তবুও মানুষ ছুটছে!

আরিফ হোসেনঃ গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহ। রোদে তপ্ত পিচের তাপে গায়ের চামড়া পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। এসব কিছু উপেক্ষা করে গাছ-পালা বিহীন ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের উপর দিয়ে ঘরমুখো মানুষ ঢাকা থেকে মাওয়ার দিকে ছুটছে।

নারী-পুরুষ-শিশু সহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ খোলা পিকাপ ভ্যানে চাপাচাপি করে কোনমতে জায়গা করে নিয়েছে। মালবাহী ট্রাকের ড্রাইভারের সিটের পাশে বসে কিংবা মালামালের উপর পলিথিন মুরি দিয়ে মানুষ গ্রামের দিকে ছুটছে। রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মিনি ট্রাক, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে চেপে দক্ষিন বঙ্গের দিকে যাচ্ছে মানুষ। পুলিশ আটকে দিলে গাড়ি থেকে নেমে মাওয়া ফেরি ঘাটের দিকে হাটা ধরছে মানুষ। হাতে ব্যাগ,বাচ্চাদের হাত ধরে অথবা মাথায় মালামালের বোঝা নিয়ে গন্তব্যের দিকে এগুচ্ছে।

ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। সাধারণ ছুটিতে গরম উপেক্ষা করে নানা ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যেই মানুষ ছুটছে গ্রামে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও যে করেই হোক বাড়িতে যেতে হবে। করোনা ভাইরাসের এই মহামারি উপেক্ষা করে ছুটে আসা এসকল মানুষকে থামাতে বেগ পেতে হচ্ছে শ্রীনগর থানার কর্মরত পুলিশ অফিসারদের। ছনবাড়ির চেকপোস্টের সামনে থেকে পুলিশকে অনেক গাড়ি ফিরিয়ে দিতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে কেউ এসেছে হবিগঞ্জ থেকে, কেউ টাঙ্গাইল,কেউ উত্তর বঙ্গের কোন জেলা থেকে। আর ঢাকা থেকে আসা গাড়ির সংখ্যার তো হিসেবই নেই। কর্তব্যরত এক পুলিশ অফিসারকে মাথার ঘাম মুছতে মুছতে বলতে শুনা গেল অনেকটা পথ পেরিয়ে আসার পরে গাড়িগুলোকে ঘাটের কাছ থেকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে খারাপ লাগলেও কর্তব্য পালন করেত গিয়ে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। অরেক অফিসার আক্ষেপ করে বলেন, এতদূরে আসতে পুলিশের বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট ও টোল প্লাজা পেরুতে হয়েছে। সেইসব স্থানে কড়াকড়ি থাকলে এতোটা পথ আসার কথা ছিলনা।

তবে ছনবাড়ি এলাকার চেকপোস্টকে ফাঁকি দিতে ছনবাড়ির আগের স্টেশন ষোলঘর থেকে বিকল্প পথে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও অটোরিক্সার লাইন দেখা গেছে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত। দুপুরের দিকে শ্রীনগর গোল্ডেন সিটি এলাকায় নষ্ট মোটর সাইকেরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই আরমান(২৪) ও অনিক(২২) নামে দুই যুবকের সাথে কথা হয়। তারা জানান তাদের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা এলাকায়। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে একটি কারখানায় কাজ করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছেন। যাত্রাবাড়ি থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত হেঁটে এসেছেন। পোস্তগোলা থেকে মাওয়া পর্যন্ত যেতে মোটরসাইকেল ভাড়া করেছেন ১২শ টাকায়। বাড়িতে মা ও আরেক ভাই রয়েছেন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন এবং পরিবারের ক্ষতি হতে পারে এমন কথা শুনে বলেন, সবাই যাচ্ছে তাই আমরাও যাচ্ছি। তাছাড়া সরকারতো একেবারে বন্ধ করছেনা। সব বন্ধ করে দিলে আমরাও যেতাম না।

শ্রীনগর প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম ইসলাম নিতুল বলেন, মানুষ যেভাবে মাওয়ার দিকে ছুটছে তা দেখে বিভিন্ন ডকুমেন্টারিতে দেখা একাত্তর সালে গ্রামের দিকে মানুষের ছুটে চলার লাইনের কথা মনে পরছে।

সরকার ঈদের ছুটিতে স্থান পরিবর্তনে কড়াকড়ি আরোপ করলেও বাস্তবে তা কেউ মানছেনা। ঢিলে ঢালা ভাবে এই নির্দেশনা পালিত হওয়ায় চাপ পড়েছে মাওয়া ফেরি ঘাটের উপর। বিভিন্ন সূত্র জানায়, সকাল থেকে এই রুটে ৪টি ফেরি চলাচল করলেও লোকজনের চাপ সামলাতে পরে ১২টি ফেরি চালু করা হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই মাত্রাতিরিক্ত ভিরের বিষয়টি উঠে আসলে দুপুর ৩টা থেকে কতৃপক্ষ ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। তারপও মানুষ থেমে নেই ট্রলারে পরি দিয়ে নদী পার হওয়া শুরু করে। যে করেই হোক বাড়িতে যেতে হবে। করোনার সংক্রম ভীতি কিংবা রাস্তাঘাটের নাকাল হওয়া সবই যেন তুচ্ছ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.