মুন্সীগঞ্জে কলার চাহিদার পাশাপাশি দামও বৃদ্ধি

রোজার সময় চাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সুষম ও ঘরে তৈরি খাবার আপনাকে পুরো রমজান মাসে রাখবে সুস্থ। এই মাসে খাবারের সময়সূচী বদলে যায়। এসময় খাবারের ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে। ইফতার ও সাহরি খাবারে আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কলা। রমজান মাসে ধনীদের পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য তালিকায় কলা সংযুক্তি ঘটে। আর রমজান আসলে সারাবছরের তুলনায় কলার চাহিদার পাশাপাশি দাম বৃদ্ধি বাড়ে।

এদিকে, মুন্সীগঞ্জে রোজা শুরুর আগে বড় আকারের কলা (কাঁঠালি/সাগর) বিক্রি হয়েছে প্রতি হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। অথচ রোজার প্রথম দিন থেকে এক লাফে বাজারে কলার দাম হালি প্রতি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

প্রতিটি কলার দাম পড়ছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা পিস। আর মাঝারি ও ছোট আকারের কলা বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৯ টাকা পিস হিসেবে। আকাশছোঁয়া দামের কলার দিকে তাকাতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।

কলার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে সরবরাহ কমেছে। তবে ক্রেতাদের দাবি, ১৫দিন আগেও বাজারে কলার সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল। দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ বলছেন, করোনার কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে কলা আনতে পারছেন না তারা। এছাড়া কলা পরিবহন করতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হচ্ছে তাদের। কলা আমদানি খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।

কলা ক্রেতা ইমরান মণ্ডল বলেন, রমজান এলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কলার দাম বাড়িয়ে দেয়। তার উপর এবছর করোনার কারণে সারাদেশ লকডাউন তাই তারা এসব কারণ দেখিয়ে কলার দাম বৃদ্ধি করছে । যার কারণে ছোট আকারের দুধসাগর কলা পিস প্রতি সাড়ে ৭ টাকা করে কিনতে হচ্ছে।

শাহ আলম নামের অপর এক ক্রেতা বলেন, দিনভর পানাহার থেকে বিরত থেকে সন্ধ্যায় ইফতারের টেবিলে ও রাতে সেহরির খাবারে কলা ছাড়া যেন চলেই না। বিশেষ করে পাকা আম রমজানে না ওঠায় কলার চাহিদা এবার বেশি। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা কলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ইচ্ছেমত। নিদারুণ অসহায় ক্রেতারা বেশি দামেই কলা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

দিঘীরপাড় বাজারের খুচরা কলা বিক্রেতা মাসুম বলেন, এবার রমজানে পাকা আম নেই বাজারে। আমের বাজারটা দখল করেছে কলা। যে কারণে চাহিদা বেশি। দামও বেশি।

কামারখাড়া বাজারের খুচরা কলা বিক্রেতারা রবিন বলেন, করোনার কারণে কলার আমদানি কম হওয়া বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া রমজানে সবারই কম-বেশি কলা লাগে। যে পরিমাণ চাহিদা বাড়ে সেই পরিমাণ কলা পাওয়া যায় না। যার কারণে দাম বেড়ে যায়।

ইফতার ও সেহরির সময় কলার উপকারিতা : কলা বহুগুণে সমৃদ্ধ। বিদেশি দামি ফলের দিকে না ঝুঁকে কম দামে দেশি ফল খাওয়াই ভালো। তাই শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ছোট-বড় সকলেরই একটি করে কলা খাওয়া উচিৎ। উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান থাকায় এটি একটি পুষ্টিকর খাবার। এর নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। যেমন- কলা হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, কিডনি সুস্থ রাখে, শরীরে শক্তি যোগায়, খাদ্য হজমে সহায়তা করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, পাকস্থলীর আলসার ও বুক-জ্বালা রোধ করে, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, মানসিক চাপ কমায় ও সুনিদ্রায় সহায়তা করে, ত্বক সজীব করে, শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে, অ্যানিমিয়ার মতো রোগের প্রকোপ কমে, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে ।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.