শিমুলিয়ার তিন নম্বর ঘাট পদ্মায় বিলীন

তিন দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ সামাল দিতে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতিও নিয়েছে। ঠিক এমন সময় গতকাল মঙ্গলবার শিমুলিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটসহ পাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে শিমুলিয়া প্রান্তের এক ও দুই নম্বর ঘাটে পাঁচটি ফেরি দিয়ে নৌরুট সচল রাখা হয়েছে। তবে ভাঙনের যে ধরন তাতে, যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট।

শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিন নম্বর ঘাটে ভাঙন শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সম্পূর্ণ ঘাটটি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়। রো-রো ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুরোনো মাওয়া ঘাট যেভাবে ভেঙেছিল, এটাও তেমন করে ভাঙতে শুরু করছে। এ ভাঙন কোথায় গিয়ে থামবে জানা নেই।

ঈদযাত্রা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এমনিতেই নাব্য সংকট ও স্রোতের জন্য ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। নতুন করে শুরু হলো ভাঙন। ঈদে কী হবে, জানা নেই। এ সময় তিনি সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশ দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান জানান, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে তিনি ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ছিলেন। নদীর অবস্থা খুব কাছ থেকে দেখতে পন্টুনে ওঠেন। একটু পরই দেখতে পান গ্যাংওয়ের সঙ্গে থাকা নদীর পাড় প্রচ স্রোতে একটু একটু করে ভেঙে যাচ্ছে। কোনো রকমে তিনি পন্টুন থেকে তীরে ওঠেন। এরপর শুরু হয় ফেরিঘাটে তীব্র ভাঙন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই প্রায় তিনশ’ হাত উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিক ভেঙে নদীতে বিলীন হয়। এ সময় তিন নম্বর ঘাট সম্পূর্ণ নদীতে চলে যায়। সেখানে বিআইডব্লিউটিএর একটি পাকা স্থাপনা ও একটি মসজিদও নদীতে হারিয়ে যায়। এভাবে চোখের সামনেই হারিয়ে গেল একটি ঘাট।

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন বলেন, দুপুর থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে, বিকেলেও ভাঙন অব্যাহত আছে। যেভাবে ভাঙছে তাতে দু-একদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ শিমুলিয়া ঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বিকেল নাগাদ ঘাটে আড়াই শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় আছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ মুহূর্তে ঘাটটিকে কীভাবে রক্ষা করা যায় অথবা বিকল্প হিসেবে কীভাবে সচল রাখা যায়, সেটি নিয়ে সবাই কাজ করছে। তবে এই মুহূর্তে স্থায়ীভাবে কোনো সমাধান করা যাবে না বলে জানান তিনি।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.