীর মুখে খাবার তো দিতে হবে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.