মুন্সীগঞ্জ পৌর মেয়রের ব্যতিক্রমী পন্থাবলম্বন…

সালেহীন তুহিনঃ আকম্মিক দরজায় টোকা। অভ্যন্তর সাড়া শব্দহীন। অতঃপর দরজার কড়া নাঢ়া। এ পর্যায়ে গৃহাভ্যন্তর থেকে দরজা উম্মুক্তের শব্দ। দরজা খোলার শব্দ কর্নে পৌছা মাত্রই অপেক্ষমান ব্যক্তির প্রস্থান। উন্মক্ত দরজায় দাড়াঁনো ব্যক্তিরতো চোখ ছানাভরা- আশপাশে কারো উপস্থিতি অদৃশ্য। অকম্মাৎ দরজার ঠিক নিচে চোখ পরতেই দৃশমান ‘মানবিক সহায়তার বস্তা বা প্যাকেট’। সহায়তা প্রাপ্ত ব্যক্তি সহসাই বুঝতে সমর্থ হলেন, কার মাধ্যমে এই নিত্যপন্য সামগ্রী ঘরে পৌছে গেল। উপরোক্ত কর্মপন্থা সুনির্ধারণ পর্বক ক্ষেত্রবিশেষ তিনি নিজে এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমে ঘরে ঘরে মানবিক সহায়তা পৌছে দিচ্ছেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসবার মেয়র হাজী মোঃ ফয়সাল আহম্মেদ বিপ্লব।

অনুসন্ধানে জানাযায়, বিগত ২৬ মার্চ দেশে ‘লকডাউন’ ঘোষনা করা হয়। সেদিন থেকেই যথোপোযুক্ত মেধা ও যোগ্যতা সম্পন্ন মুন্সীগঞ্জ পৌর- মেয়র ‘দুর্গতের’ পাশে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহন করেন। সরকারিতো বটেই নিজের সর্বস্ব নিয়ে গরীব- দুখীর পাশে মানবিক সহায়তা সম্প্রসারনের সিদ্ধান্ত স্থির করেন। সিদ্ধান্তানুযায়ী সমাজে বিদ্যমান জনপ্রতিনিধিবৃন্দের মধ্যে প্রথম দিকেই ত্রান সামগ্রী বিতরনের কার্যক্রমের বিষয় নিশ্চিত করেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ভাবেই কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই হোক মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত ভেদাভেদ বিবেচনা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়অর হোসেন জানান, বিদ্যমান বৈশ্বিক দূর্যোগকালীন পৌর মেয়র সম্পূর্ন রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভ‚লোন্ঠিত পূর্বক, দমলত নির্বিশেষে অভিভাবকোচিত শতভাগ দায়ীত্ব পালন করেন। তিনি আরো বলেন, দলমতের উর্ধ্ব মানবিক সহায়তা সমেত দূর্যোগগ্রস্থের পাশে দাঁড়াতে কোনও কুন্ঠাবোধ করেননি।

এদিকে নিরবে নিঃশব্দে ‘রাতের আঁধারে’ মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি এ প্রতিবেদককে অনেকই জানিয়েছেন। শহরের হাটলক্ষীগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা শফিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, হঠাৎ রাত ৮টার দিকে পৌর মেয়রের মাধ্যমে প্রদত্ত ১০টি ত্রান সামগ্রীর প্যাকেট হাতে পান। সহায়তা প্রাপ্ত ব্যক্তিবৃন্দের নাম উল্লেখ থাকায়, সংশ্লিষ্টদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌছেও দেন। অন্যদিকে শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিরোধীদলীয় অর্থাৎ বিএনপির একনিষ্ঠ এক কর্মী বলেন, আওয়ামীলীগ নেতা মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা মেয়র প্রদত্ত মানবিক সহায়তার প্যাকেট প্রাপ্তিতে হতবাক না হয়ে পারা যায়নি। কেননা বিএনপি ক্ষমাতাকালীন ২০০৪ সালে বন্যার সময়ও স্বদলীয় সত্বেও ত্রান সহায়তা পাননি। তিনি ছাড়াও অনেক বিএনপি কর্মী সমর্থক অনুরূপ সহায়তা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

এসকল বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হাজী মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব ‘দৈনিক মুন্সীগঞ্জের খবর’ কে একান্ত সাক্ষাতকারে প্রথমেই ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে বলেন, সাহায্য ও দান-দক্ষিনার ক্ষেত্রে ‘ডান হাতে প্রদান করলে, বাম হাতও যেন টের না পায়’। আর এ সকল বিষয়ে লোক দেখানোর ব্যপারটি রীতিমত বিরক্তির বলে উল্লেখ করেন। রাতের আঁধারে সহায়তার বিষয়ে বলেন, ব্যপক সমাগমে মানবিক সহায়তা গ্রহনে কাউকেই কোনভাবেই যেন হেয় প্রতিপন্ন হতে না হয়। তাই এ ব্যবস্থা। তিনি আরো বলেন ইতোমধ্যে ৫ হাজার পরিবারকে এবং দ্রæততম সময়ে আরো ৫ হাজার পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে। বরাবরের ন্যায় দলমত নির্বিশেষে মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ব্যত্যয় ঘটবে না বলে তিনি আরো উল্লেখ করেন। আর মানবিক সহায়তা নিয়ে রাজনৈতিক সংশ্রবেরতো প্রশ্নই উঠেনা।

মুন্সীগঞ্জের খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.