টঙ্গিবাড়ীর ধামারণ সড়ক দেবে গেছে একাধিক স্থানে

ঝুঁকিপূর্ন স্থানটি খুঁটিসহ ধসে পড়লে বিদ্যুতহীণ হয়ে পড়বে ধামারণ গ্রাম, কয়েকগুন ওজনের ট্রাক চলাচল অন্যতম কারণ
কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আলদী-ধামারণ-রহিমগঞ্জ বাজার (বিয়ানিয়া বাজার) সড়কের ধামারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে বিরাট ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যে কোন মুর্হুতে সড়কটি ধসে পড়ে পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুন ক্ষমতার আলুবাহি ট্রাক প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে ধামারণ গ্রামের রহিমগঞ্জ বাজারস্থ একতা কোল্ড স্টোরেজে চলাচল করায় সড়কটির একাধিক স্থান দেবে গেছে। এর মধ্যে ধামারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে বিশাল এলাকা নিয়ে গত এক সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে দেবে গেলেও ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশী ওজনের পন্যবাহি ট্রাক চলাচল বন্ধ করেনি। স্থানীয় গ্রামবাসী এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও একতা কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ কোন কর্ণপাতই করছে না। এমনকি স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কতিপয় আ’লীগ নেতাকর্মীদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে সড়কের ধারে থাকা গাছপালার ডালা কেটে আলুর বস্তাভর্তি ট্রাক চলাচলে সুবিধা করে দিয়েছে।

এদিকে বন্যার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে অবিরাম বৃদ্ধিতে সড়কের পাশের পুকুরটি পানিতে টুইটুম্বুর। ফলে কয়েকগুন ওজনের আলুর বস্তাভর্তি ট্রাক চলাচলের সময় তলদেশের মাটি সরে গিয়ে প্রতিদিনই সড়কের দেবে যাওয়া স্থানগুলো আরও দেবে যাওয়ায় ধামারণ কবরস্থান থেকে রহিমগঞ্জ বাজারস্থ একতা কোল্ড স্টোরেজ পর্যন্ত সড়কটির কয়েকটি স্থান মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ধামারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কের দেবে যাওয়া স্থানটি এখন মারাত্বক ঝুঁকিতে ধাকায় যে কোন মুর্হুতে দেবে যাওয়া স্থানটি ধসে পুকুরে বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এ স্থানটি দেবে গেলে অদূরে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিও পড়ে যাবে পুকুরে। ফলে পুরো ধামারণ গ্রাম বিদ্যুতহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ধামারণ কাজী বাড়ী জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা মো. তোফাজ্জল হোসেন শেখ। আর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি ধসে পড়লে আলদীবাজার-ধামারণ-রহিমগঞ্জ বাজার সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে যাতায়াতে গ্রামবাসী দুর্ভোগের কবলে পড়বে উল্লেখ করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি’র) নির্বাহি প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামকে গতকাল সোমবার সড়কটি রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন।

গ্রামবাসী জানান, ধামারণ গ্রামের রহিমগঞ্জ বাজারস্থ একতা কোল্ড স্টোরেজে প্রতিবছর কৃষকের আলু সংরক্ষন ও হিমাগার থেকে বের করে বিক্রির পর আলুর বস্তাভর্তি ট্রাকগুলো এই সড়কটি দিয়েই যাতায়াত করে থাকে। সড়কের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশী ওজন নিয়ে আলুর বস্তাভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে মুন্সীগঞ্জ এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত সড়কটি প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধামারণ গ্রামের রহিমগঞ্জ বাজার থেকে সিপাহীপাড়া-আলদীবাজার-দিঘিরপাড় সড়কের সংযোগ স্থান আলদী গ্রাম পর্যন্ত সংস্কার করেন মুন্সীগঞ্জ শহরের ঠিকাদার মো. কালাম ও শাহাদাত গং। অথচ বছর না পেরুতেই সংষ্কারকৃত এই সড়কটির একাধিক স্থানে আলুর বস্তাভর্তি ট্রাক চলাচলের কারনে কোথাও দেবে গেছে আবার কোথাও ভেঙ্গে গিয়ে সড়কটি এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গ্রামবাসী এসব ভারী যানবাহন চলাচলে একাধিকবার বাঁধা দিলেও কতিপয় সুবিধাবাধী মাতবব্বর কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে উল্টো প্রতিবাদ করার অপরাধে গ্রামবাসীকে নানা ভাবে হয়রানি করার নজিরও রয়েছে। এমনকি পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিয়ে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুন বেশী ওজন নিয়ে আলুর বস্তাভর্তি ট্রাক চলাচল চালু রেখেছে বলে গ্রামবাসী অভিযোগে জানিয়েছে। ধামারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমন্ডলী ও অভিভাবকবৃন্দ একই কথা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কাঠাদিয়া শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. গনি ঢালী বলেন, শুনেছি, রাস্তা দেবে যাওয়ার কথা। অসুস্থ হওয়ায় ঘটনাস্থলে স্বশরীরে যেতে পারেননি। রহিমগঞ্জ বাজারস্থ একতা কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার মো. দীন ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।

মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) নির্বাহি প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, সড়কটি পরিদর্শণ করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় সড়ক দেবে যাওয়া ও ভাঙ্গনের খবর আসছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রয়োজণীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

গ্রাম নগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.