তালিকা থেকে ১৬ মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দেয়ার অভিযোগ

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তাদের কোনো কথাই শোনেননি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ইউএনও তাদের কথার কোনো মূল্যই দেন না। এ কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব হওয়ার কারণে তার ইচ্ছেমতো মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা করেছেন। ‘বিএলএফ’র মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি অস্বীকার এবং অপমান করেছেন। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তারা। চারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

এদিকে জানতে চাইলে ইউএনও হাসান সাদী সেলফোনে বলেন, আমি কমিটির সদস্য সচিব। যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি যে লিস্ট করেছেন সেটার ওপর ভিত্তি করেই লিস্ট করা হয়েছে। বিষয়টি এখনও চলমান রয়েছে। সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে যাচাই-বাছাই করবেন সেটাই ফাইনাল লিস্ট হবে। এখানে আমার কোনো হাত নেই। তাদের অভিযোগ সঠিক নয়।

অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম আরও জানান, ১৬ জনের তালিকায় যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি (তিনি নিজে) এবং সদস্য তানেছ উদ্দীনের সই থাকা সত্ত্বেও সদস্য সচিব (ইউএনও) তা অগ্রাহ্য করেছেন। ইউএনওর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারের অভিযোগও করেছেন তিনি।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে সদস্য সচিবের স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ এনে সোমবার বিকাল ৫টায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বীকৃতি না পাওয়া মুক্তিযোদ্ধারা। রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও স্বীকৃতিবঞ্চিত মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে যুদ্ধকালীন বিএলএফ সহকারী কমান্ডার গজারিয়ার স্কোয়াড্রন লিডার আ ক ম আখতারুজ্জামান খান (অব.) বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে গজারিয়া উপজেলা শত্রুমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিএলএফ তথা মুজিব বাহিনীর। অথচ ৪৮ বছর পরও স্বীকৃতিবঞ্চিত অনেক মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি জানান, থানা কমান্ডার মো. নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর বর্তমিয়া ফেরিঘাটে মুখোমুখি যুদ্ধে শহীদ হন।

এ বাহিনীর যেসব সদস্য ভারতের উত্তরপ্রদেশের দেরাদুন ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসেছিলেন শুধু তাদেরই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ বাহিনীর অধীনে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ নিয়ে যারা সম্মুখ সমরে লড়েছেন তাদের মধ্যে ১৬ যোদ্ধাকে স্বীকৃতিবঞ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে স্বীকৃতিবঞ্চিত আজিজুল হক, হারেস প্রধান ও আরশাদ আলীসহ বেশ কয়েকজন জানান, ১৯৭১ সালের ২৬ নভেম্বর ও ৯ ডিসেম্বর মেঘনাঘাট ও বাউশিয়াতে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তালিকাভুক্ত এ ১৬ সদস্য। সে যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চার সদস্য এবং একজন সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছিল। অথচ যাচাই-বাছাই কমিটি এ যুদ্ধকে অস্বীকার করছে। প্রকৃত অর্থে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অনেকে স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.