গজারিয়ার মেঘনা নদীতে অবৈধ ঘের দিয়ে অবাধে মাছ শিকার

শেখ মোহাম্মদ রতন: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা নদীতে গাছের ডালপালা ফেলে, চারপাশে জালের ঘের ‘ঝোপ’ দিয়ে অবৈধভাবে চলছে অবাধে মাছ শিকার। এ ঝোপ দেওয়ার ফলে মাঝ মেঘনা নদীতে নৌ-চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনায় ঝোপের মাধ্যমে মাছ শিকারে সরাসরি জড়িত স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন। সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গজারিয়া উপজেলার চর বলাকী, ইসমানির চর, গোয়ালগাঁও ও জামালদি গ্রামের মেঘনা নদীর বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে মাছ শিকারের জন্য ঝোপ তৈরি করা হয়েছে। এসব স্থানে মাঝ নদীতে ঝোপ দিয়ে চলছে মাছ শিকার।

জানা গেছে, ঝোপ তৈরির শুরুতে নদীতে গাছের ডালপালা ফেলা হয়। পরে চারদিকে বাঁশের বেড়া ও কচুরিপানা দেওয়া হয়। এরপর ঝোপের ভেতরে মাছের খাবার দিয়ে ঝোপের চারদিকে সূক্ষ্ম জাল দিয়ে ঘের দেওয়া হয়, যাকে স্থানীয়ারা বলে ঝোপ। এর ভেতরেই চলে পোনাসহ মাছ শিকার।

গজারিয়া উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় শতাধিক ঝোপ আছে। তবে এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীদের হিসেব অনুযায়ী, মেঘনায় কমপক্ষে দুই শতাধিক ঝোপ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গজারিয়ার গোয়ালগাঁও গ্রামের কফিলদ্দি নামের এক বাসিন্দার অভিযোগ, চলমান বর্ষাকালসহ সারা বছরই মেঘনা নদীতে ঝোপ থাকে। একটি বড় ঝোপ থেকে প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। এ টাকার ভাগ স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা ও প্রশাসনের লোকদের দিতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরেই মেঘনা নদীতে ঝোপ দিয়ে মাছ শিকার হচ্ছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। এতে মৎস্যসম্পদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালালে নদীতে ঝোপ দেওয়া বন্ধ হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, নদীতে ঝোপ দিয়ে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। এ মাছ শিকারের সঙ্গে আমাদের অনেক ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী ব্যক্তিও জড়িত। এ বিষয়টিতে তেমনভাবে নজর দেওয়া হয়নি। নদীতে ঝোপ তৈরি করে মাছ শিকারের কারণে নদী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঝোপের মাধ্যমে মাছ শিকারের কারণে জীববৈচিত্র্য ও নৌ-চলাচল ব্যাহত হয়। প্রশাসন যদি এ বিষয়টি আমলে নেয় তাহলে উচ্ছেদ করা যেতে পারে।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান একটি সভায় নদী দখল মুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তার অংশ হিসেবে আমরা অভিযান শুরু করেছি। আমাদের আসলে লজিস্টিক সাপোর্ট সেই পরিমাণ নেই। এসব উচ্ছেদ করার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক ও অর্থ সাপোর্ট প্রয়োজন। আমাদের শুধু উচ্ছেদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, গত বছর মেঘনা ও কালিপুরা এলাকার ভেতর দিয়ে যেই শাখা নদীটি বয়ে গেছে, সেখানে ১০৩টির মতো ঝোপ ছিল। কিন্তু বর্তমানে চলতি বছর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১০০টির মতো হবে। এ সংখ্যাটি কমে যাওয়ার কারণ হলো, স্থানীয় এলাকাবাসী ও জেলেদের এ বিষয়ে সচেতন করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, যারা এখানে ঝোপ দিয়ে মাছ শিকার করে তারা স্থানীয় কেউ নয়। অন্য এলাকা থেকে তারা জাল ও নৌকাসহ এখানে আসে। তাদের মূলত ভাড়া করা হয়ে থাকে। স্থানীয়রা এখানে বিনিয়োগ করে এবং তারা মূলত ঘেরাওয়ের কাজ করে থাকে। এরপর দুই ভাগে ভাগ হয়ে থাকে।

জেলা প্রশাসক বলেন, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন মৎস্য অফিসকে সহযোগিতা করা হবে। গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এ ব্যাপারটি দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলব।

শেয়ার বিজ নিউজ

One Response

Write a Comment»
  1. ঘের বৈধতা পাবে কি ভাবে? 😜😜😜

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.