স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে মুন্সীগঞ্জ

করোনায় জর্জরিত মুন্সীগঞ্জ আগের অবস্থায় ফিরছে। শহরের কোলাহলই সেই বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। মাস দুয়েক আগের চেয়ে গাড়ির জট বেড়েছে। আর মানুষের ভিড়ও কিছুটা চোখে পড়ার মতো। এদিকে মঙ্গলবার শহরের প্রধান বাজারে ফিরে এসেছে কাঁচাবাজার। এরআগে গত ২০ এপ্রিল শহরের প্রধান বাজার থেকে সবজি ও মাছ বাজার সরিয়ে নিয়ে সুপার মার্কেট এলাকায় ওয়ান ওয়ের রাস্তার পশ্চিম পাশে বসানো হয়। তবে কাঁচাবাজার পুনরায় আগের জায়গায় বসায় সংক্রমণের বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অন্যদিকে জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ২১৯ জন। ইতোমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৬ জন। এছাড়া সুস্থতার ছাড়পত্র পেয়েছেন ২ হাজার ৭৫৯ জন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে মুন্সীগঞ্জের প্রধান বাজারে সরেজমিনে দেখাযায়, বাজারের মাছ বিক্রেতারা হাঁকডাক দিচ্ছেন। ’ভাই ভালো মাছ আছে। পদ্মা নদীর টাটকা মাছ, নিয়া যান জিতবেন।’ বিক্রেতাদের এমন হাঁকডাকে ক্রেতারা কাছে এসে দরদাম করছেন। এদিকে, মাছ বাজারের পাশেই সবজি বাজার। সেখানেও একই দৃশ্য। শত মানুষ জটলা বেঁধে মাছ-সবজি কিনছেন। সামাজিক দূরত্ব দূরের কথা, বরং ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে যেন জমজমাট চারপাশ। এছাড়া শহরে আগের মতো গণ পরিবহন, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান, ইজি বাইক, সিএনজি ও কাঁচামালের ট্রাক সহ অন্যান্য যানবাহন চলছে স্বাভাবিকভাবেই। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালালেও জনগণ সেটা সঠিকভাবে মেনে চলছে না। ফলে দিন দিন বাড়ছে ঝুঁকি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে করোনা বিস্তার রোধে। প্রায় সময়ে বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হলে কিছু সময়ের জন্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে চললেও ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে যাওয়ার সাথে সাথে আগের চিত্রে ফিরে আসে বাজার।

কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানাযায়, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে মাছ ও সবজির বাজার শুরু হয় । সকালের দিকে বাজারের সকল দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় হয়। বাজার করতে আসা সৌরভ মাহমুদ এক ক্রেতা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও এখন আগেই মতোই দেখি বাজারে ভিড়ভাট্টা। তাহলে মানুষজন সামাজিক দূরত্ব মানছেন কই? ভয় নিয়ে প্রয়োজনীয় সবজি ও মাছ কিনে নিচ্ছি। কার সঙ্গে কখন শরীর লেগে যায়, সেই আতঙ্কে আছি।

শাহেদ উল আলম নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে দেখাযায়, করোনার ঝুঁকি কমাতে দোকানের সামনে সাঁটানো কাগজে লেখা ‘ভেতরে প্রবেশ নিষেধ’। তারপরও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মাথা ডুকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দরদাম চলছে। চেয়ার টেবিল দূরত্বে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দর কষাকষি। সব মিলিয়ে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক দুই মাস আগেও অনেক ব্যবসায়ী বাসায় বসে টেলিফোনে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দিকনির্দেশনা দিতেন। ধীরে ধীরে সেসব ব্যবসায়ী আসতে শুরু করেছেন বাজারে। বেচাকেনা সামাল দিতে এখন যেন আর ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাঁচাবাজার পুনরায় আগে স্থানে বসানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের। তবে কিছুটা ঝুঁকি অবশ্যই রয়েছে। এখন বাজারে আগের থেকে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাচল করতে হবে। এছাড়া করোনার সাথে মানুষের মধ্যে উদাসীনতাও বেড়েছে। মানুষ বেপরোয়াভাবে বাহিরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাজার-মার্কেট গুলোতে জটলা লেগেই আছে। যেখানে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক হওয়ার কথা, সেখানে মাস্ক ছাড়াই বাহিরে বেড়াচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধির মেনে না চললে অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। ব্যক্তি সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিষয়টিতে জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন আরো বলেন, যারাই স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.