মুন্সীগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৯

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় নতুন করে আরও দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭৯ জনে। এদিকে, করোনা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন আরো ১৩৭ জন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি দৈনিক অধিকারকে নিশ্চিত করেছেন।

জেলায় প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসে নতুনদের প্রায় সবাই আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন। এদের মধ্যে একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন।

নতুন আক্রান্ত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার মিরকাদিমের গোপাল নগর গ্রামের পুরুষ (৩৩) ও সিপাহিপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্টাফের ছেলে (১৮) ।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিলে পাঠানো নমুনা গুলোর মধ্যে ২৫ টির ফলাফল আসে। এরমধ্যে দুইজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। এ নিয়ে জেলায় মোট ৭৯ জন করোনা পজিটিভ হলেন। আজ ৩২ জনের সোয়াবসহ জেলার মোট ৬৬৬ জনের নমুনা এ পর্যন্ত পাঠানো হলো। ৫২৯ জনের নমুনার ফল পাওয়া গেছে।

সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা ভাইরাস মুন্সীগঞ্জের সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ছে। প্রথম দিকে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ব্যক্তিরা আক্রান্ত ছিলেন। এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পুরনোদের সংস্পর্শে এসে হচ্ছেন।

এদিকে, সময় মত জেলায় সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা এবং করোনা রিপোর্টের তথ্য আইইডিসিআর ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে গড়মিলের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইইডিসিআর থেকে নিয়মিত সবগুলো সোয়াবের ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না । আইইডিসিআর থেকে যা রিপোর্ট পাচ্ছি তা আমরা সাথে সাথে দিয়ে দিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ রোগী এবং রোগী নন দুইজনের জন্যই পরীক্ষার ফলাফল জরুরি। এছাড়া দ্রুত পরীক্ষার ফল জানা গেলে সংক্রমণ প্রতিরোধের কাজ এগিয়ে যায়। অন্যদিকে, আমাদের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হলো একরকম আর আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে তথ্য দেয়া হচ্ছে আরেক রকম। লোকজনকে আমরা এর উত্তর দিতে পরছি না। আইইডিসিআর-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও এর কোন জবাব দিতে পারছেন না।

এখন পর্যন্ত সদর উপজেলায় ৩১ জন, টংগিবাড়ী উপজেলায় ১০, সিরাজদিখান উপজেলায় ১৪, শ্রীনগর উপজেলায় ৯ জন, লৌহজং উপজেলায় ৫ জন এবং গজারিয়া উপজেলায় ১০ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সদরে তিনজন, টংগিবাড়ীতে দুইজন ও লৌহজং উপজেলায় একজন করোনা সনাক্ত হওয়ার আগেই মারা যায়। তবে, সিরাজদিখান উপজেলায় একই পরিবারের দু’জন সুস্থ হয়ে গত সোমবার বাড়ি ফিরছেন।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.