৩ কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিতেই কি জনস্বাস্থ্য ভবনে গুলি?

মুন্সীগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনে গুলির ঘটনার পেছনে তিন কোটি টাকার টেন্ডারের ঘটনা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নির্বাহী প্রকৌশলী এখানে এসেছেন মাত্র কয়েক মাস। তাই ভয়ভীতি দেখিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে একটি চক্র এ কাজ করে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

করোনার এই লকডাউন অবস্থার মধ্যেও রবিবার রাত পৌনে ৮টায় পরপর দু’টি গুলি হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনে।

ভবনের তৃতীয় তলার প্রকৌশল অধিদপ্তরটির নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষের জানালা ভেদ করে গুলি ভেতরে প্রবেশ করে। আকস্মিক এই গুলির শব্দে আশপাশের এলাকায়ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে। সোমবারও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, ভয়ভীতি দেখিয়ে তিন কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয়ার জন্য এই গুলিবর্ষণ।

নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ৮টি প্যাকেজে প্রায় ৭ কোটি টাকার সাবমার্সেবল পাম্পসহ নলকূপ ও ওয়াশব্লক নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই কাজগুলোতে ১০ জন ঠিকাদার অংশ নিয়েছেন। এখনও পরিষ্কার নয় কারা এবং কি কারণে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় চার মাস এই দফতরে যোগদান করার পর থেকেই স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করছি। কারও সাথে ঝগড়াও হয়নি। ঘটনাটি দুঃখজনক। তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে। এখনও অফিসিয়ালি কোনো অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, ৮টি প্যাকেজের মধ্যে তিন কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নিয়ে কাজ পাওয়া এবং না পাওয়ার পক্ষে বিপক্ষে নানা রকম প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পরপর এবং সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খন্দকার আশফাকুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন। এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। গুলির খোসাসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আনিচুর রহমান বলেন, করোনার এই দুর্যোগের মধ্যেও মূল শহরের ভেতরে এই ঘটনাটি পুলিশকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে। পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে এজাহার দেয়া হলে কাজ করা সহজ হত।

মুন্সীগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, করোনা দুর্যোগের কারণে সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য কোয়াটার না থাকা সত্ত্বেও অফিস ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষেই তিনি রাত্রি যাপন করেন। দুর্যোগকালীন তার অফিস থেকে হাত ধোয়ার বেসিন তৈরীসহ, বি্লচিং পাউডার এবং সাবান বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। এছাড়া টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ত্রাণ কার্যক্রমের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাই পরিবার পরিজন রেখেই জীবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, এরই মধ্যে এমন ঘটনা বেদনাদায়ক।

প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি কক্ষের ভেতরেই ছিলেন। জানালার বরাবর বা কাছাকাছি থাকলে ঘটনা অন্য রকম হতো। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় তিনি ভীত নন । যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তিনি।

পুলিশের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, অফিস ভবনের বাইরে কোথা থেকে গুলি বর্ষণ হয়েছে, সেই স্থানটিও চিহ্নিত করা হয়েছে। খোসা দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি পিস্তলের গুলি। অপরাধীরাও অনেকটাই চিহ্নিত। এখন চলছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন পিপিএম বলেন, তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তারা গিয়েছেন, আমাদের অবস্থান থেকে যা যা প্রয়োজন সবই করা হচ্ছে। এখন লিখিত অভিযোগ পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারি কর্মকর্তার কক্ষে গুলির এই ঘটনা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ঘটনার সাথে যার ছেলে-মেয়েই জড়িত থাকুক না কেন। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

মুন্সীগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, এটি আনকাঙ্খিত ঘটনা। এফআইআর করার জন্য আমরা বলে দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথেও কথা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে কাজ চলছে।

 

কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.