করোনা কেড়েছে চাকরি, পদ্মা কাড়ছে বাড়িঘর

রিয়াদ হোসাইনঃ বাবার ছায়া মাথার উপর থেকে হারিয়ে গেছে জাকিরের অনেক আগেই। তারপর বড় ভাইদের ছায়ায় ছিলেন কিছুদিন। একে একে বড় তিন ভাই বিয়ে করে আলাদা আলাদা সংসার গড়েছেন। বৃদ্ধা মাকে নিয়ে এক সংসারে রয়ে গেছেন জাকির।

ঢাকার আবদুল্লাহপুরে শ্রী নাথ সুয়েটার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতো জাকির হোসেন (২০)। যা আয় হতো তা দিয়ে মা-ছেলের এক রকম কেটে যাচ্ছিলো জীবন। কিন্তু করোনার কারণে হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন জাকির। বাধ্য হয়ে চলে আসেন গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সরিষাবন গ্রামে।

জাকিরের দীর্ঘ ৪ মাস কাজ না থাকায় ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। আসা ছিলো ফ্যাক্টরি খুললেই সব ধারদেনা পরিশোধ করে দিবে সে। কিন্তু হঠাৎ করে রাক্ষুসে পদ্মার ভাঙন শুরু হওয়ায় এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা নেমে আসে তার উপরে।

জাকিরের ঘরের পাশেই কলকল রবে বয়ে যাচ্ছে পদ্মা। একের পর এক মাটির স্তূপ ভেঙে পড়ছে নদীতে। তার বসত ভিটাটি ছুঁই ছুঁই করছে, এখন শুধুই বিষন্নতা। হাতে কানাকড়িও নেই। তাই আত্মীয় স্বজন আর প্রতিবেশীদের ডেকে ঘর ভেঙে জড়ো করছেন রাস্তার উপরে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাক্ষুসে পদ্মার হাত হতে দু-চালের দুটি ঘর অন্যত্র সড়াতে প্রাণপ্রান চেষ্টা করছে জাকির। একটিতে তার মা অপরটিতে ঢাকা হতে ফিরে মাঝে মধ্যে থাকতো সে। বেশ কয়েকবার নদী ভাঙনে সব হাড়িয়ে জমি ভাড়া নিয়ে এই স্থানটিতে ১০ বছর যাবত বসবাস করে আসছে তার পরিবার।

তার শেষ সম্বল ঘর দুটি রাক্ষুসে পদ্মার হাত হতে বাঁচাতে দ্রুত কাজ করছে সে। আর তাকে এ কাজে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করছেন প্রতিবেশী মামুন, ফারুক, রাসেল, ইয়াছিন,মামা শুক্কুর আলিসহ অনেকে। সাথে তার বৃদ্ধ মা ফাতেমা বেগম ও বোন সেফালি বেগমও কাজ করছে।

জাকির হোসেন জানান, করোনার পর চাকরি চলে যাওয়ায় মাকে নিয়ে অনাহারে ছিলাম। এখন নদীর ভাঙনে ভিটি দুইটি চলে যাইতেছে। কোথায় থাকমু জানিনা। আপাতত ঘর দুটি রাস্তার উপর নিয়া রাখছি। ঘর ভাঙার পর ঘরের আগের খাম খুঁটি আর ভাল থাকেনা ওলু আর মাটি খেয়ে ফেলে। নতুন করে ঘর দুটি তুলতে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এখন কোথায় থাকমু বলতে পারছিনা।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.