করোনা আতঙ্কে হাসপাতালের আয়াকে গ্রামছাড়া করল এলাকাবাসী

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত সাখিনা বেগম (৩৮) নামে এক আয়াকে হাসপাতালে কাজ করার কারণে গ্রামছাড়া করেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনার পর এবার তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালীরা।

ভুক্তভোগী ওই আয়া জানান, তার স্বামী নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের আলীপুরা গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি। সম্প্রতি গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্টাফ কোয়াটারের কয়েকজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিতে থাকে এলাকার প্রভাবশালী লোকজন।

ফলে বাধ্য হয়ে গত ৮ দিন যাবত বাড়ি ছেড়ে হাসপাতালেই থাকছেন তিনি। এবার গত কয়েকদিন ধরে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীর চাপে বাড়িওয়ালাও তাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলছেন। এমতাবস্থায় বৃদ্ধ মা, প্রতিবন্ধী ভাই ও দুই সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

এদিকে সরেজমিনে আলীপুরা গ্রামে গিয়ে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমাদেরকে বারবার বাড়ি ছাড়ার জন্য বলা হচ্ছে । এছাড়া গ্রামের প্রবেশমুখসহ অন্তত তিন জায়গায় রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় অসুস্থ রোগী বা জরুরি প্রয়োজনে কেউ গ্রামের বাইরে যেতে পারছে না।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ইকবাল হোসেন জানান, করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। তবে রাস্তা বন্ধ করতে বলা হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান সাদী জানান, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যাতে কোনোভাবে হয়রানি করা না হয় সে লক্ষ্যে একটি আদেশ প্রদান করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি বা লোকজন ওই আয়কে গ্রামছাড়া এবং তার পরিবারের লোকদের বাড়িছাড়া করার হুমকি দিয়ে থাকে, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গজারিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: আমিরুল ইসলাম জানান, যারা এ ধরনের কাজ করেছেন তারা দেশের শত্রু। স্বাস্থ্য সেবার সাথে যারা সংশ্লিষ্ট আমাদের প্রয়োজনেই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ওই আয়া যাতে নির্বিঘ্নে হাসপাতলে যাওয়া-আসা করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কো হবে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.