করোনা নমুনা সংগ্রহে দিনরাত ছুটে চলেন শহীদ

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ॥ রাত ১টা বেজে ১০ মিনিট। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদের মোবাইলে জানানো হলো- এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। বাসায় পরিবার পরিজন রেখেই তাৎক্ষণিক ছুটলেন ঘটনাস্থলে। এমনিভাবে অবিরাম তিনি এই নমুনা সংগ্রহের কঠিন কাজটি করছেন। করোনায় তিন মৃত ব্যক্তিরও নমুনা নিয়েছেন তিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেই চলেছেন।

গত ৩ এপ্রিল থেকে এই জেলায় নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়। এই করোনা যুদ্ধে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে শুরু থেকেই তিনি অংশ নিয়ে এখনও রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। বুধবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন তিনি। এখানে করোনা প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় এখন নমুনাও বেশি নিতে হচ্ছে। যা অন্যান্য উপজেলার তুলনায় অনেক বেশি। ছয় উপজেলা মিলে মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে বুধবার পর্যন্ত ১২০৬টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। যার বড় অংশটিই সদর উপজেলার। আর পুরো জেলায় অর্থাৎ ছয়টি উপজেলায় করেনা শনাক্ত হয়েছে এ পর্যন্ত ২০৪, এর মধ্যে সদরেই করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৭ জনের। মানুষ যখন করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত, কেউ আক্রান্ত হলে সবাই দূরে সরে যাচ্ছেন, তখন একেবারে কাছে গিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসকরা বেশির ভাগই নিরাপদ দূরত্বে থেকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আর সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে গলার ভেতর থেকে। তাই খুব কাছে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না। আবার ১৪ দিন পার হলে পজেটিভ আসা অর্থাৎ করোনা শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

শহিদুল ইসলাম তার আরেক সহযোগী সদর উপজেলা ল্যাবের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট আব্দুস সালামকে নিয়ে অবিরাম সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় একদিনের জন্য ছুটি কাটাননি। করোনা মোকাবেলায় তিনি হার না মানে এক যোদ্ধা। পরিবারের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও তিনি ভিন্ন একটা কক্ষে থাকছেন। তার ছেলে ডেন্টাল মেডিক্যাল কলেজের ৩য় বর্ষে ছাত্র সামিউল ইসলাম আঞ্জুম বাবার কাছে না আসলেও, এসএসসি পরীক্ষা নেয়া কন্যা সামিয়া ইসলাম অথৈ বাবার কাছে ছুটে আসে। আর তার স্ত্রী মুন্সীগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী আঞ্জুমান আরা তাকে অনেক বেশি উদ্দীপনা দিচ্ছেন এই কাজের জন্য।

শহিদুল ইসলাম আর আব্দুস সালামের মতো জেলায় ১৩ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হার না মানা যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। এই সঙ্কটে তারা বীরত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। মুন্সীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা। সুমন কুমার বণিক বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে অনেকই করোনা মোকাবেলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। তবে শহিদুল ইসলাম ও তার সঙ্গী আব্দুস সালাম ব্যতিক্রম। সিভিল সার্জন ডাঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, করোনা যুদ্ধে অনেকই ভূমিকা রাখছেন। তবে জেলায় যে ১৩ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন, যারা সোয়াব সংগ্রহ করছেন। তাদের অবদান অনেক।

জনকন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.